ঢাকা , বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
চলন্ত ট্রেনের ক্যান্টিনে নারীকে ধ/র্ষণ, চার পুলিশ সদস্যের বি’রু’দ্ধে ব্যবস্থা গ্যাস না পেয়ে সিএনজি চালকদের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ চিকিৎসাধীন বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন কমলো এলপিজির দাম, সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড ব্যবস্থা আরও সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির কুয়াকাটায় থেরাপি দিতে গিয়ে নবজাতকের পা ভাঙলেন নার্স কারাগারে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি সাংবাদিক ফারজানা রুপা শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’, আটকে গেলো ছাত্রের সার্টিফিকেট আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে: দুদক মুখপাত্র সাহায্য নয়, ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল; নজরে ভারতসহ তিন দেশ

শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’, আটকে গেলো ছাত্রের সার্টিফিকেট

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৩২:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেওয়াকে অশোভন আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারী শিক্ষক ও বিভাগীয় সূত্রের দাবি, ইন্টার্নশিপের ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান শিক্ষককে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি মেসেজ দেন। পরে শিক্ষক তার জবাব দিলে ওই মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেন শিক্ষার্থী। এটিকে শিক্ষকের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে অভিযোগ করা হয়।

জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগারের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ রেজিস্ট্রার দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। এতে সহযোগী অধ্যাপক মাশিয়াত যাহিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগটি বিভাগীয় প্রধানকে জানান বলে উল্লেখ করা হয়। পরে বিষয়টি একাডেমিক সভায় আলোচনা শেষে রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, এমবিএ ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান ইন্টার্নশিপে যথাযথ মনোযোগ ও আন্তরিকতা দেখাননি এবং নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে প্রতিবেদন জমা দেন। এরপরও শিক্ষাজীবনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয় এবং প্রচলিত মূল্যায়ন পদ্ধতি ও প্রতিবেদনের মান অনুযায়ী তাকে নম্বর দেওয়া হয়।

অভিযোগকারী শিক্ষক মাশিয়াত যাহিন বলেন, ঘটনাটি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে রেজিস্ট্রারকে জানানো হয়েছে। এখন বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান বলেন, সার্টিফিকেট নিতে বিভাগে গেলে তাকে জানানো হয়, অভিযোগের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, শিক্ষককে ধন্যবাদ জানিয়ে মেসেজ দেওয়ার পর শিক্ষক জবাব দিলে সেখানে তিনি ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেন। এখন একটি রিঅ্যাক্টের কারণে সার্টিফিকেট আটকে রাখা যায় কি না—সেটিই তার প্রশ্ন। ইন্টার্নশিপে কম নম্বর দেওয়ার বিষয়ে তার কোনো অভিযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

এদিকে, মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগার বলেন, শিক্ষকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগে বিষয়টি রেজিস্ট্রার দপ্তরে জানানো হয়েছে। তবে সার্টিফিকেট আটকে রাখার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী বলেন, এ ধরনের ঘটনায় সরাসরি সার্টিফিকেট আটকে রাখা যায় না। তবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে সাময়িকভাবে সার্টিফিকেট আটকে রাখার সুপারিশ করতে পারে।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার জানান, তারা অভিযোগটি পেয়েছেন। বিষয়টি উপ-উপাচার্যের কাছে পাঠানো হবে এবং তিনি এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।

একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ থেকে তৈরি হওয়া এই অভিযোগ এখন গড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে। সার্টিফিকেট আটকে রাখার বিষয়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চলন্ত ট্রেনের ক্যান্টিনে নারীকে ধ/র্ষণ, চার পুলিশ সদস্যের বি’রু’দ্ধে ব্যবস্থা

শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’, আটকে গেলো ছাত্রের সার্টিফিকেট

আপডেট সময় ০৪:৩২:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেওয়াকে অশোভন আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারী শিক্ষক ও বিভাগীয় সূত্রের দাবি, ইন্টার্নশিপের ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান শিক্ষককে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি মেসেজ দেন। পরে শিক্ষক তার জবাব দিলে ওই মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেন শিক্ষার্থী। এটিকে শিক্ষকের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে অভিযোগ করা হয়।

জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগারের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ রেজিস্ট্রার দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। এতে সহযোগী অধ্যাপক মাশিয়াত যাহিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগটি বিভাগীয় প্রধানকে জানান বলে উল্লেখ করা হয়। পরে বিষয়টি একাডেমিক সভায় আলোচনা শেষে রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, এমবিএ ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান ইন্টার্নশিপে যথাযথ মনোযোগ ও আন্তরিকতা দেখাননি এবং নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে প্রতিবেদন জমা দেন। এরপরও শিক্ষাজীবনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয় এবং প্রচলিত মূল্যায়ন পদ্ধতি ও প্রতিবেদনের মান অনুযায়ী তাকে নম্বর দেওয়া হয়।

অভিযোগকারী শিক্ষক মাশিয়াত যাহিন বলেন, ঘটনাটি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে রেজিস্ট্রারকে জানানো হয়েছে। এখন বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান বলেন, সার্টিফিকেট নিতে বিভাগে গেলে তাকে জানানো হয়, অভিযোগের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, শিক্ষককে ধন্যবাদ জানিয়ে মেসেজ দেওয়ার পর শিক্ষক জবাব দিলে সেখানে তিনি ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেন। এখন একটি রিঅ্যাক্টের কারণে সার্টিফিকেট আটকে রাখা যায় কি না—সেটিই তার প্রশ্ন। ইন্টার্নশিপে কম নম্বর দেওয়ার বিষয়ে তার কোনো অভিযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

এদিকে, মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগার বলেন, শিক্ষকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগে বিষয়টি রেজিস্ট্রার দপ্তরে জানানো হয়েছে। তবে সার্টিফিকেট আটকে রাখার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী বলেন, এ ধরনের ঘটনায় সরাসরি সার্টিফিকেট আটকে রাখা যায় না। তবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে সাময়িকভাবে সার্টিফিকেট আটকে রাখার সুপারিশ করতে পারে।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার জানান, তারা অভিযোগটি পেয়েছেন। বিষয়টি উপ-উপাচার্যের কাছে পাঠানো হবে এবং তিনি এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।

একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ থেকে তৈরি হওয়া এই অভিযোগ এখন গড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে। সার্টিফিকেট আটকে রাখার বিষয়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।