ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মহড়া: সেই বাপ্পিকে ছেড়ে দেওয়ায় থানা ঘেরাও, সড়ক অবরোধ রাজশাহীতে চলন্ত ট্রেন থেকে তেল চুরি, তদন্ত কমিটি গঠন ঢাবি প্রশাসনের তদন্ত কমিটি মানে একটা মুলা ঝুলানো: সাদিক কায়েম নারীদের পিংক বাসে ভাড়া কত, টিকিট কাটবেন কীভাবে? নরসিংদীর রায়পুরায় চেয়ারম্যান গ্রেফতারের পর সংঘর্ষ, আহত ১৫ বিএনপি নেতা-কর্মী তারেক রহমানের সফরের জন্য এখনও অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ভারত: ভারতীয় হাইকমিশনার খদরে খাসি না থাকায় বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার দাবি কনে পক্ষের, বর বলছেন কাবিন নিয়ে বিরোধ; প্রমাণ হিসেবে ফর্দনামা প্রকাশ কনে পক্ষের দাবি-দাওয়া নিয়ে ঘেরাও না হোক; স্মারকলিপি দিয়ে চা খেয়ে যান, বললেন আইনমন্ত্রী যুবদল নেতার বিরুদ্ধে গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ ঢাবি প্রশাসনের তদন্ত কমিটি মানে একটা মুলা ঝুলানো: সাদিক কায়েম

দাবি-দাওয়া নিয়ে ঘেরাও না হোক; স্মারকলিপি দিয়ে চা খেয়ে যান, বললেন আইনমন্ত্রী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৪৬:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবনে আইনজীবীদের জন্য একটি বেসরকারি ব্যাংকের উপশাখার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বললেন, বার কাউন্সিলের নেতা যারা আছেন তাদের কাছে প্রত্যাশা করবো, আপনারা আমাকে ঘেরাও করতে সাহস না করেন। অ্যাটলিস্ট এসে কাপ চা খেয়ে স্মারকলিপিটা দিয়ে দেন। চা খাওয়া যাবে। কিন্তু এই উদ্যোগ আপনাদের নিতে হবে। আপনাদের একটু না দৌড়ালে এটা হবে না।’

 

 

আইনজীবীদের পেশাগত মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা যদি আমরা পাই, আমরা ৮০ হাজার লইয়ারকে পর্যায়ক্রমিকভাবে ট্রেনিংয়ের আওতায় আনতে চাই।’

 

আইন পেশায় দক্ষতা বাড়াতে পেশাগত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমানে শর্টকাটে অনেকেই আইনজীবী হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু পেশাগত প্রশিক্ষণের অভাবে দক্ষ আইনজীবী গড়ে উঠছে না। তিনি বলেন, ‘কারণ এটা একমাত্র প্রফেশন যাদের কোনও ট্রেনিং হয় না। আপনি চাকরিতে ঢুকেন, সরকারি চাকরিজীবীদের ট্রেনিং হচ্ছে। জজদের ট্রেনিং নিতে হচ্ছে। সবার ট্রেনিং আছে। কিন্তু লইয়াররা হলো মুরগির বাচ্চার মতো।’

 

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দেখবেন গ্রামে যারা আমাদের মতো গ্রাম থেকে আমরা উঠে এসেছি। কাদামাটির গন্ধ আমাদের গায়ে লেগে আছে, তারা জানি। তা দিয়ে মুরগি যখন বাচ্চা ফুটাই, বাচ্চা ফুটানোর পরে বাচ্চাগুলো হাঁটা শুরু করে। তারপর মা যায় ধানটা, কুড়াটা এগুলো খেতে। বাচ্চাগুলো তার সঙ্গে কিন্তু খেতে খেতে আগায়। এবং এরকম করতে করতে ওই বাচ্চাটা বড় হয়ে যায়।’

 

আইনজীবীদের পেশাগত প্রশিক্ষণের অভাব বোঝাতে তিনি বলেন, ‘আমাদের লয়াররা সার্টিফিকেট পাওয়ার পরে কোর্ট-কাছারিতে সিনিয়রের পিছনে কালো কোট করে দৌড়াইতে দৌড়াইতে একদিন সেই সিনিয়র হয়ে যায়। এর মাঝামাঝি তার আর কোনও ট্রেনিংয়ের কোনও ব্যবস্থা নাই।’

 

আইনমন্ত্রী বলেন, সুপ্রিম কোর্টে প্রায় ১৭ হাজার আইনজীবী থাকলেও চূড়ান্ত শুনানি করার মতো আইনজীবী পর্যাপ্ত সংখ্যায় তৈরি করা যাচ্ছে না। আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

