ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে না: নাহিদ ইসলাম সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ বাউফলের কৃতি সন্তান বিশ্বজয়ী হাফেজ জাকারিয়াকে ড. মাসুদ এমপির অভিনন্দন রোহিঙ্গারা পরিবেশ ধ্বং’স, মা/দ/ক চোরাচালানসহ নানা অপ’ক’র্মে জড়িত: সেনাপ্রধান এটি চালু হলেই শুরু হয় বিশ্বযুদ্ধ, আবার সচল সেই খনি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের অপেক্ষায় দিল্লি: দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ২০ কর্মকর্তা নিয়ে বৈঠকে ইসি নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল ১৭ বছরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যেভাবে ধ্বংস হয়েছে, তার মধ্যে পুলিশ ছিল এক নম্বরে: ডিআইজি প্যারোলে মুক্তি পেয়ে স্বামীকে শেষ বিদায় জানালেন দীপু মনি

অন্যের ক্ষুধার্ত বাচ্চাকে স্তন্যপান করিয়ে আলোচনায় মন্ত্রী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০০:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

মাতৃত্বের অনুভূতি কোনো পদ বা মর্যাদার ফ্রেমে বাঁধা থাকে নাসেই সত্যকেই নতুন করে মনে করিয়ে দিলেন নেপালের মহিলা, শিশু ও প্রবীণ নাগরিক বিষয়ক মন্ত্রী সীতা বাদি। রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি শিশু হোম পরিদর্শনের সময় ১৭ দিন বয়সী এক ক্ষুধার্ত শিশুর কান্না শুনে তাকে কোলে তুলে স্তন্যপান করান তিনি। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশংসায় ভাসছেন এই মন্ত্রী। সম্প্রতি শিশু হোমটির অব্যবস্থাপনা, নোংরা পরিবেশ এবং বৃষ্টির পানিতে শিশুদের দুর্ভোগের খবর পেয়ে সেখানে পরিদর্শনে যান সীতা বাদি। হোমটিতে বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুদের রাখা হয়। সেখানে থাকা অনেক শিশুই নানা রোগে আক্রান্ত বলে জানা গেছে।

পরিদর্শনের সময় ১৭ দিন বয়সী একটি শিশুকন্যা ক্ষুধায় একটানা কাঁদছিল। হোমে তখন বিকল্প দুধের ব্যবস্থা না থাকায় শিশুটিকে শান্ত করতে এগিয়ে যান মন্ত্রী। তিনি নোংরা বিছানায় বসেই শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে স্তন্যপান করান। মায়ের স্পর্শ পেয়ে শিশুটি ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে যায় এবং একপর্যায়ে মন্ত্রীর কোলেই ঘুমিয়ে পড়ে। পরে সীতা বাদি জানান, শিশুটিকে কোলে নেওয়ার পর তার নিজের সন্তানের মতোই মনে হয়েছে। তিনি শিশুটির দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানান।

সীতা বাদির নিজের জীবনেও শিশু হোমের স্মৃতি রয়েছে। তিনিও একসময় এমন একটি হোমে বেড়ে উঠেছেন। ১২ বছর বয়স পর্যন্ত হোমে থেকে পড়াশোনা করে পরবর্তী সময়ে দেশটির মন্ত্রীর দায়িত্বে পৌঁছান তিনি। শিশু হোম পরিদর্শনের পর সেখানে থাকা ১৫ দিন থেকে দুই বছর বয়সী অন্তত ২০টি শিশুর সার্বিক যত্ন নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন সীতা বাদি। পাশাপাশি হোমটির পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা নতুন করে সাজানোরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

পদমর্যাদা ও আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে অসহায় একটি শিশুর প্রতি মন্ত্রীর এমন মানবিক আচরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই ঘটনাটিকে মাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও মানবিকতার অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে না: নাহিদ ইসলাম

অন্যের ক্ষুধার্ত বাচ্চাকে স্তন্যপান করিয়ে আলোচনায় মন্ত্রী

আপডেট সময় ১১:০০:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

মাতৃত্বের অনুভূতি কোনো পদ বা মর্যাদার ফ্রেমে বাঁধা থাকে নাসেই সত্যকেই নতুন করে মনে করিয়ে দিলেন নেপালের মহিলা, শিশু ও প্রবীণ নাগরিক বিষয়ক মন্ত্রী সীতা বাদি। রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি শিশু হোম পরিদর্শনের সময় ১৭ দিন বয়সী এক ক্ষুধার্ত শিশুর কান্না শুনে তাকে কোলে তুলে স্তন্যপান করান তিনি। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশংসায় ভাসছেন এই মন্ত্রী। সম্প্রতি শিশু হোমটির অব্যবস্থাপনা, নোংরা পরিবেশ এবং বৃষ্টির পানিতে শিশুদের দুর্ভোগের খবর পেয়ে সেখানে পরিদর্শনে যান সীতা বাদি। হোমটিতে বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুদের রাখা হয়। সেখানে থাকা অনেক শিশুই নানা রোগে আক্রান্ত বলে জানা গেছে।

পরিদর্শনের সময় ১৭ দিন বয়সী একটি শিশুকন্যা ক্ষুধায় একটানা কাঁদছিল। হোমে তখন বিকল্প দুধের ব্যবস্থা না থাকায় শিশুটিকে শান্ত করতে এগিয়ে যান মন্ত্রী। তিনি নোংরা বিছানায় বসেই শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে স্তন্যপান করান। মায়ের স্পর্শ পেয়ে শিশুটি ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে যায় এবং একপর্যায়ে মন্ত্রীর কোলেই ঘুমিয়ে পড়ে। পরে সীতা বাদি জানান, শিশুটিকে কোলে নেওয়ার পর তার নিজের সন্তানের মতোই মনে হয়েছে। তিনি শিশুটির দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানান।

সীতা বাদির নিজের জীবনেও শিশু হোমের স্মৃতি রয়েছে। তিনিও একসময় এমন একটি হোমে বেড়ে উঠেছেন। ১২ বছর বয়স পর্যন্ত হোমে থেকে পড়াশোনা করে পরবর্তী সময়ে দেশটির মন্ত্রীর দায়িত্বে পৌঁছান তিনি। শিশু হোম পরিদর্শনের পর সেখানে থাকা ১৫ দিন থেকে দুই বছর বয়সী অন্তত ২০টি শিশুর সার্বিক যত্ন নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন সীতা বাদি। পাশাপাশি হোমটির পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা নতুন করে সাজানোরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

পদমর্যাদা ও আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে অসহায় একটি শিশুর প্রতি মন্ত্রীর এমন মানবিক আচরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই ঘটনাটিকে মাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও মানবিকতার অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।