ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
২০২৭ সালের রমজানের সম্ভাব্য তারিখ ৬ অথবা ৭ ফেব্রুয়ারি বাবার মরদেহ বারান্দায়, সাড়ে তিন হাত জায়গা নিয়ে ২ ভাইয়ের মারামারি হাঁস-মুরগির দোকানে ম্যারেজ মিডিয়ার অফিস ওমরাহর জন্য স্ত্রীর জমানো টাকায় ৫৬ বছরের রাস্তা সংস্কার সন্তান জন্ম দিলেই মিলবে ৬৭ লাখ টাকা, ঘোষণা সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার আগে বলে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’, পরে বলে ‘গিভ মি ইওর প্ল্যান’: হাসনাত আব্দুল্লাহ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: এমপি শওকতুল ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত, আলোচিত সেই মাদরাসা শিক্ষকই শিশুটির বাবা বিএনপি ক্ষমতায় এলেই সংকট বাড়ে: এনসিপি নেতা সারোয়ার দেশের প্রতিটি সংকটে জিয়া পরিবার জনগণের পাশে থেকেছে: আমানউল্লাহ আমান

ওমরাহর জন্য স্ত্রীর জমানো টাকায় ৫৬ বছরের রাস্তা সংস্কার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০৩:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

স্ত্রীর ওমরাহ পালনের জন্য কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের টাকায় খুলনার ডুমুরিয়ার কেয়াখালী গ্রামের ১৫০ ফুটের একটি কাঁচা সড়ক সংস্কার করেছেন স্থানীয় হাফেজ মো. ওয়াহিদুজ্জামান। জনপ্রতিনিধিদের দীর্ঘদিনের উদাসীনতায় স্বাধীনতার ৫৬ বছর পর অবশেষে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ইটের সোলিং হওয়ায় অবসান ঘটেছে শত শত বাসিন্দার যাতায়াত যন্ত্রণার।

 

গত ২০ আগস্ট গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের উদ্যোগে রাস্তা সংস্কারের কাজ শেষ করেন তারা। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে কেয়াখালী গ্রামের শত শত মানুষের মধ্যে।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গ্রামের এই সড়কে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্ষা এলেই রাস্তাটি কাদাপানিতে তলিয়ে যেত। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। জরুরি রোগীদের কাদাপথ পেরিয়ে বড় সড়কে নিয়ে যানবাহনে তুলতে হতো। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার আবেদন করেও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

 

গ্রামবাসীর এই দুর্ভোগ দেখে হাফেজ মো. ওয়াহিদুজ্জামান তার স্ত্রী হাবিবা খাতুনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। স্ত্রীও নিজের স্বপ্নের চেয়ে মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে ওমরাহ পালনের জন্য জমানো টাকা রাস্তা সংস্কারে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই অর্থে ইট ও বালু কিনে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করেন ওয়াহিদুজ্জামান।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, নির্বাচনের সময় মেম্বার-চেয়ারম্যানরা এসে রাস্তা মেপে দিয়ে যাওয়ার কথা বলতেন। কিন্তু ভোটের পর আর তাদের দেখা পাওয়া যায় না। এই রাস্তা সংস্কার করে ওয়াহিদুজ্জামান আমাদের অনেক বড় উপকার করেছেন।

 

আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ওয়াহিদুজ্জামানের স্ত্রী সেলাই মেশিন চালিয়ে খুব কষ্ট করে ওমরাহ পালনের জন্য টাকা জমিয়েছিলেন। আমরা তাকে বলেছিলাম, ওমরাহ দুই বছর পর হলেও করা যাবে, আগে রাস্তাটি একটু ঠিক করে দেন। পরে তিনি সেই টাকা দিয়ে রাস্তাটি সংস্কার করে দিয়েছেন।

 

হাবিবা খাতুন বলেন, ২০০৮ সালে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তার ওমরাহ পালনের ইচ্ছা ছিল। সেই ইচ্ছা থেকেই সেলাই শেখেন এবং কাজ করে আয় করতে শুরু করেন। আয়ের একটি অংশ সংসারে ব্যয় করে বাকি টাকা ওমরাহ পালনের জন্য জমাতেন।

 

তিনি আরও বলেন, আমাদের বাড়ির আশপাশের রাস্তা খুব খারাপ ছিল। পথচারী ও মুসল্লিদের কাদা ভেঙে চলাচল করতে হতো। বর্ষাকালে ফজরের নামাজে যাওয়ার সময় ইমাম ও মুসল্লিদেরও অনেক কষ্ট হতো। বিষয়টি বিবেচনা করে আমি স্বামীকে রাস্তাটি সংস্কারের পরামর্শ দিই। পরে ওমরাহর জন্য জমানো টাকা দিয়ে রাস্তাটি সংস্কার করা হয়।

 

হাবিবা খাতুন বলেন, এখন আবার নতুন করে ওমরাহ পালনের জন্য টাকা জমাচ্ছি। আল্লাহ যেন আমার এই ইচ্ছা পূরণ করেন—এটাই আমার প্রত্যাশা।

 

নিজের অর্থে রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে হাফেজ মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, মানুষের সেবা করাও ইবাদতের অংশ। গ্রামের মানুষের প্রতিদিনের কষ্ট দেখে মনে হয়েছে, আগে এই সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন। আল্লাহর রহমতে স্ত্রীর জমানো অর্থ দিয়ে কাজটি শেষ করতে পেরেছি।

 

