ঢাকা , বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পটুয়াখালীর চাঞ্চল্যে: একই ঘরে দুই তরুণী, ‘বাসর’ সাজিয়ে রাতযাপন ইরান সংঘাতে জ্বালানি সংকটে বিশ্ব; আকাশচুম্বী তেলের দামে দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ ডাকসুর অনার বোর্ডে ২০১৯ সালের জিএস হিসেবে রাশেদ খাঁনের নাম মাদক উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় ভারত, তবুও যে কারণে মোদির প্রশংসায় ট্রাম্প! সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেও কেন এআই উন্নয়ন নিয়ে এতো মরিয়া ট্রাম্প? গাজায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ভবন ধসে ৮ শিশুসহ অন্তত ২১ জন নিহত জুলাই আন্দোলনে বিএনপি কর্মী হত্যা: শেখ হাসিনা-জয়সহ ১২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা মক্কা-মদিনার নিরাপত্তাকে সব রাজনৈতিক বিরোধের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে: চরমোনাই পীর ৭৮ শতাংশ নিট কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত, সংসদ-রাজপথে সরব থাকার ঘোষণা জামায়াতের জুলাই শহিদ জুবায়েরের বোনের চিকিৎসা-পরবর্তী খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

পশ্চিমবঙ্গে গোরুর মাংসে কড়াকড়ি, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন নাগরিকরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৩৪:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

এবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর কঠোর কড়াকড়ি ও সরবরাহ সংকটের কারণে বাজার থেকে গোরুর মাংস প্রায় দেখায় যাচ্ছে না। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি রাজ্য সরকার গঠন করার পরই এই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১৯৫০ সালের পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে মেনে চলার আদেশ জারি করে। এই নীতি অনুযায়ী ১৪ বছরের বেশি বয়সী, প্রজনন বা কাজের অনুপযোগী অথবা গুরুতরভাবে পঙ্গু পশু ছাড়া গোরু বা মহিষ জবাইয়ের জন্য ফিটনেস সনদ প্রদান নিষিদ্ধ করা হয় এবং কেবল নির্ধারিত কসাইখানায় জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া হয়।

কলকাতার ট্যাংরায় অবস্থিত শহরের একমাত্র পৌর কসাইখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং কসাইদের ব্যবসার লাইসেন্স নবায়ন স্থগিত থাকায় সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। মেয়র ফরহাদ হাকিমের পদত্যাগের পর পৌরসভা ভেঙে দেওয়া এবং আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচনের দিন ধার্য থাকায় লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া পুরোপুরি থমকে গেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় কলকাতায় গোরুর মাংসের দাম কেজিতে ২০০২৫০ রুপি থেকে বেড়ে ৩৫০৫০০ রুপিতে পৌঁছেছে, অন্যদিকে এক প্লেট ভুনা মাংসের দাম ১০০ থেকে বেড়ে ১২০ রুপি হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ব্যবসা ৫০ শতাংশের বেশি কমে গেছে এবং নিরাপত্তার ভয়ে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে এই মাংস খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন।

আইনের কঠোর প্রয়োগের কারণে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁ অলি পাব ও জাম জামসহ বহু প্রতিষ্ঠান তাদের খাদ্য তালিকা থেকে গোরুর মাংসের পদ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। এমনকি অনেক মাংস ব্যবসায়ী ও খামারি লোকসান সামলাতে কম দামে গবাদিপশু বিক্রি করে ছাগলের ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর কিংবা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালদার মতো জেলাগুলোতে কড়াকড়ির কারণে এখন রাতে গোপনে ও গোপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গোরুর মাংস সরবরাহ করা হচ্ছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের ১০ দশমিক ৪ শতাংশ গ্রামীণ এবং ৭ দশমিক ৯ শতাংশ শহুরে পরিবার গোরুর মাংস গ্রহণ করত, যার মধ্যে মুসলিমদের দুইতৃতীয়াংশের পাশাপাশি খ্রিস্টান, দলিত ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত ছিল। ট্যাংরা কসাইখানা ও লাইসেন্স নবায়নের বিষয়ে কলকাতা পৌরসংস্থার কমিশনার স্মিতা পান্ডে জানান, বিষয়টি প্রাণী সম্পদ বিকাশ বিভাগের আওতাধীন। তবে প্রাণী সম্পদ বিভাগের পরিচালক নিখিল কুমার শেঠ কসাইখানা পরিচালনা ও ফিটনেস সনদ প্রদানের যাবতীয় দায়িত্ব পৌরসংস্থার ওপর ন্যস্ত করেছেন। সূত্র: আল জাজিরা

