ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দুই ইউপি সদস্য (মেম্বার) পদপ্রার্থীর আবেদন ছাড়াই তাদের ভোটার এলাকা জাহানপুর ইউনিয়নে স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. শহিদ ও মো. হাছনাইন রোববার সকালে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তারা এ ঘটনার তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগে মো. শহিদ ও মো. হাছনাইন বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা নিজেদের ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। পরে ভোটার তালিকা যাচাই করতে গিয়ে তারা জানতে পারেন, তাদের আবেদন ছাড়াই ভোটার এলাকা হাজারীগঞ্জ ইউনিয়ন থেকে জাহানপুর ইউনিয়নে স্থানান্তর করা হয়েছে। মেম্বার পদে তাদের প্রার্থিতা বাধাগ্রস্ত করতে অর্থের বিনিময়ে এ কাজ করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
অভিযোগকারীরা এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জড়িত থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, লালমোহন নির্বাচন কার্যালয়ের স্ক্যানিং অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স অপারেটর (চরফ্যাশনে সংযুক্ত) সাদ্দাম বকশী এবং সংশ্লিষ্ট ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে সাদ্দাম বকশী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমার ব্যাপার আসলো কেন? আমি তো ভোটার ট্রান্সফার আবেদন জমা রাখিও না, ওই কাজগুলোও করি না।”
অন্যদিকে অভিযোগকারী হাছনাইন মঞ্জু দাবি করেন, সাদ্দাম বকশী তার ভোটার স্থানান্তরের আবেদনটি সেদিন চরফ্যাশন নির্বাচন কার্যালয়ে জমা রেখেছিলেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কয়েকজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সৌমিক রহমান বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। ভোটার স্থানান্তরের আবেদন নিষ্পত্তির শেষ সময় ছিল ১০ সেপ্টেম্বর। বিষয়টি জানার পর ভুক্তভোগীদের ভোটার এলাকা দ্রুত আগের জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের দুটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
সৌমিক রহমান আরও বলেন, “বিষয়টি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, নাকি ভুক্তভোগীরা কোনো অন্যায়ের শিকার হয়েছেন, তা তদন্তের পর বলা যাবে। তদন্তে আমার কার্যালয়ের কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তিনি প্রশিক্ষণ শেষে ফিরে এসে বিষয়টির সমাধান করবেন।
ভোলা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুল হাই আল-হাদী বলেন, ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। ইউএনওর তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















