ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নেপালের আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ১৫৭, নিখোঁজ আরও অন্তত ৪০৩ তিস্তায় পাথর উত্তোলনে প্রতিদিন দেড় লাখ টাকার চাঁদা সংসদীয় কমিটিগুলোর সভাপতির দায়িত্ব বিরোধী দলকে দিতে হবে: ১১ দলীয় ঐক্য নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় বিএনপি নেতার নেতৃত্বে স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ মাথায় সমস্যা থাকায় ভুল করেছেন গায়ক আসিফ: রাশেদ খাঁন প্রকাশ্যে শিয়ালের মাংস বিক্রি, প্রমাণের জন্য পাশে রেখেছিল কাটা মাথা চুরির শাস্তি হিসেবে ১০০ রাকাত নামাজ পড়িয়ে যুবককে ছাড় ট্রাম্পের ছেলে ব্যারনকে হত্যায় ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়া নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের হট্টগোল ‘অতিথি না করায় ১৪৪ ধারা জারি করা’ বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতার সংবাদ সম্মেলন

নেপালের আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ১৫৭, নিখোঁজ আরও অন্তত ৪০৩

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৫৩:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৫৭ দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ৪০৩ জন। তাদের অধিকাংশই বিদেশি পর্যটক বলে জানা গেছে। বুধবার দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় আকস্মিক এ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।

 

নেপালের পুলিশের পক্ষ থেকে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও ভূমিধসকবলিত এলাকাগুলো থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রসুয়ায় একজন, নুয়াকোটে ১১ জন, ধাদিংয়ে ১৮ জন, চিতওয়ানে ৩৩ জন, গোর্খায় ১৯ জন, তানাহুঁতে সাতজন এবং নওয়ালপুরে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে

 

নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে রাসুয়ায় একটি, নুয়াকোটে ১১টি, ধাদিংয়ে ১৮টি, চিতওয়ানে ৩৩টি, গোরখায় ১৬টি, তানাহুনে পাঁচটি এবং নাওয়ালপুরে ১১টি রয়েছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চলছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হওয়ায় নিখোঁজ ও মৃতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।

 

আকস্মিক বন্যায় স্বজন হারানো এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নেপালের নুয়াকোট জেলার বাসিন্দা কল্পনা মাল্লা জানান, তার বাবা, মা, বোন এবং বোনের সন্তানরা চোখের সামনে বন্যার পানিতে ভেসে যান।

 

তিনি বলেন, তারা বন্যা থেকে বের হতে পারেননি। কোনো সুযোগই ছিল না। বন্যা সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। তবে আমি ও আমার ছেলে একটি বাড়ির ছাদে উঠে প্রাণে বেঁচেছি। কীভাবে বেঁচে গেলাম, তা-ই বুঝতে পারছি না।

 

কল্পনার ছেলে সুগাম মাল্লা জানান, মায়ের হাত ধরে তিনি নিরাপদে যান। বন্যার আগে তিনি তার মোবাইল ফোনটি বোনের কাছে দিয়েছিলেন, যাতে প্রয়োজনে সাহায্যের জন্য যোগাযোগ করা যায়। কিন্তু এখন বোনের ফোন বন্ধ। তাঁর আশঙ্কা, বোন হয়তো বন্যার পানিতে ভেসে গেছেন।

 

নেপালের রাসুয়া জেলার স্যাফ্রু বেসি গ্রামের বাসিন্দা ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ট্রেকিং গাইড সোনাম দর্জিও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে তাঁর গ্রামে আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। তবে এর এক ঘণ্টা আগেই তিনি একটি কাজে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। তাঁর বোন দেচেন তামাং, ভগ্নিপতি এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য এখনো নিখোঁজ।

 

গ্রাম ছাড়ার সময় তিনি বন্যার ভয়াবহ শব্দ শুনতে পান। তিনি বলেন, মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। আমার বাড়ি ধসে গেছে।

 

সোনাম দর্জি বন্যাকে ‘হঠাৎ ও ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, অনেক মানুষ এখন ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন। তাঁদের জরুরি উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়া, খাবার, অস্থায়ী আশ্রয় এবং চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন। বোনকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা এখনো ছাড়েননি সোনাম। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, তাঁকে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা হয়তো ১০ শতাংশ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নেপালের আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ১৫৭, নিখোঁজ আরও অন্তত ৪০৩

নেপালের আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ১৫৭, নিখোঁজ আরও অন্তত ৪০৩

আপডেট সময় ০১:৫৩:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৫৭ দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ৪০৩ জন। তাদের অধিকাংশই বিদেশি পর্যটক বলে জানা গেছে। বুধবার দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় আকস্মিক এ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।

 

নেপালের পুলিশের পক্ষ থেকে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও ভূমিধসকবলিত এলাকাগুলো থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রসুয়ায় একজন, নুয়াকোটে ১১ জন, ধাদিংয়ে ১৮ জন, চিতওয়ানে ৩৩ জন, গোর্খায় ১৯ জন, তানাহুঁতে সাতজন এবং নওয়ালপুরে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে

 

নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে রাসুয়ায় একটি, নুয়াকোটে ১১টি, ধাদিংয়ে ১৮টি, চিতওয়ানে ৩৩টি, গোরখায় ১৬টি, তানাহুনে পাঁচটি এবং নাওয়ালপুরে ১১টি রয়েছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চলছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হওয়ায় নিখোঁজ ও মৃতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।

 

আকস্মিক বন্যায় স্বজন হারানো এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নেপালের নুয়াকোট জেলার বাসিন্দা কল্পনা মাল্লা জানান, তার বাবা, মা, বোন এবং বোনের সন্তানরা চোখের সামনে বন্যার পানিতে ভেসে যান।

 

তিনি বলেন, তারা বন্যা থেকে বের হতে পারেননি। কোনো সুযোগই ছিল না। বন্যা সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। তবে আমি ও আমার ছেলে একটি বাড়ির ছাদে উঠে প্রাণে বেঁচেছি। কীভাবে বেঁচে গেলাম, তা-ই বুঝতে পারছি না।

 

কল্পনার ছেলে সুগাম মাল্লা জানান, মায়ের হাত ধরে তিনি নিরাপদে যান। বন্যার আগে তিনি তার মোবাইল ফোনটি বোনের কাছে দিয়েছিলেন, যাতে প্রয়োজনে সাহায্যের জন্য যোগাযোগ করা যায়। কিন্তু এখন বোনের ফোন বন্ধ। তাঁর আশঙ্কা, বোন হয়তো বন্যার পানিতে ভেসে গেছেন।

 

নেপালের রাসুয়া জেলার স্যাফ্রু বেসি গ্রামের বাসিন্দা ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ট্রেকিং গাইড সোনাম দর্জিও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে তাঁর গ্রামে আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। তবে এর এক ঘণ্টা আগেই তিনি একটি কাজে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। তাঁর বোন দেচেন তামাং, ভগ্নিপতি এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য এখনো নিখোঁজ।

 

গ্রাম ছাড়ার সময় তিনি বন্যার ভয়াবহ শব্দ শুনতে পান। তিনি বলেন, মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। আমার বাড়ি ধসে গেছে।

 

সোনাম দর্জি বন্যাকে ‘হঠাৎ ও ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, অনেক মানুষ এখন ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন। তাঁদের জরুরি উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়া, খাবার, অস্থায়ী আশ্রয় এবং চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন। বোনকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা এখনো ছাড়েননি সোনাম। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, তাঁকে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা হয়তো ১০ শতাংশ।