মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধ আরও জোরদার হলে ইউরোপে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলার পরিকল্পনা করছে ইরান—এমন দাবি করা হয়েছে এক প্রতিবেদনে।
বুধবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বরাতে জানা যায়, তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্র থেকে সম্ভাব্য এই পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে বুলগেরিয়ার বিজমার বিমানঘাঁটি। গত মাসে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমানের জন্য ঘাঁটিটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের আক্রোতিরি ঘাঁটিতেও ফের হামলার পরিকল্পনা থাকতে পারে। গত মার্চে এই ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ইরান দক্ষিণ ইউরোপের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালাতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপের পানির নিচে থাকা ফাইবার-অপটিক কেবল লক্ষ্য করে নাশকতার বিষয়টিও ইরানের সামরিক পরিকল্পনায় রয়েছে বলে সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।
ইরানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ নিলে আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও হামলা চালাতে পারে।
এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং শান্তি আলোচনা থেমে যাওয়ায় নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপের দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও দূরপাল্লার হামলায় নির্ভুলতা ও আঘাতের সক্ষমতা কিছুটা কমে যেতে পারে।
এর আগে ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত মার্কিন-যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলা ব্যর্থ হলেও সাইপ্রাসের আক্রোতিরি ঘাঁটিতে হামলা সফল হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনার বিষয়টি নিয়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দিয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























