সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া নয়জনের মরদেহ আজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৪০ ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
শনাক্ত হওয়া নয়জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। বাকি দুজনের একজন নাটোরের নলডাঙ্গা এবং অন্যজন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা। স্বজনেরা প্রিয়জনের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন।
আত্রাইয়ের নিহতরা হলেন—উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ, গন্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, কলিমউদ্দিন ইসলাম, মোহন আলী ও তার ছোট ভাই সুমন আলী, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরকার। এছাড়া নাটোরের নলডাঙ্গার রবিউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারার শ্যামল উদ্দিনের পরিচয়ও শনাক্ত হয়েছে।
গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারান ওই ১৬ বাংলাদেশি। সৌদি কর্তৃপক্ষ আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম ধাপে নয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করে। তবে বাকি সাতজনের ডিএনএ পরীক্ষা শেষ না হওয়ায় তাদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, স্বজনদের অপেক্ষাও দীর্ঘ হচ্ছে। আত্রাইয়ের মধ্যবোয়ালী গ্রামের নিহত মিনহাজের মা পারুল বিবি ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ছেলের মরদেহ শনাক্ত না হওয়ায় পরে আসবে জানতে পেরেছেন। শেষবারের মতো ছেলেকে একনজর দেখতে চান তিনি।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিনা খরচে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার রাতের মধ্যে মরদেহগুলো নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছাতে পারে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে আত্রাইয়ের ১৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও বর্তমানে উপজেলার ১১ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে।
দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, বাকি সাতজনের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের মরদেহও দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রবাসে পরিবারের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি দেওয়া এসব মানুষের মৃত্যুতে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্বজনদের ঘরে।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















