ঢাকা , সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে ৪ দফা প্রস্তাব জামায়াতের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৪২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

 

রাজধানীর মগবাজারে আজ রোববার সন্ধ্যায় আল-ফালাহ মিলনায়তনে ‘চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং জনদুর্ভোগ নিয়ে’ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দেশের চলমান বিদুৎ, জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলগুলোর কাছে যে কার্যকর পরিকল্পনা চেয়েছেন, সেই আহ্বানকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে জামায়াতে ইসলামী। তবে এ ধরনের পরিকল্পনা তিন মাস আগেই সরকারকে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তার অগ্রগতি জানতে চেয়েছে দলটি।

 

একইসঙ্গে এই সংকট সমাধানের লক্ষে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে জরুরি সংসদীয় অধিবেশন আহ্বানের যে দাবি জানানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি বলে মন্তব্য করেছে জামায়াতে ইসলামী।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, গত ২১ মে জাতীয় সংসদের জ্বালানি সংকটসংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যরা লিখিতভাবে ১০ দফা সুপারিশ জমা দিয়েছিলেন। ওই কমিটিতে বিরোধী দলের পাঁচজন সদস্য ছিলেন, যাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর তিনজন সদস্যও ছিলেন। তারা দুটি বৈঠকে অংশ নিয়েছেন, প্রশ্ন তুলেছেন এবং সংকট মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন। পরবর্তীতে ৭ জুন জ্বালানিমন্ত্রী নিজেই সেই প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন। বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমেও বিরোধী দলের সেই ১০ দফা সুপারিশ প্রকাশিত হয়েছে। সেই প্রস্তাবগুলো ছিল একেবারেই বাস্তবভিত্তিক। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে বিদ্যমান কূপে ওয়ার্কওভার, ভোলা, জামালপুর ও জকিগঞ্জের গ্যাসকে জাতীয় ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ, স্থলভাগ ও সমুদ্রভাগে অনুসন্ধান জোরদার, স্থাপিত এসপিএম দ্রুত চালু করা, ডিপো থেকে গ্রাহক পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল মনিটরিং, কার্যকর নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে রুফটপ সোলার সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা নিরূপণে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা।

 

তিনি বলেন, সুতরাং আজকের মূল প্রশ্নটি পরিকল্পনা আছে কি নেই, সেটি নয়। মূল প্রশ্ন হলো, ২১ মে থেকে সরকারের হাতে থাকা এই পরিকল্পনার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, কোন সুপারিশে কাজ শুরু হয়েছে এবং কোনগুলো এখনো কাগজেই পড়ে আছে। আজ আমরা সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর চাই এবং একই সঙ্গে দেখাতে চাই, দেশের এই সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দল শুধু সমালোচনা করেনি, বরং সময়মতো দায়িত্বশীল ও বাস্তবসম্মত বিকল্পও দিয়েছে। গত ১৪ আগস্ট জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি এ সংকট নিরসনে জাতীয় সংসদের জরুরি অধিবেশন আহ্বান করতে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিয়েছেন, যার কপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও দেওয়া হয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ৮ আগস্ট জামায়াতের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিদ্যমান সংকট নিরসনে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব-সম্বলিত বক্তব্য পেশ করেছিলাম। সেই ১০ দফায় আমরা বলেছিলাম, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে হবে। দ্রুত ফলদায়ক কূপগুলোতে ওয়ার্কওভার করতে হবে। ভোলা, জামালপুর ও জকিগঞ্জের গ্যাস অবকাঠামো উন্নত করতে হবে। স্থল ও সমুদ্রভাগে নতুন অনুসন্ধান বাড়াতে হবে। বাপেক্সের সক্ষমতা শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং দ্রুত কার্যকর করার কথা বলেছি। জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় ডিজিটাল পর্যবেক্ষণের কথা বলেছি। সৌরবিদ্যুৎ বাড়ানোর কথা বলেছি। ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা নির্ধারণে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সমীক্ষার প্রস্তাব দিয়েছি।

 