তিনি বলেন, নিজেদের সমৃদ্ধ, প্রস্তুত ও প্রশিক্ষিত করার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বার কাউন্সিলের যে প্রশিক্ষণব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, বিগত বছরগুলোতে তা করা সম্ভব হয়নি। তাই বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের আইন পেশাকেও ঢেলে সাজাতে চান বলে জানান তিনি।

 

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের মাধ্যমে আইন পেশাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে হলে যা করা সম্ভব, তারা সেটা করতে চান। তবে এ জন্য বার কাউন্সিলের সদস্য ও আইনজীবীদেরও দায়িত্ব রয়েছে-যোগ করেন তিনি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মহড়া: সেই বাপ্পিকে ছেড়ে দেওয়ায় থানা ঘেরাও, সড়ক অবরোধ

দাবি-দাওয়া নিয়ে ঘেরাও না হোক; স্মারকলিপি দিয়ে চা খেয়ে যান, বললেন আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৯:৪৬:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবনে আইনজীবীদের জন্য একটি বেসরকারি ব্যাংকের উপশাখার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বললেন, বার কাউন্সিলের নেতা যারা আছেন তাদের কাছে প্রত্যাশা করবো, আপনারা আমাকে ঘেরাও করতে সাহস না করেন। অ্যাটলিস্ট এসে কাপ চা খেয়ে স্মারকলিপিটা দিয়ে দেন। চা খাওয়া যাবে। কিন্তু এই উদ্যোগ আপনাদের নিতে হবে। আপনাদের একটু না দৌড়ালে এটা হবে না।’

 

 

আইনজীবীদের পেশাগত মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা যদি আমরা পাই, আমরা ৮০ হাজার লইয়ারকে পর্যায়ক্রমিকভাবে ট্রেনিংয়ের আওতায় আনতে চাই।’

 

আইন পেশায় দক্ষতা বাড়াতে পেশাগত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমানে শর্টকাটে অনেকেই আইনজীবী হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু পেশাগত প্রশিক্ষণের অভাবে দক্ষ আইনজীবী গড়ে উঠছে না। তিনি বলেন, ‘কারণ এটা একমাত্র প্রফেশন যাদের কোনও ট্রেনিং হয় না। আপনি চাকরিতে ঢুকেন, সরকারি চাকরিজীবীদের ট্রেনিং হচ্ছে। জজদের ট্রেনিং নিতে হচ্ছে। সবার ট্রেনিং আছে। কিন্তু লইয়াররা হলো মুরগির বাচ্চার মতো।’

 

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দেখবেন গ্রামে যারা আমাদের মতো গ্রাম থেকে আমরা উঠে এসেছি। কাদামাটির গন্ধ আমাদের গায়ে লেগে আছে, তারা জানি। তা দিয়ে মুরগি যখন বাচ্চা ফুটাই, বাচ্চা ফুটানোর পরে বাচ্চাগুলো হাঁটা শুরু করে। তারপর মা যায় ধানটা, কুড়াটা এগুলো খেতে। বাচ্চাগুলো তার সঙ্গে কিন্তু খেতে খেতে আগায়। এবং এরকম করতে করতে ওই বাচ্চাটা বড় হয়ে যায়।’

 

আইনজীবীদের পেশাগত প্রশিক্ষণের অভাব বোঝাতে তিনি বলেন, ‘আমাদের লয়াররা সার্টিফিকেট পাওয়ার পরে কোর্ট-কাছারিতে সিনিয়রের পিছনে কালো কোট করে দৌড়াইতে দৌড়াইতে একদিন সেই সিনিয়র হয়ে যায়। এর মাঝামাঝি তার আর কোনও ট্রেনিংয়ের কোনও ব্যবস্থা নাই।’

 

আইনমন্ত্রী বলেন, সুপ্রিম কোর্টে প্রায় ১৭ হাজার আইনজীবী থাকলেও চূড়ান্ত শুনানি করার মতো আইনজীবী পর্যাপ্ত সংখ্যায় তৈরি করা যাচ্ছে না। আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

তিনি বলেন, নিজেদের সমৃদ্ধ, প্রস্তুত ও প্রশিক্ষিত করার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বার কাউন্সিলের যে প্রশিক্ষণব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, বিগত বছরগুলোতে তা করা সম্ভব হয়নি। তাই বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের আইন পেশাকেও ঢেলে সাজাতে চান বলে জানান তিনি।

 

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের মাধ্যমে আইন পেশাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে হলে যা করা সম্ভব, তারা সেটা করতে চান। তবে এ জন্য বার কাউন্সিলের সদস্য ও আইনজীবীদেরও দায়িত্ব রয়েছে-যোগ করেন তিনি।