ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রংপুর জেলা স্টেডিয়াম শহীদ আবু সাঈদের নামে নামকরণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বাংলাদেশে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন এআই ও সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি: ববি হাজ্জাজ যুক্তরাষ্ট্রের হামলার হুমকির পর সামরিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছে ইরানের নারীরাও রাষ্ট্রপতির স্ত্রীও ফ‍্যামিলি কার্ড পাবে, কেউ বাদ যাবে না: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ইয়াবার নামে বিক্রি হচ্ছে ঙের প্রলেপ দেওয়া জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি মার্কিন ও ইসরায়েলি ‘যুদ্ধাপরাধের’ বিচার নিশ্চিত করবে ইরান নিউগিনি প্রোপার্টিজে হামলা, জামায়াত এমপির মেয়ের জামাই গ্রেফতার ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ চট্টগ্রামের মানুষ সবার আগে জান্নাতে যাবে, এরপর অন্য জেলার মানুষ: মাওলানা আতাউল বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ‘গালাগালসহ আপত্তিকর পোস্ট’, আ.লীগের মিছিলের মামলায় এনসিপি নেতা গ্রেফতার

ছোট্ট ‘রাজকন্যা’ বদলে দিল খুঁটিতে বাঁধা অনিকের ভাগ্য

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৩০:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

এবার চুরির অভিযোগে খুঁটিতে বাঁধা অভুক্ত বাবা, তার ‘রাজকন্যা’ তুবা, সঙ্গে এক কাপ চা আর একটি রুটির গল্প পালটে দিয়েছে অনিক ও তার পরিবারের গন্তব্য। তুবার ছোঁয়ায় নতুন জীবন পাওয়া অনিক সিকদার আর কোনো অন্যায় করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলী সুজা। শিশুটির পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা উই আর বাংলাদেশ (ওয়াব) ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অনিককে একটি ভ্যান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এক সময় স্বচ্ছল পরিবার ছিল অনিকদের। বাবার অসুস্থতা বদলে দেয় সেই সংসারের চেহারা। চিকিৎসার খরচ মেটাতে একে একে শেষ হয়ে যায় সঞ্চয় ও সম্পদ। এরপর অভাবের সঙ্গে যুক্ত হয় নানা সংকট। পরিবারের সদস্যরা জানান, অনিক নেশায় জড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় একটি মাদকচক্র তার দুর্বলতার সুযোগ নেয়। এরই মধ্যে শুক্রবার রাতে উজিরপুরের বামরাইল বাজারে চুরির চেষ্টার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে বাজারের একটি খুঁটিতে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে বাবার কাছে ছুটে যায় তার ছোট্ট মেয়েটি। খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অভুক্ত বাবার জন্য এক কাপ চা ও রুটি নিয়ে আসে সে। নিজের ছোট্ট হাতে রুটি টুকরো টুকরো করে বাবার মুখে তুলে দেয়। বাবা কী করেছেন, সেই বিচার করার বয়স তার হয়নি। সে শুধু জানে, তার বাবা ক্ষুধার্ত এবং একা।

অনিকের স্ত্রী বলেন, অভাবের কারণে তাদের সংসারে দীর্ঘদিন নানা সমস্যা চলছিল। মেয়েটি বাবাকে খুব ভালোবাসে। সেদিন বাবাকে ওই অবস্থায় দেখে সে পাশে গিয়ে দাঁড়ায় এবং নিজের হাতে খাবার খাওয়ায়। শিশুটির বাবার মুখে খাবার তুলে দেওয়ার সেই দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। পরে রোববার অনিকের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ইউএনও। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শিশুটির পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি অনিক যাতে কাজ করে সংসার চালাতে পারেন, সে জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইউএনও বলেন, শিশুটির ভবিষ্যৎ যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন পাশে থাকবে। অনিককেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে, অনিকের কর্মসংস্থানের জন্য এগিয়ে এসেছে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা উই আর বাংলাদেশ (ওয়াব) ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির পক্ষ থেকে অনিককে একটি ভ্যান দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি আয় করে পরিবার চালানোর সুযোগ পাবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ওয়াব ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পুলিশ সদস্য এসএম আকবর বলেন, অনিকের প্রয়োজনের সময়ে যতটুকু সহযোগিতা ও সহমর্মিতা প্রয়োজন, আমাদের সংগঠন সামর্থ্য অনুযায়ী তা অব্যাহত রাখবে। অনিক সিকদার বলেন, তার ভুল হয়ে থাকলে তিনি আর কোনো অন্যায় করবেন না। কাজ করে পরিবারকে ভালোভাবে চালাতে চান তিনি। মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সবার সহযোগিতা চান।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুর জেলা স্টেডিয়াম শহীদ আবু সাঈদের নামে নামকরণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

