ঢাকা , মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্যাডেল রিকশা বন্ধ করে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালু করতে আইনি নোটিশ ‘ভারতের কোনো সন্ত্রাসীকে ঢাকায় আশ্রয় দেওয়া হবে না’ লোডশেডিং খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশ খানিকটা কমবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ ট্রেনে যাত্রীকে ধর্ষণ, ক্যানটিন বয় গ্রেপ্তার দস্যু বাহিনীকে চাঁদা দিয়েই বনে যাচ্ছেন জেলেরা, জিম্মি সুন্দরবন ২০০টিরও বেশি বিমান ভূপা’তিত করেছে ইরান: প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান কমান্ডার দেশের ইন্টারনেট নিয়ে বড় বিপদের শ’ঙ্কা ‘পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না’ বাসের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত পদ্মা সেতুর রেলিং মেরামতে খরচ হবে ২ লাখ টাকা সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়াতে সিলেটে উদ্বোধন হলো ‘ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ স্কুল

দেশের ইন্টারনেট নিয়ে বড় বিপদের শ’ঙ্কা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:২৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

দ্রুত বাড়ছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের চাহিদা। কিন্তু সেই তুলনায় নতুন সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা থাকায় আগামী দিনে বড় ধরনের অবকাঠামোগত সংকটের আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। সময়মতো নতুন সক্ষমতা যুক্ত করা না গেলে ব্যান্ডউইথ ঘাটতির কারণে বাধাগ্রস্ত হতে পারে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিও।

সোমবার ঢাকার অদূরে টেলিকম ও টেকনোলজি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ—টিআরএনবি আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব কথা উঠে আসে।

কর্মশালায় জানানো হয়, ২০১৩ সালে দেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের ব্যবহার ছিল মাত্র ৫০ জিবিপিএস। ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ দশমিক ৭৮ টেরাবিটে। ২০২৪ সালে ৬ দশমিক ৮৬ এবং ২০২৬ সালে প্রায় ১৩ দশমিক ৫ টেরাবিটে পৌঁছেছে। অর্থাৎ ১৩ বছরে ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ২৬০ গুণ।

খাতসংশ্লিষ্টদের পূর্বাভাস, ২০২৮ সালে চাহিদা প্রায় ২৭ টেরাবিটে এবং ২০৩০ সালে ৫৪ টেরাবিটে পৌঁছাতে পারে। ২০৩৫ সালে তা ৩০৫ এবং ২০৩৬ সালে ৪৩২ টেরাবিট ছাড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। ভিডিও স্ট্রিমিং, ক্লাউড সেবা, ডেটা সেন্টার, এআই, অনলাইন শিক্ষা ও ডিজিটাল পেমেন্টের বিস্তারের কারণে চাহিদা আরও বাড়তে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সংযোগের প্রধান ভরসা সি-মি-উই-৪ ও সি-মি-উই-৫—এই দুটি সরকারি সাবমেরিন ক্যাবল। সংশ্লিষ্টদের মতে, মাত্র দুটি ক্যাবলের ওপর নির্ভরতা দেশের ইন্টারনেট অবকাঠামোকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

সরকারের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সি-মি-উই-৬ বাস্তবায়নাধীন হলেও দীর্ঘমেয়াদি চাহিদার জন্য এটি যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন তারা। এমনকি ২০২৮ সালেই প্রায় ২০ টেরাবিট ব্যান্ডউইথ ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে এই ঘাটতির আশঙ্কা নাকচ করেছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বর্তমানে ব্যান্ডউইথ সরবরাহে কোনো সংকট নেই এবং সি-মি-উই-৬ চালু হলে সক্ষমতা আরও বাড়বে।

কর্মশালায় বেসরকারি খাতে নতুন সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের অনুমোদনের দাবি জানানো হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রস্তাবিত ক্যাবলগুলো চালু হলে প্রায় ৫১ টেরাবিট অতিরিক্ত সক্ষমতা যুক্ত হতে পারে। এতে প্রতিযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি ব্যান্ডউইথের দাম কমানো এবং ইন্টারনেটের মান উন্নত করার সুযোগ তৈরি হবে।