তাই আজ আমাদের প্রশ্ন খুবই সরল। পরিকল্পনা যখন ২১ মে থেকেই সরকারের কাছে আছে, তাহলে গত প্রায় তিন মাসে সেই পরিকল্পনার কোনটি বাস্তবায়িত হয়েছে? কোনটির কাজ শুরু হয়েছে? কোনটি গ্রহণ করা হয়নি? আর গ্রহণ করা না হলে কেন হয়নি? আমরা নতুন কোনো কাগজ জমা দেওয়ার প্রতিযোগিতা চাই না। আমরা ইতোমধ্যে জমা দেওয়া পরিকল্পনার বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

 

গোলাম পরওয়ার বলেন, হারিকেনের সামনে ফ্যান চলার ছবি দিয়ে দেশের জ্বালানি সংকটের বাস্তবতা খণ্ডন করা যায় না। প্রধানমন্ত্রী একটি প্রতিবাদের ছবি নিয়ে কথা বলেছেন। সামনে হারিকেন, পেছনে ফ্যান, এটিকে তিনি হঠকারিতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আমরা মনে করি, একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে একটি জায়গায় ফ্যান চলছিল কি চলছিল না—এটি দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মূল্যায়নের মানদণ্ড হতে পারে না। হারিকেন একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রতীক হতে পারে। তার জবাব হওয়া উচিত তথ্য দিয়ে।

 

তিনি বলেন, দেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। জুলাইয়ে একটি এফএসআরইউ বন্ধ হওয়ার পর দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের আগের নথিতে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এবং সরবরাহ প্রায় ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। অতএব একজন মানুষ যখন গ্যাস চান, তিনি অরাজকতা চান না। একজন শ্রমিক যখন কারখানা চালু রাখার দাবি করেন, তিনি ষড়যন্ত্র করেন না। একজন উদ্যোক্তা যখন নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি চান, তিনি সরকারের শত্রু নন। মানুষ চুলায় গ্যাস চায়, কারখানায় উৎপাদন চায়, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চায়। এ দাবির জবাব রাজনৈতিক ব্যঙ্গ দিয়ে নয়, কার্যকর সমাধান দিয়ে দেওয়া উচিত।

 

এসময় চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে চার দফা প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একইসঙ্গে তা বাস্তবায়নের অগ্রগতি ৯০ দিনের মধ্যে জাতির সামনে তুলে ধরারও আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে ৪ দফা প্রস্তাব জামায়াতের

আপডেট সময় ১১:৪২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

 

রাজধানীর মগবাজারে আজ রোববার সন্ধ্যায় আল-ফালাহ মিলনায়তনে ‘চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং জনদুর্ভোগ নিয়ে’ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দেশের চলমান বিদুৎ, জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলগুলোর কাছে যে কার্যকর পরিকল্পনা চেয়েছেন, সেই আহ্বানকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে জামায়াতে ইসলামী। তবে এ ধরনের পরিকল্পনা তিন মাস আগেই সরকারকে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তার অগ্রগতি জানতে চেয়েছে দলটি।

 

একইসঙ্গে এই সংকট সমাধানের লক্ষে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে জরুরি সংসদীয় অধিবেশন আহ্বানের যে দাবি জানানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি বলে মন্তব্য করেছে জামায়াতে ইসলামী।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, গত ২১ মে জাতীয় সংসদের জ্বালানি সংকটসংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যরা লিখিতভাবে ১০ দফা সুপারিশ জমা দিয়েছিলেন। ওই কমিটিতে বিরোধী দলের পাঁচজন সদস্য ছিলেন, যাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর তিনজন সদস্যও ছিলেন। তারা দুটি বৈঠকে অংশ নিয়েছেন, প্রশ্ন তুলেছেন এবং সংকট মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন। পরবর্তীতে ৭ জুন জ্বালানিমন্ত্রী নিজেই সেই প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন। বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমেও বিরোধী দলের সেই ১০ দফা সুপারিশ প্রকাশিত হয়েছে। সেই প্রস্তাবগুলো ছিল একেবারেই বাস্তবভিত্তিক। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে বিদ্যমান কূপে ওয়ার্কওভার, ভোলা, জামালপুর ও জকিগঞ্জের গ্যাসকে জাতীয় ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ, স্থলভাগ ও সমুদ্রভাগে অনুসন্ধান জোরদার, স্থাপিত এসপিএম দ্রুত চালু করা, ডিপো থেকে গ্রাহক পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল মনিটরিং, কার্যকর নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে রুফটপ সোলার সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা নিরূপণে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা।

