প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর আরও একমাস আগেই মন্ত্রিত্ব থেকে বাদ পড়ার কথা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও বিএনপির সাবেক এবং জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান নেতা ড. ফয়জুল হক। বিএনপির ঘনিষ্ঠ জায়গা থেকেই এই তথ্য তিনি পেয়েছেন বলে তার দাবি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এমন কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান অযোগ্য মন্ত্রীদের সরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন।
পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে পথে চাটাচাটি করে সচিব পদ ভাগিয়ে নিয়েছেন, ঠিক সেই পথটি এখন বেছে নিতে হয়েছে ভিপি নুরুল হক নূরকে। ভিপি নূরের সিদ্ধান্ত একটি, আর তা হলো—যে কোনো মূল্যে মন্ত্রিত্ব টিকিয়ে রেখে অবৈধ পথে আয়-বাণিজ্য বাড়িয়ে নেওয়া। এই পাঁচ বছর অন্তত তার মন্ত্রিত্ব যেন না যায়, সে জন্য যা যা দরকার, সে তা করবেই।
‘মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি’ বাগধারাটি উল্লেখ করে পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, কথাটিকে কাজে লাগিয়ে বিএনপির চেয়েও ১০০ গুণ বেশি স্পিডে জামাত-শিবিরের বিরোধিতা শুরু করেছে সে। আজ তো দেখলাম, তাকে শেখ হাসিনার মতো করে জামাত-শিবির নিষিদ্ধের দাবি তুলতে। নুরুল হক নূর জামাত-শিবিরকে নির্দ্বিধায় ধর্ষক, খুনি, হত্যাকারী ও নির্যাতনকারী আখ্যা দিলেন। এমনকি ‘২৪-এর গণহত্যায়ও নাকি জামাত-শিবির জড়িত’ বলে মন্তব্য করেন নূর!
ড. ফয়জুল হক লেখেন, শেখ হাসিনা যে কারণে জামাত-শিবির নিষিদ্ধ করেছিল, ঠিক একই কারণে বিএনপির কাছে জামাত-শিবির নিষিদ্ধের দাবি তুলেছেন নুরুল হক নূর। কোনো অসভ্য, ইতর, অমানুষ ছাড়া এই দাবি কেউ কখনো তুলতে পারে না।
নামী এই রাজনীতিবিদ বর্তমান বাংলাদেশের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে যা হচ্ছে, তা সভ্যদের সঙ্গে অসভ্যদের লড়াই ছাড়া আর কিছু নয়। চরম ইতর টাইপের কিছু মানুষকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ জায়গায় পদায়ন করে ভালো মানুষদের চরিত্র হননের ষড়যন্ত্র চলছে, ঠিক বিগত সরকারের মতোই।
তিনি স্মৃতিচারণ করে পোস্টে আরও বলেন, আমি যখন তুরস্ক এবং মালয়েশিয়ায় অবস্থান করেছিলাম, তখন নূর-রাশেদদেরকে ভালো ছেলে হিসেবে মনে হয়েছিল। বেশ কিছু জায়গায় তাদের সমর্থন করে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়েছিলাম। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সরাসরি তাদেরকে যখন দেখতে পাই, মনে হয়েছে—ক্ষমতার লোভ এবং যে কোনো মূল্যে ক্ষমতার ভাগ হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করাই এদের উদ্দেশ্য।
রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতে পারে, যার যার দল সে করতেই পারে। এগুলোকে আমি সম্মান জানাই, জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তবে এই মুহূর্তে যা হচ্ছে, এটা কোনো রাজনৈতিক শিষ্টাচার নয়; বরং নিজের পেট ঠান্ডার জন্য দেশ, জাতি ও মানুষকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেওয়া।
নুরুল হক নুর সম্পর্কে সাবেক এই বিএনপি নেতা আরও বলেন, যে মানুষটি শিবিরের ভোটে ভিপি হয়, যে মানুষটি আওয়ামী লীগের সময় জামাত-শিবিরের টাকায় সংসার চালায়, দল চালায়, ঠিক সেই মানুষটি এখন দেশের টাকা লুটেপুটে খাওয়ার জন্য ঠিক ফ্যাসিবাদের মতোই আচরণ করছে। ফ্যাসিবাদের বক্তব্যগুলোই নূরকে দিয়ে কেউ না কেউ বলাচ্ছে। তাদের কাছে এই মুহূর্তে দেশ গড়ার চিন্তা নেই; বরং নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই এদের মূল উদ্দেশ্য।
চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, লিখে রাখুন, বিএনপির দুর্দিনে নূর-রাশেদকে পাবেন না বিএনপির পাশে। সময় বদলালে ওদের আওয়ামী লীগ হতেও সময় লাগবে না। অন্যদিকে, জেনেটিক্যালি তো মিল রয়েছেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















