ঢাকা , সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ভারতীয় ত্রাণ সীমান্তেই ফিরিয়ে দিচ্ছে নেপাল বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার জুলাই সনদ চাইবেন, আবার বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবেন না, দুটি বিপরীতমুখী: বিরোধীদলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে দিল্লির সেমিনার পুলিশি বাধায় বাতিল সাগর-রুনি হত্যায় জড়িত জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচী আলোচিত সবুজ মাংস: ল্যাব রিপোর্টে জানা গেল ঘটনার আসল রহস্য স্পিকারকে পিটিয়ে হত্যা ও জুতা ছোড়াছুড়ির কালো ইতিহাসে ফিরতে চাই না: সংসদে তাহের রাজনীতি আর কোনো নির্বাচনে এক ভোটও কারচুপি হতে দেবো না: সেলিম উদ্দীন আইফোন কিনতে সন্তানকে লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ গুমের পুনরাবৃত্তি চিরতরে বন্ধ করাই আমাদের দায়িত্ব: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

পুলিশের উপস্থিতিতে নারী উদ্যোক্তাকে মারধর, ভিডিও ভাইরাল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:১১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

রাজবাড়ীতে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানাকে প্রকাশ্যে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের উপস্থিতিতে জাকিয়াকে রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে এক যুবক তাকে লাথি মারছেন। পরে আরও কয়েকজন যুবক এগিয়ে এসে তাকে লাথি দেন। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে রাজবাড়ী শহরের কাপড় বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ জাকিয়া সুলতানাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

 

জাকিয়া সুলতানা ‘আস্থা পোশাক শিল্প’-এর মালিক। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী বৃষ্টি হিসাব-নিকাশ বুঝিয়ে না দিয়ে অন্য একটি দোকানে চলে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তিনি রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর থেকেই তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

 

 

জাকিয়া জানান, গত ২৩ আগস্ট বৃষ্টিসহ ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাকে হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ ঘটনায় তিনি অভিযোগও করেন।

 

তার ভাষ্য, দোকানে বেচাকেনা বেশি হওয়ায় একটি পক্ষ তার ওপর ক্ষুব্ধ। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির প্রতিবাদ জানাতে তিনি লোকজন নিয়ে সেখানে গেলে তাকে মারধর করা হয়।

 

জাকিয়া বলেন, শনিবার পুলিশ যখন তাকে ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন পেছন থেকে কয়েকজন যুবক এসে তার ওপর হামলা করেন। ভিডিওতে যাদের তাকে লাথি মারতে দেখা গেছে, তাদের কাউকেই তিনি চেনেন না। এমনকি এর আগে তাদের কাউকে কখনো দেখেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

 

তিনি বলেন, ‘আমি তাদের কাউকেই চিনি না। আগে কখনো দেখিনি। পুলিশের উপস্থিতিতে আমাকে রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তারা পেছন থেকে এসে লাথি মেরেছে।’

 

জাকিয়ার দাবি, তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জেলার ২৬টি সাব-সেন্টারে প্রায় চার হাজার নারী শ্রমিক যুক্ত রয়েছেন। কাপড় বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে গেলে এসব শ্রমিকের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কর্মচারী বৃষ্টি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি এখন কথা বলতে চাই না।’

 

তবে জাকিয়ার অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক কাজী বেনজীর আহমেদ।

 

তিনি বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ওই নারী নানা ধরনের অভিযোগ আনছেন। তার কারণে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করতে পারছি না। আজ ওই নারী কয়েকশ মানুষ নিয়ে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা করেছেন। পরে আমরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।’

 

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাজারের ব্যবসায়ীরা জাকিয়া সুলতানাকে ঘিরে ধরেছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে বিষয়টির সমাধান হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতীয় ত্রাণ সীমান্তেই ফিরিয়ে দিচ্ছে নেপাল

পুলিশের উপস্থিতিতে নারী উদ্যোক্তাকে মারধর, ভিডিও ভাইরাল

আপডেট সময় ১০:১১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

রাজবাড়ীতে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানাকে প্রকাশ্যে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের উপস্থিতিতে জাকিয়াকে রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে এক যুবক তাকে লাথি মারছেন। পরে আরও কয়েকজন যুবক এগিয়ে এসে তাকে লাথি দেন। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে রাজবাড়ী শহরের কাপড় বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ জাকিয়া সুলতানাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

 

জাকিয়া সুলতানা ‘আস্থা পোশাক শিল্প’-এর মালিক। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী বৃষ্টি হিসাব-নিকাশ বুঝিয়ে না দিয়ে অন্য একটি দোকানে চলে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তিনি রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর থেকেই তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

 

 

জাকিয়া জানান, গত ২৩ আগস্ট বৃষ্টিসহ ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাকে হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ ঘটনায় তিনি অভিযোগও করেন।

 

তার ভাষ্য, দোকানে বেচাকেনা বেশি হওয়ায় একটি পক্ষ তার ওপর ক্ষুব্ধ। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির প্রতিবাদ জানাতে তিনি লোকজন নিয়ে সেখানে গেলে তাকে মারধর করা হয়।

 

জাকিয়া বলেন, শনিবার পুলিশ যখন তাকে ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন পেছন থেকে কয়েকজন যুবক এসে তার ওপর হামলা করেন। ভিডিওতে যাদের তাকে লাথি মারতে দেখা গেছে, তাদের কাউকেই তিনি চেনেন না। এমনকি এর আগে তাদের কাউকে কখনো দেখেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

 

তিনি বলেন, ‘আমি তাদের কাউকেই চিনি না। আগে কখনো দেখিনি। পুলিশের উপস্থিতিতে আমাকে রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তারা পেছন থেকে এসে লাথি মেরেছে।’

 

জাকিয়ার দাবি, তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জেলার ২৬টি সাব-সেন্টারে প্রায় চার হাজার নারী শ্রমিক যুক্ত রয়েছেন। কাপড় বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে গেলে এসব শ্রমিকের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কর্মচারী বৃষ্টি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি এখন কথা বলতে চাই না।’

 

তবে জাকিয়ার অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক কাজী বেনজীর আহমেদ।

 

তিনি বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ওই নারী নানা ধরনের অভিযোগ আনছেন। তার কারণে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করতে পারছি না। আজ ওই নারী কয়েকশ মানুষ নিয়ে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা করেছেন। পরে আমরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।’

 

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাজারের ব্যবসায়ীরা জাকিয়া সুলতানাকে ঘিরে ধরেছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে বিষয়টির সমাধান হয়েছে।