স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে সাঈদ ইব্রাহীম আহমেদ ঠিকাদারি নয়, ফাইন্যান্সসিয়াল কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
“গত ১০ জুন ২০২৬ ইং তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান সংসদে ঘোষণা দেন, ‘কেউ বিদেশি বিনিয়োগ আনতে পারলে তাঁকে ওই বিনিয়োগের অর্থের ওপর ১.৫০ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হবে। এই বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় কেউ যদি বাংলাদেশে FDI ( foreign direct investment) নিয়ে আসতে কনসালটেন্সি করে থাকে, সেটা কি তার অপরাধ হবে? এতোটুকু আশ্বস্ত করছি, এনসিপি বা জামায়াত-শিবিরের কোন নেতা বা কর্মী এমন বিনিয়োগ আনতে পারলে, একই সুবিধা পাবে।
কয়েকদিন ধরে এনসিপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাউদ্দিন আহমেদের ছেলে অর্থনীতি বিশ্লেষক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জনাব সাঈদ ইব্রাহীম আহমেদের প্রতিষ্ঠান Stallion Capital শরিয়তপুর থেকে চাঁদপুর এবং ভোলা থেকে বরিশাল ব্রিজের ঠিকাদারি কাজ পেতে তদবির চালাচ্ছে। আমি টকশোতেও এবিষয়ে তাদের একতরফা বক্তব্য শুনেছি। আগ্রহ ছিলো জনাব সাঈদ ইব্রাহীম আহমেদের থেকে সঠিক তথ্য জানার। তিনি আজকে তার অবস্থান পরিষ্কার করে ফেসবুক একটি পোস্ট করেছেন।
আজকে তার সাথে আলাপচারিতার প্রেক্ষিতে যে তথ্য পেয়েছি, তিনি কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত না। তিনি ইতোমধ্যে UCB Stock Brokerage- এর সাথে কাজ করেছেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি Stallion Capital গড়ে তুলেছেন। এই আর্থিক
কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) নিয়ে আসার জন্য বিভিন্ন দেশের সাথে কাজ করছে। এর ধারাবাহিকতায় জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকল্প নির্মাণে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে Stallion Capital.
দেখেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় এই ধরনের প্রকল্প ঋণের মাধ্যমে করা হতো। এতে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা সরকারের জন্য একটা বারডেন হয়ে যেতো। ফলশ্রুতিতে জনগণকে মূল্যস্ফীতির বোঝা বহন করতে হয়েছে এবং পরবর্তীতে সুদ ও ঋণ পরিশোধের পরিমাণও অনেক বেশি হয়েছে। কিন্তু FDI এর মাধ্যমে এই সমস্যাটা হয়না। বরং নির্দিষ্ট সময় পরে বাংলাদেশ উক্ত সম্পদের মালিকানা অর্জন করতে পারে।
জনাব সাঈদ ইব্রাহীম আহমেদ যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় নিয়ে কোন কাজ করতেন, তবে সেটি হতো Conflict of Interest, কিন্তু তিনি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে কনসালটেন্সি করছেন এবং বাংলাদেশ সরকারের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছেন। এই কাজটা আরও অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে করছে। আর্থিক কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই কাজে সফল হলে কমিশন পাওয়া আইনশুদ্ধ। কিন্তু মন্ত্রীর ছেলে হলে কনসালটেন্সি করা যাবে না? মেধা ও যোগ্যতা শোকেসে তুলে রাখতে হবে?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেমন আইন সংবিধান নিয়ে পারদর্শী। ঠিক তার সন্তান সাঈদ ইব্রাহীম আহমেদও Finance নিয়ে পারদর্শী। তিনি University of Toronto থেকে Mechanical Engineering গ্রাজুয়েশন করেছেন। পরবর্তীতে University of Kent থেকে Finance, Investment & Risk নিয়ে 1st Master’s এবং Imperial College London থেকে Investment Management এর উপর 2nd Master’s করেছেন! বর্তমানে তিনি AIUB তে Finance এর শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি আর্থিক কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে FDI আনার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এটা তো কোন অপরাধ নয়, বরং তিনি ঠিকাদারি করছেন বা তার প্রতিষ্ঠান ব্রীজ নির্মাণ করবে ইত্যাদি মিথ্যাচার যারা করছে, তারা অপরাধ করছে। একাডেমিক ও কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি বা কাজ করার জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজে কোন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা কোন অপরাধ নয়।”

ডেস্ক রিপোর্ট 



