ছোট্ট ‘রাজকন্যা’ বদলে দিল খুঁটিতে বাঁধা অনিকের ভাগ্য

আপডেট সময় ০৯:৩০:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার চুরির অভিযোগে খুঁটিতে বাঁধা অভুক্ত বাবা, তার ‘রাজকন্যা’ তুবা, সঙ্গে এক কাপ চা আর একটি রুটির গল্প পালটে দিয়েছে অনিক ও তার পরিবারের গন্তব্য। তুবার ছোঁয়ায় নতুন জীবন পাওয়া অনিক সিকদার আর কোনো অন্যায় করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলী সুজা। শিশুটির পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা উই আর বাংলাদেশ (ওয়াব) ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অনিককে একটি ভ্যান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এক সময় স্বচ্ছল পরিবার ছিল অনিকদের। বাবার অসুস্থতা বদলে দেয় সেই সংসারের চেহারা। চিকিৎসার খরচ মেটাতে একে একে শেষ হয়ে যায় সঞ্চয় ও সম্পদ। এরপর অভাবের সঙ্গে যুক্ত হয় নানা সংকট। পরিবারের সদস্যরা জানান, অনিক নেশায় জড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় একটি মাদকচক্র তার দুর্বলতার সুযোগ নেয়। এরই মধ্যে শুক্রবার রাতে উজিরপুরের বামরাইল বাজারে চুরির চেষ্টার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে বাজারের একটি খুঁটিতে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে বাবার কাছে ছুটে যায় তার ছোট্ট মেয়েটি। খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অভুক্ত বাবার জন্য এক কাপ চা ও রুটি নিয়ে আসে সে। নিজের ছোট্ট হাতে রুটি টুকরো টুকরো করে বাবার মুখে তুলে দেয়। বাবা কী করেছেন, সেই বিচার করার বয়স তার হয়নি। সে শুধু জানে, তার বাবা ক্ষুধার্ত এবং একা।

অনিকের স্ত্রী বলেন, অভাবের কারণে তাদের সংসারে দীর্ঘদিন নানা সমস্যা চলছিল। মেয়েটি বাবাকে খুব ভালোবাসে। সেদিন বাবাকে ওই অবস্থায় দেখে সে পাশে গিয়ে দাঁড়ায় এবং নিজের হাতে খাবার খাওয়ায়। শিশুটির বাবার মুখে খাবার তুলে দেওয়ার সেই দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। পরে রোববার অনিকের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ইউএনও। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শিশুটির পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি অনিক যাতে কাজ করে সংসার চালাতে পারেন, সে জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইউএনও বলেন, শিশুটির ভবিষ্যৎ যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন পাশে থাকবে। অনিককেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে, অনিকের কর্মসংস্থানের জন্য এগিয়ে এসেছে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা উই আর বাংলাদেশ (ওয়াব) ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির পক্ষ থেকে অনিককে একটি ভ্যান দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি আয় করে পরিবার চালানোর সুযোগ পাবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ওয়াব ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পুলিশ সদস্য এসএম আকবর বলেন, অনিকের প্রয়োজনের সময়ে যতটুকু সহযোগিতা ও সহমর্মিতা প্রয়োজন, আমাদের সংগঠন সামর্থ্য অনুযায়ী তা অব্যাহত রাখবে। অনিক সিকদার বলেন, তার ভুল হয়ে থাকলে তিনি আর কোনো অন্যায় করবেন না। কাজ করে পরিবারকে ভালোভাবে চালাতে চান তিনি। মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সবার সহযোগিতা চান।