এর আগে, করোনাভাইরাসের মহামারির সময়ও মানবিক কাজে যুক্ত ছিলেন ওয়াহিদুজ্জামান। তার নেতৃত্বে গঠিত একটি স্বেচ্ছাসেবী ‘দাফন টিম’ খুলনা বিভাগে করোনায় মারা যাওয়া দুই শতাধিক মানুষের মরদেহ দাফন ও সৎকারে অংশ নেয়। ওই সময় দলটির কর্মকাণ্ড স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৭ সালের রমজানের সম্ভাব্য তারিখ ৬ অথবা ৭ ফেব্রুয়ারি

ওমরাহর জন্য স্ত্রীর জমানো টাকায় ৫৬ বছরের রাস্তা সংস্কার

আপডেট সময় ১১:০৩:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

স্ত্রীর ওমরাহ পালনের জন্য কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের টাকায় খুলনার ডুমুরিয়ার কেয়াখালী গ্রামের ১৫০ ফুটের একটি কাঁচা সড়ক সংস্কার করেছেন স্থানীয় হাফেজ মো. ওয়াহিদুজ্জামান। জনপ্রতিনিধিদের দীর্ঘদিনের উদাসীনতায় স্বাধীনতার ৫৬ বছর পর অবশেষে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ইটের সোলিং হওয়ায় অবসান ঘটেছে শত শত বাসিন্দার যাতায়াত যন্ত্রণার।

 

গত ২০ আগস্ট গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের উদ্যোগে রাস্তা সংস্কারের কাজ শেষ করেন তারা। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে কেয়াখালী গ্রামের শত শত মানুষের মধ্যে।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গ্রামের এই সড়কে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্ষা এলেই রাস্তাটি কাদাপানিতে তলিয়ে যেত। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। জরুরি রোগীদের কাদাপথ পেরিয়ে বড় সড়কে নিয়ে যানবাহনে তুলতে হতো। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার আবেদন করেও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

 

গ্রামবাসীর এই দুর্ভোগ দেখে হাফেজ মো. ওয়াহিদুজ্জামান তার স্ত্রী হাবিবা খাতুনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। স্ত্রীও নিজের স্বপ্নের চেয়ে মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে ওমরাহ পালনের জন্য জমানো টাকা রাস্তা সংস্কারে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই অর্থে ইট ও বালু কিনে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করেন ওয়াহিদুজ্জামান।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, নির্বাচনের সময় মেম্বার-চেয়ারম্যানরা এসে রাস্তা মেপে দিয়ে যাওয়ার কথা বলতেন। কিন্তু ভোটের পর আর তাদের দেখা পাওয়া যায় না। এই রাস্তা সংস্কার করে ওয়াহিদুজ্জামান আমাদের অনেক বড় উপকার করেছেন।

 

আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ওয়াহিদুজ্জামানের স্ত্রী সেলাই মেশিন চালিয়ে খুব কষ্ট করে ওমরাহ পালনের জন্য টাকা জমিয়েছিলেন। আমরা তাকে বলেছিলাম, ওমরাহ দুই বছর পর হলেও করা যাবে, আগে রাস্তাটি একটু ঠিক করে দেন। পরে তিনি সেই টাকা দিয়ে রাস্তাটি সংস্কার করে দিয়েছেন।

 

হাবিবা খাতুন বলেন, ২০০৮ সালে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তার ওমরাহ পালনের ইচ্ছা ছিল। সেই ইচ্ছা থেকেই সেলাই শেখেন এবং কাজ করে আয় করতে শুরু করেন। আয়ের একটি অংশ সংসারে ব্যয় করে বাকি টাকা ওমরাহ পালনের জন্য জমাতেন।

 

তিনি আরও বলেন, আমাদের বাড়ির আশপাশের রাস্তা খুব খারাপ ছিল। পথচারী ও মুসল্লিদের কাদা ভেঙে চলাচল করতে হতো। বর্ষাকালে ফজরের নামাজে যাওয়ার সময় ইমাম ও মুসল্লিদেরও অনেক কষ্ট হতো। বিষয়টি বিবেচনা করে আমি স্বামীকে রাস্তাটি সংস্কারের পরামর্শ দিই। পরে ওমরাহর জন্য জমানো টাকা দিয়ে রাস্তাটি সংস্কার করা হয়।

 

হাবিবা খাতুন বলেন, এখন আবার নতুন করে ওমরাহ পালনের জন্য টাকা জমাচ্ছি। আল্লাহ যেন আমার এই ইচ্ছা পূরণ করেন—এটাই আমার প্রত্যাশা।

 

নিজের অর্থে রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে হাফেজ মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, মানুষের সেবা করাও ইবাদতের অংশ। গ্রামের মানুষের প্রতিদিনের কষ্ট দেখে মনে হয়েছে, আগে এই সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন। আল্লাহর রহমতে স্ত্রীর জমানো অর্থ দিয়ে কাজটি শেষ করতে পেরেছি।

 

এর আগে, করোনাভাইরাসের মহামারির সময়ও মানবিক কাজে যুক্ত ছিলেন ওয়াহিদুজ্জামান। তার নেতৃত্বে গঠিত একটি স্বেচ্ছাসেবী ‘দাফন টিম’ খুলনা বিভাগে করোনায় মারা যাওয়া দুই শতাধিক মানুষের মরদেহ দাফন ও সৎকারে অংশ নেয়। ওই সময় দলটির কর্মকাণ্ড স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়।