ঢাকা , সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইরানে পরমাণু হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা বিচার করে দেওয়ার কথা বলে নারীকে আবাসিক হোটেল নিয়ে গেলেন বিএনপির নেতা ভারতীয় ত্রাণ সীমান্তেই ফিরিয়ে দিচ্ছে নেপাল বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার জুলাই সনদ চাইবেন, আবার বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবেন না, দুটি বিপরীতমুখী: বিরোধীদলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে দিল্লির সেমিনার পুলিশি বাধায় বাতিল সাগর-রুনি হত্যায় জড়িত জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচী আলোচিত সবুজ মাংস: ল্যাব রিপোর্টে জানা গেল ঘটনার আসল রহস্য স্পিকারকে পিটিয়ে হত্যা ও জুতা ছোড়াছুড়ির কালো ইতিহাসে ফিরতে চাই না: সংসদে তাহের রাজনীতি আর কোনো নির্বাচনে এক ভোটও কারচুপি হতে দেবো না: সেলিম উদ্দীন

ইরানে পরমাণু হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:১৮:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে গেল মার্চে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সন্ত্রাস দমন উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ান জো কেন্ট। গুরুত্বপূর্ণ পদটি থেকে সরে যাওয়ার পর এবার তিনি বিস্ফোরক এক তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রচলিত সামরিক পদ্ধতিতে ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) আরটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পডকাস্টার টাকার কার্লসনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এমনটিই জানিয়েছেন কেন্ট। এর আগে এপ্রিলে ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, তেহরান ওয়াশিংটনের দাবি মেনে না নিলে ইরানের ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’। এরপর বিভিন্ন সময় একাধিকবার একই ধরনের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি এও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ বেসামরিক অবকাঠামো নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে।

 

 

শুক্রবার কার্লসনের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে কেন্ট পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনাকে বাস্তবসম্মত বলে উল্লেখ করেন। বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে যখন ট্রাম্প প্রশাসন একটি সমাধানের পথ খুঁজছে, তখন এটা ঘটতে পারে না—এমনটি ভাবাও বোকামি হবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার পুরো পরিসর ব্যবহার করেও ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ট্রাম্প তার পরিবর্তনশীল সব লক্ষ্যই অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

 

 

তার মতে, ওয়াশিংটন যদি এখনও ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়ে দেশটিকে ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণে’ বাধ্য করতে চায়, তাহলে ট্রাম্পের সামনে দুটি পথ রয়েছে। একটি হলো- পূর্ণমাত্রায় স্থল অভিযান, আর অন্যটি- পারমাণবিক হামলা। ইরানের বিশাল ভূখণ্ড ও জনসংখ্যার কারণে পূর্ণমাত্রার স্থল অভিযান ‘কোনোভাবেই সম্ভব নয়’ বলে কার্লসনকে জানান কেন্ট।

 

 

তিনি বলেন, ‘আপনি যদি পরিস্থিতিটা যথেষ্ট সময় ধরে সামনে এগিয়ে দেখেন, তাহলে খুব দ্রুতই গণবিধ্বংসী অস্ত্রের পর্যায়ে পৌঁছে যাবেন।’ ইরানের পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে থাকা ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র সীমিত পরিসরে পারমাণবিক হামলা চালানোর পথ বেছে নিতে পারে এমন একটি সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন কেন্ট।

 

 

গত মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ করে ইরানে তাদের সর্বশেষ দফার হামলা স্থগিত করে। এর মধ্যে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চনির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অনেকটাই কমে গেছে পেন্টাগনের। তবে ট্রাম্পসহ কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা গোলাবারুদের ঘাটতির দাবি জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন। তারা বলেছেন, তাদের হাতে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ রয়েছে।

 

 

তবে কৌশল পরিবর্তন করে ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে ‘একটি ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দেন। তিনি এর নাম দেন ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’। এর কয়েক দিন পর মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। এতে প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এর মধ্যে চীনের ২১টি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

 

 

বেসেন্ট বলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে অস্বীকৃতি জানানো দেশগুলোকেও শাস্তি দিয়ে ইরানকে ‘অর্থনৈতিকভাবে একঘরে’ করে তোলাই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ইরানের পক্ষে অর্থ পাচারে সহায়তা করবে এমন যেকোনো সংস্থাকে মার্কিন ডলার ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে দেয়া হবে।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে পরমাণু হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা

ইরানে পরমাণু হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০১:১৮:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে গেল মার্চে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সন্ত্রাস দমন উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ান জো কেন্ট। গুরুত্বপূর্ণ পদটি থেকে সরে যাওয়ার পর এবার তিনি বিস্ফোরক এক তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রচলিত সামরিক পদ্ধতিতে ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) আরটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পডকাস্টার টাকার কার্লসনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এমনটিই জানিয়েছেন কেন্ট। এর আগে এপ্রিলে ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, তেহরান ওয়াশিংটনের দাবি মেনে না নিলে ইরানের ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’। এরপর বিভিন্ন সময় একাধিকবার একই ধরনের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি এও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ বেসামরিক অবকাঠামো নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে।

 

 

শুক্রবার কার্লসনের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে কেন্ট পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনাকে বাস্তবসম্মত বলে উল্লেখ করেন। বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে যখন ট্রাম্প প্রশাসন একটি সমাধানের পথ খুঁজছে, তখন এটা ঘটতে পারে না—এমনটি ভাবাও বোকামি হবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার পুরো পরিসর ব্যবহার করেও ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ট্রাম্প তার পরিবর্তনশীল সব লক্ষ্যই অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

 

 

তার মতে, ওয়াশিংটন যদি এখনও ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়ে দেশটিকে ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণে’ বাধ্য করতে চায়, তাহলে ট্রাম্পের সামনে দুটি পথ রয়েছে। একটি হলো- পূর্ণমাত্রায় স্থল অভিযান, আর অন্যটি- পারমাণবিক হামলা। ইরানের বিশাল ভূখণ্ড ও জনসংখ্যার কারণে পূর্ণমাত্রার স্থল অভিযান ‘কোনোভাবেই সম্ভব নয়’ বলে কার্লসনকে জানান কেন্ট।

 

 

তিনি বলেন, ‘আপনি যদি পরিস্থিতিটা যথেষ্ট সময় ধরে সামনে এগিয়ে দেখেন, তাহলে খুব দ্রুতই গণবিধ্বংসী অস্ত্রের পর্যায়ে পৌঁছে যাবেন।’ ইরানের পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে থাকা ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র সীমিত পরিসরে পারমাণবিক হামলা চালানোর পথ বেছে নিতে পারে এমন একটি সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন কেন্ট।

 

 

গত মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ করে ইরানে তাদের সর্বশেষ দফার হামলা স্থগিত করে। এর মধ্যে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চনির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অনেকটাই কমে গেছে পেন্টাগনের। তবে ট্রাম্পসহ কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা গোলাবারুদের ঘাটতির দাবি জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন। তারা বলেছেন, তাদের হাতে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ রয়েছে।

 

 

তবে কৌশল পরিবর্তন করে ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে ‘একটি ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দেন। তিনি এর নাম দেন ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’। এর কয়েক দিন পর মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। এতে প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এর মধ্যে চীনের ২১টি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

 

 

বেসেন্ট বলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে অস্বীকৃতি জানানো দেশগুলোকেও শাস্তি দিয়ে ইরানকে ‘অর্থনৈতিকভাবে একঘরে’ করে তোলাই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ইরানের পক্ষে অর্থ পাচারে সহায়তা করবে এমন যেকোনো সংস্থাকে মার্কিন ডলার ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে দেয়া হবে।’