ঢাকা , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মাজারে যেন কোনোভাবেই মাদক সেবন না হয় : এমপি আশরাফ স্বামীকে তালাক না দিয়েই পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে! দ্বৈত নাগরিকত্ব কোনো বৈষম্যের কারণ হতে পারে না: ফাহাম বিজেপির মুসলিমবিরোধী রাজনীতির শিকার জ্যোতিনগর কলোনি, ১ মাস ধরে পানি নেই বিএনপির মামলা প্রত্যাহার হলেও হেফাজতের মামলা বহাল: নায়েবে আমির মিজানুর হরমুজে অস্থায়ী নৌপথ খুলতে সম্মত ইরান-ওমান গত ছয় মাসে দায়েরকৃত ফৌজদারি মামলার প্রায় সব আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে ফেরা বাদ দিন, শেখ হাসিনার কবরও বাংলাদেশে হবে না: সারজিস ফ্যামিলি কার্ডের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দল নেতার বিরুদ্ধে মহানবী (সা.) এর আদর্শে শান্তি-সম্প্রীতির সমাজ গড়ার আহ্বান এলজিআরডি মন্ত্রীর

বিজেপির মুসলিমবিরোধী রাজনীতির শিকার জ্যোতিনগর কলোনি, ১ মাস ধরে পানি নেই

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:১৭:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

কলকাতার জ্যোতিনগর কলোনিতে প্রায় এক মাস ধরে পানির সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। জাহানারা বিবিসহ কয়েক শ পরিবারের বাসিন্দারা এই সংকটে পড়েছেন। দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে বাধ্য হয়ে তারা গঙ্গার পানি ব্যবহার করছেন। তবে এতে নানা ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।

 

জাহানারা বিবি বলেন, ‘ছোট ছোট শিশুরাও মুখ ধুতে ঘাটে যাচ্ছে। অনেক শিশু গঙ্গায় পড়ে গেছে, কেউ কেউ অল্পের জন্য ডুবে যাওয়ার হাত থেকে বেঁচেছে। যারা সাঁতার জানে না, তাদেরও বাধ্য হয়ে নদীতে গোসল করতে হচ্ছে।’জ্যোতিনগর কলোনি কলকাতা পৌর করপোরেশনের (কেএমসি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর এলাকায় অবস্থিত। প্রায় ৬০ বছর ধরে এখানে প্রায় ৫ হাজার মানুষ বসবাস করছেন। অধিকাংশ বাসিন্দাই মুসলিম। অল্পসংখ্যক হিন্দু পরিবারও এখানে রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এলাকাটি ‘মোল্লাপাড়া’ বা মুসলিম কলোনি নামে পরিচিত।

 

কলোনির অনেক বাসিন্দা নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। কেউ কেউ অল্প মজুরিতে বোতল গলানোর কারখানায় কাজ করেন।

 

৬০ বছর ধরে জ্যোতিনগর কলোনিতে বসবাসকারী সরস্বতী বিশ্বাস বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের দরিদ্র মানুষ নানা সমস্যায় একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু এমন সংকট আমাদের জন্য একেবারেই নতুন।’

 

কলোনিতে পানির ছয়টি কল রয়েছে। ২৯ জুলাই থেকে সব কটি কলেই পানির সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাদের কলগুলো শুকিয়ে থাকলেও একই সড়কের হিন্দু অধ্যুষিত কলোনিগুলোর পানির কল সচল রয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ২৭ জুলাই কেএমসির কর্মীরা কলোনির পানির পাইপলাইন মেরামত করতে আসেন। ২৯ জুলাই পর্যন্ত মেরামতের কাজ চলে এবং সেদিন বাসিন্দারা পানি পান। কিন্তু ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ তারা দেখতে পান, পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

 

পরদিন বাসিন্দারা পুলিশ ও পৌর করপোরেশন কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। তবে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি বলে দাবি তাদের। এর পরদিন কলোনির রাস্তাগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

 

বাসিন্দারা জানান, দূষিত নদীর পানি ব্যবহারের কারণে কয়েকটি শিশু জ্বর, মাথাব্যথা ও চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছে। ঘাটের কাদাযুক্ত ও পিচ্ছিল সিঁড়িতে পড়ে অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন। বয়স্ক ব্যক্তি, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ তাদেরও গোসলসহ দৈনন্দিন কাজে নদীর পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

 

রাস্তার বাতি বন্ধ করে দেওয়ায় শিশুদের ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী ইসা খাতুন বলেন, পানির সংকটের কারণে তিনি স্কুলে যেতে পারছেন না। পরীক্ষার সময় এই সংকট শুরু হওয়ায় তার পড়াশোনায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এমনকি বস্তিতে থাকা স্কুলটিতেও পানির সংযোগ দেওয়া হয়নি।

 

ইসা আরও বলেন, ‘রাস্তাগুলোর বাতি বন্ধ করে দেওয়া কলোনির নারীদের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করেছে।’