 

তিনি বলেন, সুতরাং আজকের মূল প্রশ্নটি পরিকল্পনা আছে কি নেই, সেটি নয়। মূল প্রশ্ন হলো, ২১ মে থেকে সরকারের হাতে থাকা এই পরিকল্পনার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, কোন সুপারিশে কাজ শুরু হয়েছে এবং কোনগুলো এখনো কাগজেই পড়ে আছে। আজ আমরা সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর চাই এবং একই সঙ্গে দেখাতে চাই, দেশের এই সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দল শুধু সমালোচনা করেনি, বরং সময়মতো দায়িত্বশীল ও বাস্তবসম্মত বিকল্পও দিয়েছে। গত ১৪ আগস্ট জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি এ সংকট নিরসনে জাতীয় সংসদের জরুরি অধিবেশন আহ্বান করতে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিয়েছেন, যার কপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও দেওয়া হয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ৮ আগস্ট জামায়াতের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিদ্যমান সংকট নিরসনে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব-সম্বলিত বক্তব্য পেশ করেছিলাম। সেই ১০ দফায় আমরা বলেছিলাম, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে হবে। দ্রুত ফলদায়ক কূপগুলোতে ওয়ার্কওভার করতে হবে। ভোলা, জামালপুর ও জকিগঞ্জের গ্যাস অবকাঠামো উন্নত করতে হবে। স্থল ও সমুদ্রভাগে নতুন অনুসন্ধান বাড়াতে হবে। বাপেক্সের সক্ষমতা শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং দ্রুত কার্যকর করার কথা বলেছি। জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় ডিজিটাল পর্যবেক্ষণের কথা বলেছি। সৌরবিদ্যুৎ বাড়ানোর কথা বলেছি। ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা নির্ধারণে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সমীক্ষার প্রস্তাব দিয়েছি।

 

তাই আজ আমাদের প্রশ্ন খুবই সরল। পরিকল্পনা যখন ২১ মে থেকেই সরকারের কাছে আছে, তাহলে গত প্রায় তিন মাসে সেই পরিকল্পনার কোনটি বাস্তবায়িত হয়েছে? কোনটির কাজ শুরু হয়েছে? কোনটি গ্রহণ করা হয়নি? আর গ্রহণ করা না হলে কেন হয়নি? আমরা নতুন কোনো কাগজ জমা দেওয়ার প্রতিযোগিতা চাই না। আমরা ইতোমধ্যে জমা দেওয়া পরিকল্পনার বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

 

গোলাম পরওয়ার বলেন, হারিকেনের সামনে ফ্যান চলার ছবি দিয়ে দেশের জ্বালানি সংকটের বাস্তবতা খণ্ডন করা যায় না। প্রধানমন্ত্রী একটি প্রতিবাদের ছবি নিয়ে কথা বলেছেন। সামনে হারিকেন, পেছনে ফ্যান, এটিকে তিনি হঠকারিতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আমরা মনে করি, একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে একটি জায়গায় ফ্যান চলছিল কি চলছিল না—এটি দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মূল্যায়নের মানদণ্ড হতে পারে না। হারিকেন একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রতীক হতে পারে। তার জবাব হওয়া উচিত তথ্য দিয়ে।

 

তিনি বলেন, দেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। জুলাইয়ে একটি এফএসআরইউ বন্ধ হওয়ার পর দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের আগের নথিতে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এবং সরবরাহ প্রায় ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। অতএব একজন মানুষ যখন গ্যাস চান, তিনি অরাজকতা চান না। একজন শ্রমিক যখন কারখানা চালু রাখার দাবি করেন, তিনি ষড়যন্ত্র করেন না। একজন উদ্যোক্তা যখন নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি চান, তিনি সরকারের শত্রু নন। মানুষ চুলায় গ্যাস চায়, কারখানায় উৎপাদন চায়, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চায়। এ দাবির জবাব রাজনৈতিক ব্যঙ্গ দিয়ে নয়, কার্যকর সমাধান দিয়ে দেওয়া উচিত।

 

এসময় চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে চার দফা প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একইসঙ্গে তা বাস্তবায়নের অগ্রগতি ৯০ দিনের মধ্যে জাতির সামনে তুলে ধরারও আহ্বান জানিয়েছে দলটি।