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পটুয়াখালীর চাঞ্চল্যে: একই ঘরে দুই তরুণী, ‘বাসর’ সাজিয়ে রাতযাপন

পশ্চিমবঙ্গে গোরুর মাংসে কড়াকড়ি, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন নাগরিকরা

আপডেট সময় ০১:৩৪:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর কঠোর কড়াকড়ি ও সরবরাহ সংকটের কারণে বাজার থেকে গোরুর মাংস প্রায় দেখায় যাচ্ছে না। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি রাজ্য সরকার গঠন করার পরই এই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১৯৫০ সালের পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে মেনে চলার আদেশ জারি করে। এই নীতি অনুযায়ী ১৪ বছরের বেশি বয়সী, প্রজনন বা কাজের অনুপযোগী অথবা গুরুতরভাবে পঙ্গু পশু ছাড়া গোরু বা মহিষ জবাইয়ের জন্য ফিটনেস সনদ প্রদান নিষিদ্ধ করা হয় এবং কেবল নির্ধারিত কসাইখানায় জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া হয়।

কলকাতার ট্যাংরায় অবস্থিত শহরের একমাত্র পৌর কসাইখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং কসাইদের ব্যবসার লাইসেন্স নবায়ন স্থগিত থাকায় সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। মেয়র ফরহাদ হাকিমের পদত্যাগের পর পৌরসভা ভেঙে দেওয়া এবং আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচনের দিন ধার্য থাকায় লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া পুরোপুরি থমকে গেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় কলকাতায় গোরুর মাংসের দাম কেজিতে ২০০২৫০ রুপি থেকে বেড়ে ৩৫০৫০০ রুপিতে পৌঁছেছে, অন্যদিকে এক প্লেট ভুনা মাংসের দাম ১০০ থেকে বেড়ে ১২০ রুপি হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ব্যবসা ৫০ শতাংশের বেশি কমে গেছে এবং নিরাপত্তার ভয়ে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে এই মাংস খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন।

আইনের কঠোর প্রয়োগের কারণে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁ অলি পাব ও জাম জামসহ বহু প্রতিষ্ঠান তাদের খাদ্য তালিকা থেকে গোরুর মাংসের পদ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। এমনকি অনেক মাংস ব্যবসায়ী ও খামারি লোকসান সামলাতে কম দামে গবাদিপশু বিক্রি করে ছাগলের ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর কিংবা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালদার মতো জেলাগুলোতে কড়াকড়ির কারণে এখন রাতে গোপনে ও গোপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গোরুর মাংস সরবরাহ করা হচ্ছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের ১০ দশমিক ৪ শতাংশ গ্রামীণ এবং ৭ দশমিক ৯ শতাংশ শহুরে পরিবার গোরুর মাংস গ্রহণ করত, যার মধ্যে মুসলিমদের দুইতৃতীয়াংশের পাশাপাশি খ্রিস্টান, দলিত ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত ছিল। ট্যাংরা কসাইখানা ও লাইসেন্স নবায়নের বিষয়ে কলকাতা পৌরসংস্থার কমিশনার স্মিতা পান্ডে জানান, বিষয়টি প্রাণী সম্পদ বিকাশ বিভাগের আওতাধীন। তবে প্রাণী সম্পদ বিভাগের পরিচালক নিখিল কুমার শেঠ কসাইখানা পরিচালনা ও ফিটনেস সনদ প্রদানের যাবতীয় দায়িত্ব পৌরসংস্থার ওপর ন্যস্ত করেছেন। সূত্র: আল জাজিরা