ঢাকা , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘অতিথি না করায় ১৪৪ ধারা জারি করা’ বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতার সংবাদ সম্মেলন ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত ছাত্রদল নেতা আজীবন বহিষ্কার সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় তিন সন্তানের ঘরে ঠাঁই হয়নি বৃদ্ধ মা-বাবার মাজারে যেন কোনোভাবেই মাদক সেবন না হয় : এমপি আশরাফ স্বামীকে তালাক না দিয়েই পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে! দ্বৈত নাগরিকত্ব কোনো বৈষম্যের কারণ হতে পারে না: ফাহাম বিজেপির মুসলিমবিরোধী রাজনীতির শিকার জ্যোতিনগর কলোনি, ১ মাস ধরে পানি নেই বিএনপির মামলা প্রত্যাহার হলেও হেফাজতের মামলা বহাল: নায়েবে আমির মিজানুর হরমুজে অস্থায়ী নৌপথ খুলতে সম্মত ইরান-ওমান গত ছয় মাসে দায়েরকৃত ফৌজদারি মামলার প্রায় সব আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দ্বৈত নাগরিকত্ব কোনো বৈষম্যের কারণ হতে পারে না: ফাহাম

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৩০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

দ্বৈত নাগরিকত্ব কোনো বৈষম্যের কারণ হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ফাহাম আবদুস সালাম। তিনি বলেন, একজন মানুষের আনুগত্য বা দেশপ্রেম নির্ধারণে তার হাতে থাকা পাসপোর্ট বড় কোনো বিষয় নয়।

 

বুধবার (২৬ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

 

ফাহাম আবদুস সালাম বলেন, একটা, দুইটা বা তিনটা পাসপোর্ট এখানে কিছুই মীন করে না। মানুষ এখানে একটা পাসপোর্ট নিয়েই যেরকম বিশ্বাসঘাতক হয়, আপনার মাথায় প্রশ্ন জাগবে দুইটা পাসপোর্ট থাকলে আর কতই বা কম হতো?

 

 

তিনি বলেন, বাস্তব জীবনে মানুষের স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও সমন্বয় প্রায়ই নিজের স্বার্থকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়। তাই শুধু পাসপোর্টের সংখ্যা দিয়ে কারও আনুগত্য নির্ধারণ করা বাস্তবসম্মত নয়।

 

পোস্টে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রসঙ্গও টানেন। ফাহাম বলেন, তারেক রহমান দীর্ঘদিন লন্ডনে থাকলেও বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ধরে রেখেছেন এবং দেশের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তার বিশ্বাস।

 

তার ভাষায়, আপনি কেন ধরে নিচ্ছেন যে অন্যেরা তারেক রহমান সাহেবের মতো হবে না? কেন তারাও বাংলাদেশে আসলে এমন আচরণ করবে না? কেন দ্বৈত নাগরিকত্ব তাদের জন্যে নেগেটিভ একটা ইস্যু হবে?

 

প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোতে দীর্ঘদিন বসবাস করা অনেক বাংলাদেশি উচ্চ হারে কর দেন এবং সেখানে স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সামাজিক সুবিধার অধিকার তৈরি করেন। ফলে রাজনীতিতে অংশ নিতে বাংলাদেশে ফেরার আগে নাগরিকত্ব ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি তাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

 

ফাহাম বলেন, বৃদ্ধ বয়সে চিকিৎসার ব্যয় এবং সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে বিদেশে যাওয়ার সুবিধা হারানোর আশঙ্কা অনেক প্রবাসীর নাগরিকত্ব ধরে রাখার অন্যতম কারণ। এর মধ্যে কোনো ‘গ্র্যান্ড ষড়যন্ত্রতত্ত্ব’ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

বাংলাদেশের প্রবাসী জনগোষ্ঠীর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় ৭০ লাখ বাংলাদেশি দেশের বাইরে জন্মেছে এবং প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি দেশের বাইরে যায়। রেমিট্যান্সও বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস, যার পরিমাণ বছরে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

 

 

প্রবাসীদের বাংলাদেশের ‘ক্রুড অয়েল’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অনেক বড় হলেও তাদের জন্য বৈষম্যমূলক আইন থাকা দুঃখজনক।

 

দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে প্রচলিত আইনের সমালোচনা করে ফাহাম আবদুস সালাম বলেন, দুই দেশের নাগরিকত্ব থাকলে কারও আনুগত্য ভাগ হয়ে যাবে কিংবা সে অপরাধ করে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারবে, এমন ধারণা বাস্তবতাবর্জিত।

 

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আইন বাতিলের প্রস্তাব দেন। তার মতে, কোনো প্রার্থী কোন কোন দেশের নাগরিকত্ব ধারণ করেন তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করা বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। কেউ তথ্য গোপন বা মিথ্যা ঘোষণা করলে তার প্রার্থিতা ও এমপিত্ব বাতিলের বিধান রাখা যেতে পারে।

