প্রতিষ্ঠার ৮৬ বছর পূর্ণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট অবিভক্ত ভারতে প্রতিষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী হিন্দের রাজনৈতিক কার্যক্রম দেশভাগের পর পাকিস্তান ও পরবর্তীতে বাংলাদেশে বিস্তৃত হয়।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে দলটিকে। বিভিন্ন সময়ে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার পাশাপাশি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে দলটির ভূমিকা নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াতের কয়েকজন শীর্ষ নেতা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাদের কয়েকজনের সাজা কার্যকর করা হয়। তবে দলটির নেতারা এসব বিচারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ হিসেবে দাবি করে আসছেন।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর পূর্ব পাকিস্তানে সংগঠনটির কার্যক্রম আলাদাভাবে শুরু হয়। স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকলেও ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশে আবারও দলটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ২০০৮ সালে দলের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’।
দলের নায়েবে আমীর আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের স্টার নিউজকে বলেন, ফ্যাসিবাদী সময়ে জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ সময় দলের অসংখ্য নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জামায়াতকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে পরিচিত করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে এসব প্রতিকূলতা পেরিয়ে বর্তমানে দলটির রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে বলে দাবি জামায়াত নেতাদের।
আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, জামায়াত একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে রাজনীতি করছে এবং জনগণের ভোট ও ম্যান্ডেট নিয়েই ভবিষ্যতে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে চায়।
দলটির নেতারা বলছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সংগঠনকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখাই এখন তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

ডেস্ক রিপোর্ট 