 

সরস্বতী বিশ্বাস বলেন, ‘বিজেপি হিন্দু-মুসলিমের রাজনীতি করে শুধু দরিদ্র মানুষকে হয়রানি করছে।’ দীর্ঘদিনের পানির সংকটে বস্তির প্রতিটি বাসিন্দাই সমস্যায় পড়েছেন বলেও জানান তিনি।

 

বাসিন্দারা জানান, সিপিআই(এম) ও পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতি তিন থেকে চার দিন পরপর কেএমসির মাধ্যমে পানীয় পানির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে।

 

সিপিআই(এম)-এর স্থানীয় শাখার সম্পাদক আলমগীর বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা ৭০০ রুপি দিয়ে কেএমসির কাছ থেকে পানির ট্যাংকার নিচ্ছি। কিন্তু তিন-চার দিন পরপর এক ট্যাংকার পানি ৫ হাজার মানুষের জন্য যথেষ্ট নয়।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পৌর করপোরেশনেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। প্রায় এক মাস হয়ে গেল।’

 

বুধবার কলোনির রাস্তার বাতিতে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে আনতেও দলটি সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে বলে জানান তিনি।

 

বাসিন্দারা জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুমন সিংয়ের কাছ থেকেও তারা কোনো সাড়া পাননি। কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তিনি এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।

 

বিজেপির বিধায়ক ঋতেশ তিওয়ারির আগের কিছু বক্তব্যের সঙ্গে পানির সংকটের যোগসূত্র রয়েছে বলেও দাবি করেছেন বাসিন্দারা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বলেছিলেন, যারা তাকে ভোট দেননি, সেই সংখ্যালঘুদের জন্য তিনি কাজ করবেন না।

 

ডিওয়াইএফআই কর্মী মিলন বিশ্বাস বলেন, ‘বিজেপির বিধায়ক ঋতেশ তিওয়ারি এর আগে দলের একটি অনুষ্ঠানে এই বস্তির মানুষকে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী বলেছিলেন। সংখ্যালঘুদের জন্য কাজ করবেন না—এমন তাঁর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি এখন সেই কথাই বাস্তবায়ন করছেন।’

বস্তির বাসিন্দারা উচ্ছেদ অভিযান নিয়েও আশঙ্কায় রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়ের পর হকার ও বস্তিবাসীদের উচ্ছেদের ঘটনা বেড়েছে বলেও দাবি তাদের।

 

সরস্বতী বিশ্বাস বলেন, ‘আমি গত ৬০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। এই বস্তিই আমার সবকিছু। আমি এখান থেকে কোথাও যাব না।’

 

সাংবাদিক ও কলাম লেখক অর্ক ভাদুড়ি বলেন, ‘জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দাদের সঙ্গে যা ঘটছে, তা ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য লজ্জাজনক। এটি সংবিধানবিরোধী। শুধু মুসলিম হওয়ার কারণে তাদের এমন অকল্পনীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মাজারে যেন কোনোভাবেই মাদক সেবন না হয় : এমপি আশরাফ

বিজেপির মুসলিমবিরোধী রাজনীতির শিকার জ্যোতিনগর কলোনি, ১ মাস ধরে পানি নেই

আপডেট সময় ০৯:১৭:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

কলকাতার জ্যোতিনগর কলোনিতে প্রায় এক মাস ধরে পানির সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। জাহানারা বিবিসহ কয়েক শ পরিবারের বাসিন্দারা এই সংকটে পড়েছেন। দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে বাধ্য হয়ে তারা গঙ্গার পানি ব্যবহার করছেন। তবে এতে নানা ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।

 

জাহানারা বিবি বলেন, ‘ছোট ছোট শিশুরাও মুখ ধুতে ঘাটে যাচ্ছে। অনেক শিশু গঙ্গায় পড়ে গেছে, কেউ কেউ অল্পের জন্য ডুবে যাওয়ার হাত থেকে বেঁচেছে। যারা সাঁতার জানে না, তাদেরও বাধ্য হয়ে নদীতে গোসল করতে হচ্ছে।’জ্যোতিনগর কলোনি কলকাতা পৌর করপোরেশনের (কেএমসি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর এলাকায় অবস্থিত। প্রায় ৬০ বছর ধরে এখানে প্রায় ৫ হাজার মানুষ বসবাস করছেন। অধিকাংশ বাসিন্দাই মুসলিম। অল্পসংখ্যক হিন্দু পরিবারও এখানে রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এলাকাটি ‘মোল্লাপাড়া’ বা মুসলিম কলোনি নামে পরিচিত।

 

কলোনির অনেক বাসিন্দা নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। কেউ কেউ অল্প মজুরিতে বোতল গলানোর কারখানায় কাজ করেন।

 