বক্তারা বলেন, ব্যান্ডউইথ সংকট দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নিলে কাঙ্ক্ষিত সময়ে নতুন সক্ষমতা পাওয়া কঠিন হবে। তাই ২০৩০ ও ২০৩৫ সালের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এখনই দীর্ঘমেয়াদি সাবমেরিন ক্যাবল পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার তাগিদ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্যাডেল রিকশা বন্ধ করে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালু করতে আইনি নোটিশ

দেশের ইন্টারনেট নিয়ে বড় বিপদের শ’ঙ্কা

আপডেট সময় ০৫:২৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দ্রুত বাড়ছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের চাহিদা। কিন্তু সেই তুলনায় নতুন সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা থাকায় আগামী দিনে বড় ধরনের অবকাঠামোগত সংকটের আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। সময়মতো নতুন সক্ষমতা যুক্ত করা না গেলে ব্যান্ডউইথ ঘাটতির কারণে বাধাগ্রস্ত হতে পারে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিও।

সোমবার ঢাকার অদূরে টেলিকম ও টেকনোলজি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ—টিআরএনবি আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব কথা উঠে আসে।

কর্মশালায় জানানো হয়, ২০১৩ সালে দেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের ব্যবহার ছিল মাত্র ৫০ জিবিপিএস। ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ দশমিক ৭৮ টেরাবিটে। ২০২৪ সালে ৬ দশমিক ৮৬ এবং ২০২৬ সালে প্রায় ১৩ দশমিক ৫ টেরাবিটে পৌঁছেছে। অর্থাৎ ১৩ বছরে ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ২৬০ গুণ।

খাতসংশ্লিষ্টদের পূর্বাভাস, ২০২৮ সালে চাহিদা প্রায় ২৭ টেরাবিটে এবং ২০৩০ সালে ৫৪ টেরাবিটে পৌঁছাতে পারে। ২০৩৫ সালে তা ৩০৫ এবং ২০৩৬ সালে ৪৩২ টেরাবিট ছাড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। ভিডিও স্ট্রিমিং, ক্লাউড সেবা, ডেটা সেন্টার, এআই, অনলাইন শিক্ষা ও ডিজিটাল পেমেন্টের বিস্তারের কারণে চাহিদা আরও বাড়তে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সংযোগের প্রধান ভরসা সি-মি-উই-৪ ও সি-মি-উই-৫—এই দুটি সরকারি সাবমেরিন ক্যাবল। সংশ্লিষ্টদের মতে, মাত্র দুটি ক্যাবলের ওপর নির্ভরতা দেশের ইন্টারনেট অবকাঠামোকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

সরকারের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সি-মি-উই-৬ বাস্তবায়নাধীন হলেও দীর্ঘমেয়াদি চাহিদার জন্য এটি যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন তারা। এমনকি ২০২৮ সালেই প্রায় ২০ টেরাবিট ব্যান্ডউইথ ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে এই ঘাটতির আশঙ্কা নাকচ করেছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বর্তমানে ব্যান্ডউইথ সরবরাহে কোনো সংকট নেই এবং সি-মি-উই-৬ চালু হলে সক্ষমতা আরও বাড়বে।

কর্মশালায় বেসরকারি খাতে নতুন সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের অনুমোদনের দাবি জানানো হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রস্তাবিত ক্যাবলগুলো চালু হলে প্রায় ৫১ টেরাবিট অতিরিক্ত সক্ষমতা যুক্ত হতে পারে। এতে প্রতিযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি ব্যান্ডউইথের দাম কমানো এবং ইন্টারনেটের মান উন্নত করার সুযোগ তৈরি হবে।

বক্তারা বলেন, ব্যান্ডউইথ সংকট দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নিলে কাঙ্ক্ষিত সময়ে নতুন সক্ষমতা পাওয়া কঠিন হবে। তাই ২০৩০ ও ২০৩৫ সালের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এখনই দীর্ঘমেয়াদি সাবমেরিন ক্যাবল পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার তাগিদ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।