জাতীয় এবং সামাজিক জীবন প্রতিটি ক্ষেত্রে যাকে অনুসরণ করা দরকার তিনি হযরত মহানবী (সা.)। তার প্রদর্শিত পথ অবলম্বন করলে কেউ বিপথগামী হবে না, অন্যায় অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হবে না। বুধবার (২৬ আগস্ট) নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঈদ-ই মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রত্যেক ক্ষেত্রে নবীজি (সা.) এর নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করলে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে।
রিজভী বলেন, এক উত্তাল গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ঘৃণ্য স্বৈরসশাসককে পরাজিত করেছে ছাত্রজনতা। একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই সরকারের অঙ্গীকার হচ্ছে প্রত্যেক ক্ষেত্রে জবাবদিহি করা। সে জবাবদিহি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গণমাধ্যম, পার্লামেন্ট, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সামনে মন্ত্রীরা জবাবদিহি করছেন। এই জবাবদিহি প্রকারান্তরে জনগণের কাছে জবাবদিহি।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুরুদায়িত্ব পালন করছেন। এখন যে পরিবেশ রয়েছে, সেটি আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে সেটা বলব না; কিন্তু এখান থেকে আরও উত্তরণ ঘটানো দরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের সব অপরাধীরা আইনের আওতায় আসবে, বিচার হবে এটি জনগণ চায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন। প্রত্যাশা উনার হাত দিয়ে দেশে শান্তিময় পরিবেশ হবে, দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন নিশ্চিত হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ প্রত্যাশা করে কোথাও কোনও ধরনের মাদকের প্রভাব থাকবে না। মাদকসেবী, মাদকের সিন্ডিকেট যেই হোক বা যতো বড় ক্ষমতাশালী হোক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে নিস্তার পাবে না; এ নিশ্চয়তা চায় জনগণ।
রংপুরে মাদকসেবীদের হাতে চারটি প্রাণ চলে গেছে জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এটি গোটা দেশকে কাঁদিয়েছে, বেদনাবিধুর পরিবেশ। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুততার সঙ্গে অপরাধীকে ধরতে সক্ষম হয়েছে। না হলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেক ধরনের কথাবার্তা শুনতে হতো। এ সমস্ত সিন্ডিকেট কারা, কীভাবে গড়ে উঠেছে, গোপন আস্তানা কোথায় সেটি চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে হবে। মানুষ অন্য কিছু চায় না, খেয়ে পরে শান্তিতে বসবাস করতে চায়। এ গুরুদায়িত্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে, তিনি সেটা করবেন বলে প্রত্যাশা।
তিনি বলেন, ঈদ-ই মিলাদুন্নবীর অঙ্গীকার হোক, সরকার যেভাবে নির্বাচন পূর্ববর্তী অঙ্গীকার ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করছে; এর সঙ্গে আরও অঙ্গীকার আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করা। এর মানে হচ্ছে, কে বেশি কম ক্ষমতাশালী সেটি নয়; যে অপরাধ করবে সে আইনের আওতায় আসবে তার বিচার হবে এটিই আইনের শাসন। গোটা পৃথিবী শান্তিময় হয়ে উঠবে এ অঙ্গীকারও রক্ষা করতে হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















