ঢাকা , বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
কমলো এলপিজির দাম, সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড ব্যবস্থা আরও সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির কুয়াকাটায় থেরাপি দিতে গিয়ে নবজাতকের পা ভাঙলেন নার্স কারাগারে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি সাংবাদিক ফারজানা রুপা শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’, আটকে গেলো ছাত্রের সার্টিফিকেট আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে: দুদক মুখপাত্র সাহায্য নয়, ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল; নজরে ভারতসহ তিন দেশ টানাপোড়েনের মধ্যেও এগিয়েছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: স্পিকার ইরানের নির্দেশনা অমান্য করে হরমুজে চলাচল, মাইন বিস্ফোরণে ধ্বংস ২ জাহাজ বাড়ল বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম

সাহায্য নয়, ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল; নজরে ভারতসহ তিন দেশ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:১৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত নেপাল। প্রতিবেশী দেশটির পাশে দাঁড়িয়ে ভারত ইতোমধ্যে দুই দফায় প্রায় সাড়ে ৪৭ টন ত্রাণ পাঠিয়েছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজে করে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে নেপালে।

তবে এর মধ্যেই বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর কাছে জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দাবি করার কথা জানিয়েছে কাঠমান্ডু।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের বক্তব্য ঘিরে এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কান্তিপুর টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নেপালের বর্তমান বিপর্যয়কে শুধু আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখলে হবে না। জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবেই হিমালয়ের দেশটি বারবার বন্যা, হড়পা বান ও ভূমিধসের মুখে পড়ছে।

শিশির খানাল জানান, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেপালের কূটনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এতদিন আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি সামনে আনা হতে পারে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি দাতব্যের বিষয় নয়; বরং আইনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়। তার যুক্তি, জলবায়ু সংকট তৈরিতে নেপালের অবদান খুবই সামান্য। অথচ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাবগুলোর একটি পড়ছে নেপালের মতো পাহাড়ি দেশগুলোর ওপর।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করার বিষয়টি বিবেচনা করছে কাঠমান্ডু। এসব দেশের শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের প্রভাব হিমবাহ, নদী, পাহাড় ও বর্ষার স্বাভাবিক ব্যবস্থায় পড়ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় হিমালয় অঞ্চলে হ্রদের পানির স্তর বৃদ্ধি, হড়পা বান ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর একাধিক দুর্যোগও সেই ঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট করেছে।

নেপালের বক্তব্য, দুর্যোগের পর শুধু ত্রাণ পাঠিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি দায়ী দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য অর্থনৈতিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে, দুর্যোগের সময় নেপালকে দ্রুত সহায়তা দিয়েছে ভারত। ত্রাণ নিয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একাধিক উড়ান ইতোমধ্যে দেশটিতে পৌঁছেছে।

তবে নেপালের এই নতুন অবস্থান ভবিষ্যতে ভারতসহ বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর সঙ্গে কাঠমান্ডুর জলবায়ু কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কমলো এলপিজির দাম, সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর

সাহায্য নয়, ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল; নজরে ভারতসহ তিন দেশ

আপডেট সময় ০৪:১৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত নেপাল। প্রতিবেশী দেশটির পাশে দাঁড়িয়ে ভারত ইতোমধ্যে দুই দফায় প্রায় সাড়ে ৪৭ টন ত্রাণ পাঠিয়েছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজে করে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে নেপালে।

তবে এর মধ্যেই বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর কাছে জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দাবি করার কথা জানিয়েছে কাঠমান্ডু।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের বক্তব্য ঘিরে এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কান্তিপুর টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নেপালের বর্তমান বিপর্যয়কে শুধু আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখলে হবে না। জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবেই হিমালয়ের দেশটি বারবার বন্যা, হড়পা বান ও ভূমিধসের মুখে পড়ছে।

শিশির খানাল জানান, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেপালের কূটনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এতদিন আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি সামনে আনা হতে পারে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি দাতব্যের বিষয় নয়; বরং আইনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়। তার যুক্তি, জলবায়ু সংকট তৈরিতে নেপালের অবদান খুবই সামান্য। অথচ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাবগুলোর একটি পড়ছে নেপালের মতো পাহাড়ি দেশগুলোর ওপর।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করার বিষয়টি বিবেচনা করছে কাঠমান্ডু। এসব দেশের শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের প্রভাব হিমবাহ, নদী, পাহাড় ও বর্ষার স্বাভাবিক ব্যবস্থায় পড়ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় হিমালয় অঞ্চলে হ্রদের পানির স্তর বৃদ্ধি, হড়পা বান ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর একাধিক দুর্যোগও সেই ঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট করেছে।

নেপালের বক্তব্য, দুর্যোগের পর শুধু ত্রাণ পাঠিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি দায়ী দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য অর্থনৈতিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে, দুর্যোগের সময় নেপালকে দ্রুত সহায়তা দিয়েছে ভারত। ত্রাণ নিয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একাধিক উড়ান ইতোমধ্যে দেশটিতে পৌঁছেছে।

তবে নেপালের এই নতুন অবস্থান ভবিষ্যতে ভারতসহ বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর সঙ্গে কাঠমান্ডুর জলবায়ু কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।