রবিবার (২ আগস্ট) হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করেন। তবে তার বিরুদ্ধে আরও মামলা থাকায় আপাতত কারামুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনের বিষয়ে করা রুলের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রবিবার রুল যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে এ আদেশ দেন।
আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনকে আসামি করা হয়। পরে ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া হত্যাচেষ্টা, ভাঙচুর, হামলা ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে করা পৃথক দুই মামলায় চিন্ময়ের জামিন নিয়ে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। ২৬ জুলাই ওই রুলের ওপর শুনানি শেষে আদালত ২ আগস্ট রায়ের দিন নির্ধারণ করেছিলেন। শুনানি শেষে রবিবার আদালত রুল যথাযথ ঘোষণা করে জামিনের আদেশ দেন।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য জানান, তার বিরুদ্ধে মোট ছয়টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম ট্রাইব্যুনালে চলছে। রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় তার জামিন স্থগিত রয়েছে। অপর চার মামলার মধ্যে দুই মামলায় হাইকোর্ট জামিন দিয়েছেন। বাকি দুই মামলার জামিন আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম নিহত হন। এ ঘটনায় তার বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
এ ছাড়া ওই ঘটনার পর হত্যাচেষ্টা, হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে আরও কয়েকটি মামলা করা হয়। ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