 

তিনি আরও বলেন, কোনো ভোটারের যদি মনে হয় দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা একজন প্রার্থী ভালো নন, তাহলে তিনি তাকে ভোট না দিলেই পারেন। তবে শুধু অন্য দেশের পাসপোর্ট থাকার কারণে কাউকে রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘অতিথি না করায় ১৪৪ ধারা জারি করা’ বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতার সংবাদ সম্মেলন

দ্বৈত নাগরিকত্ব কোনো বৈষম্যের কারণ হতে পারে না: ফাহাম

আপডেট সময় ০৯:৩০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

দ্বৈত নাগরিকত্ব কোনো বৈষম্যের কারণ হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ফাহাম আবদুস সালাম। তিনি বলেন, একজন মানুষের আনুগত্য বা দেশপ্রেম নির্ধারণে তার হাতে থাকা পাসপোর্ট বড় কোনো বিষয় নয়।

 

বুধবার (২৬ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

 

ফাহাম আবদুস সালাম বলেন, একটা, দুইটা বা তিনটা পাসপোর্ট এখানে কিছুই মীন করে না। মানুষ এখানে একটা পাসপোর্ট নিয়েই যেরকম বিশ্বাসঘাতক হয়, আপনার মাথায় প্রশ্ন জাগবে দুইটা পাসপোর্ট থাকলে আর কতই বা কম হতো?

 

 

তিনি বলেন, বাস্তব জীবনে মানুষের স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও সমন্বয় প্রায়ই নিজের স্বার্থকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়। তাই শুধু পাসপোর্টের সংখ্যা দিয়ে কারও আনুগত্য নির্ধারণ করা বাস্তবসম্মত নয়।

 

পোস্টে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রসঙ্গও টানেন। ফাহাম বলেন, তারেক রহমান দীর্ঘদিন লন্ডনে থাকলেও বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ধরে রেখেছেন এবং দেশের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তার বিশ্বাস।

 

তার ভাষায়, আপনি কেন ধরে নিচ্ছেন যে অন্যেরা তারেক রহমান সাহেবের মতো হবে না? কেন তারাও বাংলাদেশে আসলে এমন আচরণ করবে না? কেন দ্বৈত নাগরিকত্ব তাদের জন্যে নেগেটিভ একটা ইস্যু হবে?

 

প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোতে দীর্ঘদিন বসবাস করা অনেক বাংলাদেশি উচ্চ হারে কর দেন এবং সেখানে স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সামাজিক সুবিধার অধিকার তৈরি করেন। ফলে রাজনীতিতে অংশ নিতে বাংলাদেশে ফেরার আগে নাগরিকত্ব ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি তাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

 

ফাহাম বলেন, বৃদ্ধ বয়সে চিকিৎসার ব্যয় এবং সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে বিদেশে যাওয়ার সুবিধা হারানোর আশঙ্কা অনেক প্রবাসীর নাগরিকত্ব ধরে রাখার অন্যতম কারণ। এর মধ্যে কোনো ‘গ্র্যান্ড ষড়যন্ত্রতত্ত্ব’ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

বাংলাদেশের প্রবাসী জনগোষ্ঠীর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় ৭০ লাখ বাংলাদেশি দেশের বাইরে জন্মেছে এবং প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি দেশের বাইরে যায়। রেমিট্যান্সও বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস, যার পরিমাণ বছরে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

 

 

প্রবাসীদের বাংলাদেশের ‘ক্রুড অয়েল’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অনেক বড় হলেও তাদের জন্য বৈষম্যমূলক আইন থাকা দুঃখজনক।

 

দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে প্রচলিত আইনের সমালোচনা করে ফাহাম আবদুস সালাম বলেন, দুই দেশের নাগরিকত্ব থাকলে কারও আনুগত্য ভাগ হয়ে যাবে কিংবা সে অপরাধ করে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারবে, এমন ধারণা বাস্তবতাবর্জিত।

 

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আইন বাতিলের প্রস্তাব দেন। তার মতে, কোনো প্রার্থী কোন কোন দেশের নাগরিকত্ব ধারণ করেন তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করা বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। কেউ তথ্য গোপন বা মিথ্যা ঘোষণা করলে তার প্রার্থিতা ও এমপিত্ব বাতিলের বিধান রাখা যেতে পারে।

 

তিনি আরও বলেন, কোনো ভোটারের যদি মনে হয় দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা একজন প্রার্থী ভালো নন, তাহলে তিনি তাকে ভোট না দিলেই পারেন। তবে শুধু অন্য দেশের পাসপোর্ট থাকার কারণে কাউকে রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।