জাহিদ শিকদার, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কিস্তিতে পণ্য কেনা এক গ্রাহকের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। ‘কিস্তি ক্রেতা ও পরিবার সুরক্ষা নীতি’র আওতায় মৃত গ্রাহকের অবশিষ্ট কিস্তির সম্পূর্ণ অর্থ মওকুফের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের হাতে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা তুলে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সোমবার সকাল ১০টায় কলাপাড়া পৌর শহরের কুমারপট্টি এলাকায় অবস্থিত ওয়ালটন প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মৃত গ্রাহক কৃষক আব্দুস সালাম মিয়ার স্ত্রী রেহেনা বেগমের ও তার ছেলে মো: সুজন এর হাতে এই আর্থিক সহায়তার অর্থ তুলে দেন ওয়ালটন প্লাজার কর্মকর্তারা।
ওয়ালটন প্লাজা সূত্রে জানা যায়, টিয়াখালী ইউপির পূর্ব বাদুরতলী এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম মিয়া কিস্তিতে ওয়ালটনের একটি ফ্রিজ ক্রয় করেছিলেন। কিস্তি পরিশোধ চলমান অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরে প্রতিষ্ঠানের ‘কিস্তি ক্রেতা ও পরিবার সুরক্ষা নীতি’র আওতায় তাঁর পরিবারের বিষয়টি বিবেচনা করে অবশিষ্ট কিস্তির সম্পূর্ণ অর্থ মওকুফ এবং নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ওয়ালটন প্লাজার কর্মকর্তা আবু রায়হান (সিনিয়র ডিভিশনাল ক্রেডিট ম্যানেজার) বলেন, কিস্তিতে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে শুধু পণ্য বিক্রিই নয়, গ্রাহক ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দেয় ওয়ালটন। কোনো গ্রাহকের অকাল মৃত্যু হলে নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয় এই ওয়ালটন থেকে। এরই অংশ হিসেবে আব্দুস সালাম মিয়ার পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা এবং অবশিষ্ট কিস্তি মওকুফের সুবিধা দিয়েছে আমাদের ওয়ালটন প্লাজা।
মৃত গ্রাহকের স্ত্রী রেহেনা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার স্বামী গত চব্বিস তারিখে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত বরন করেন মৃত্যুর পর পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে দিন পার করছিলাম, আজ কলাপাড়া ওয়ালটন প্লাজা থেকে কল করে অফিসে আসতে বলেন, আমরা এখানে এসেছি ওয়ালটন প্লাজা থেকে আমাদের কে কিছু টাকা দিয়েছে, এই টাকা দিয়ে আমাদের অনেক উপকার হবে । তিনি ওয়ালটন কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মৃত আব্দুস সালামের ছেলে সুজন বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পড়ে আমরা অনেকটাই ভেঙ্গে পড়েছিলাম আজ ওয়ালটন থেকে কিছু সহায়তা পেয়েছি, যা আমদের এই খারাপ সময়ে অনেক কাজে লাগবে। ধন্যবাদ জানাই এই ওয়ালটনের সকল কর্মকর্তাদের।
স্থানীয়রা বলছেন, পণ্য কেনার পর গ্রাহকের দুর্দিনে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এ ধরনের সহযোগিতা শুধু একটি পরিবারের আর্থিক চাপ কমায় না, বরং গ্রাহকের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতারও একটি উদাহরণ তৈরি করে।
এ সময় ওয়ালটন প্লাজার কর্মকর্তা– আব্দুস সেলিম (রিজনাল সেলস ম্যানেজার), মো. রেজাউল ইসলাম (ব্রাঞ্চ ম্যানেজার, কলাপাড়া) এবং ওয়ালটন প্লাজার কর্মচারীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















