ঢাকা , শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রাজধানীতে একদিনে সাত এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব পারমাণবিক পরিবারে প্রবেশ করল বাংলাদেশ ৩৩ মাস পর ভারতীয় কারাগার থেকে দেশে ফিরলেন ৩ বাংলাদেশি সিরাজগঞ্জে বিএনপি নেতার বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন বিএনপি নেতা বাচ্চু রাজধানীর ৮ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ উনি যে জেলায় যান সে জেলাতেই বিয়ে করেন: সাবেক ওসির ষষ্ঠ স্ত্রী সরকারি জমিতে গণঅধিকারের অফিস নির্মাণে বাধা, সংঘর্ষে ১৫ জন আহত রাজধানীর ৪ স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, বাদ যায়নি থানা এলাকাও বাংলাদেশসহ প্রত্যেককে ১২৩ কোটি টাকা করে দেওয়ার দাবিতে ইনফান্তিনোকে চিঠি ইয়েমেন যুদ্ধে ‘ধরাশায়ী’, ৪ দেশের কাছে ‘ভাড়ায়’ সৈন্য চায় সৌদি

শুধু পদ নয়, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির হাতে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষমতা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৩১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ১০০ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে বাংলাদেশে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদকক্ষে ভোট দেবেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত, তাহলে এই পদটি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতি অধিকাংশ দায়িত্বই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী পালন করেন। সংসদ আহ্বান, বিলে সম্মতি, জরুরি অবস্থা ঘোষণা, রাষ্ট্রদূত নিয়োগ কিংবা ক্ষমা প্রদর্শনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতাও রয়েছে রাষ্ট্রপতির হাতে।

স্বাভাবিক সময়ে এসব ক্ষমতার প্রয়োগ সীমিত থাকলেও রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক সংকটে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশের ইতিহাসেও এর একাধিক উদাহরণ রয়েছে।

স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রপতি শাসন ও সংসদীয়—দুই ধরনের ব্যবস্থাই দেখেছে বাংলাদেশ। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল রাষ্ট্রপতির পদ। ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা অনেকটাই আনুষ্ঠানিক হয়ে যায়।

তবে ১৯৯৬ সালের সেনা-সংকট, ২০০২ সালে রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগ এবং ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকটে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের ভূমিকা দেখিয়েছে—বিশেষ পরিস্থিতিতে বঙ্গভবনের ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির প্রভাব শুধু সংবিধানে নির্ধারিত ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না। ব্যক্তি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্যও তার ভূমিকা নির্ধারণ করে।

তাই ৩৫ বছর পরের এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে শুধু কে বঙ্গভবনে যাচ্ছেন, তা নয়—ভবিষ্যতের সংকটে তিনি কীভাবে সাংবিধানিক ভূমিকা পালন করবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে একদিনে সাত এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন

শুধু পদ নয়, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির হাতে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষমতা

আপডেট সময় ০১:৩১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে বাংলাদেশে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদকক্ষে ভোট দেবেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত, তাহলে এই পদটি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতি অধিকাংশ দায়িত্বই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী পালন করেন। সংসদ আহ্বান, বিলে সম্মতি, জরুরি অবস্থা ঘোষণা, রাষ্ট্রদূত নিয়োগ কিংবা ক্ষমা প্রদর্শনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতাও রয়েছে রাষ্ট্রপতির হাতে।

স্বাভাবিক সময়ে এসব ক্ষমতার প্রয়োগ সীমিত থাকলেও রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক সংকটে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশের ইতিহাসেও এর একাধিক উদাহরণ রয়েছে।

স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রপতি শাসন ও সংসদীয়—দুই ধরনের ব্যবস্থাই দেখেছে বাংলাদেশ। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল রাষ্ট্রপতির পদ। ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা অনেকটাই আনুষ্ঠানিক হয়ে যায়।

তবে ১৯৯৬ সালের সেনা-সংকট, ২০০২ সালে রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগ এবং ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকটে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের ভূমিকা দেখিয়েছে—বিশেষ পরিস্থিতিতে বঙ্গভবনের ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির প্রভাব শুধু সংবিধানে নির্ধারিত ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না। ব্যক্তি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্যও তার ভূমিকা নির্ধারণ করে।

তাই ৩৫ বছর পরের এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে শুধু কে বঙ্গভবনে যাচ্ছেন, তা নয়—ভবিষ্যতের সংকটে তিনি কীভাবে সাংবিধানিক ভূমিকা পালন করবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।