৬০ বছর ধরে জ্যোতিনগর কলোনিতে বসবাসকারী সরস্বতী বিশ্বাস বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের দরিদ্র মানুষ নানা সমস্যায় একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু এমন সংকট আমাদের জন্য একেবারেই নতুন।’

 

কলোনিতে পানির ছয়টি কল রয়েছে। ২৯ জুলাই থেকে সব কটি কলেই পানির সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাদের কলগুলো শুকিয়ে থাকলেও একই সড়কের হিন্দু অধ্যুষিত কলোনিগুলোর পানির কল সচল রয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ২৭ জুলাই কেএমসির কর্মীরা কলোনির পানির পাইপলাইন মেরামত করতে আসেন। ২৯ জুলাই পর্যন্ত মেরামতের কাজ চলে এবং সেদিন বাসিন্দারা পানি পান। কিন্তু ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ তারা দেখতে পান, পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

 

পরদিন বাসিন্দারা পুলিশ ও পৌর করপোরেশন কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। তবে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি বলে দাবি তাদের। এর পরদিন কলোনির রাস্তাগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

 

বাসিন্দারা জানান, দূষিত নদীর পানি ব্যবহারের কারণে কয়েকটি শিশু জ্বর, মাথাব্যথা ও চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছে। ঘাটের কাদাযুক্ত ও পিচ্ছিল সিঁড়িতে পড়ে অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন। বয়স্ক ব্যক্তি, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ তাদেরও গোসলসহ দৈনন্দিন কাজে নদীর পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

 

রাস্তার বাতি বন্ধ করে দেওয়ায় শিশুদের ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী ইসা খাতুন বলেন, পানির সংকটের কারণে তিনি স্কুলে যেতে পারছেন না। পরীক্ষার সময় এই সংকট শুরু হওয়ায় তার পড়াশোনায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এমনকি বস্তিতে থাকা স্কুলটিতেও পানির সংযোগ দেওয়া হয়নি।

 

ইসা আরও বলেন, ‘রাস্তাগুলোর বাতি বন্ধ করে দেওয়া কলোনির নারীদের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করেছে।’

 

সরস্বতী বিশ্বাস বলেন, ‘বিজেপি হিন্দু-মুসলিমের রাজনীতি করে শুধু দরিদ্র মানুষকে হয়রানি করছে।’ দীর্ঘদিনের পানির সংকটে বস্তির প্রতিটি বাসিন্দাই সমস্যায় পড়েছেন বলেও জানান তিনি।

 

বাসিন্দারা জানান, সিপিআই(এম) ও পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতি তিন থেকে চার দিন পরপর কেএমসির মাধ্যমে পানীয় পানির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে।

 

সিপিআই(এম)-এর স্থানীয় শাখার সম্পাদক আলমগীর বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা ৭০০ রুপি দিয়ে কেএমসির কাছ থেকে পানির ট্যাংকার নিচ্ছি। কিন্তু তিন-চার দিন পরপর এক ট্যাংকার পানি ৫ হাজার মানুষের জন্য যথেষ্ট নয়।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পৌর করপোরেশনেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। প্রায় এক মাস হয়ে গেল।’

 

বুধবার কলোনির রাস্তার বাতিতে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে আনতেও দলটি সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে বলে জানান তিনি।

 

বাসিন্দারা জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুমন সিংয়ের কাছ থেকেও তারা কোনো সাড়া পাননি। কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তিনি এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।

 

বিজেপির বিধায়ক ঋতেশ তিওয়ারির আগের কিছু বক্তব্যের সঙ্গে পানির সংকটের যোগসূত্র রয়েছে বলেও দাবি করেছেন বাসিন্দারা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বলেছিলেন, যারা তাকে ভোট দেননি, সেই সংখ্যালঘুদের জন্য তিনি কাজ করবেন না।

 

ডিওয়াইএফআই কর্মী মিলন বিশ্বাস বলেন, ‘বিজেপির বিধায়ক ঋতেশ তিওয়ারি এর আগে দলের একটি অনুষ্ঠানে এই বস্তির মানুষকে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী বলেছিলেন। সংখ্যালঘুদের জন্য কাজ করবেন না—এমন তাঁর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি এখন সেই কথাই বাস্তবায়ন করছেন।’

বস্তির বাসিন্দারা উচ্ছেদ অভিযান নিয়েও আশঙ্কায় রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়ের পর হকার ও বস্তিবাসীদের উচ্ছেদের ঘটনা বেড়েছে বলেও দাবি তাদের।

 

সরস্বতী বিশ্বাস বলেন, ‘আমি গত ৬০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। এই বস্তিই আমার সবকিছু। আমি এখান থেকে কোথাও যাব না।’

 

সাংবাদিক ও কলাম লেখক অর্ক ভাদুড়ি বলেন, ‘জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দাদের সঙ্গে যা ঘটছে, তা ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য লজ্জাজনক। এটি সংবিধানবিরোধী। শুধু মুসলিম হওয়ার কারণে তাদের এমন অকল্পনীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।