বাংলাদেশের আলোচিত চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নিয়ে আবেগঘন এক বিশ্লেষণধর্মী ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। পোস্টে তিনি চলচ্চিত্রটিকে কেবল একটি ট্রেনভিত্তিক গল্প নয়, বরং মানবজীবনের সুখ-দুঃখ, হারানো-পাওয়া এবং জন্ম-মৃত্যুর প্রতীকী প্রতিচ্ছবি হিসেবে তুলে ধরেছেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, বনলতা এক্সপ্রেসকে দেখার পর সেটিকে আর সাধারণ ট্রেন মনে হয় না; বরং এটি হয়ে ওঠে মানুষের বেদনা ও অভিজ্ঞতায় ভরা এক জীবন্ত বাহন। তার ভাষায়, ট্রেনের প্রতিটি বগি যেন একেকটি মানুষের গল্প, একেকটি দুঃখের ভার বহন করে চলেছে।
পোস্টে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন চরিত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ডাক্তার আশাবের হতাশা, গণিতের অধ্যাপক রশিদ উদ্দিনের সন্তানহারা বেদনা, মন্ত্রী আবুল খায়েরের নিঃসঙ্গতা কিংবা মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা আজিজের জীবনের হিসাব—সবকিছু মিলিয়ে চলচ্চিত্রটি মানুষের অস্তিত্বের গভীর প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি দাঁড় করায়।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন গণিতের অধ্যাপকের সেই সংলাপ—“ম্যাথ আমার হাতে নাই।” এই সংলাপকে কেন্দ্র করে হাসনাত প্রশ্ন তোলেন, জীবনের হিসাব কি আদৌ মানুষের হাতে থাকে, নাকি সব হিসাবের নিয়ন্ত্রণ অন্য কোনো শক্তির হাতে ন্যস্ত?
পোস্টের এক পর্যায়ে তিনি জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময়কে জীবনের প্রকৃত যাত্রা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তার ভাষায়, মানুষের জন্মের সময় কানে আজান দেওয়া হয়, আর মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত হয় জানাজার নামাজ। এই দুই ঘটনার মধ্যবর্তী সময়টুকুই মানুষের জীবন, যেখানে রয়েছে সংগ্রাম, ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, অর্জন ও বেদনার গল্প।
বনলতা এক্সপ্রেসকে একটি ক্ষুদ্র পৃথিবীর সঙ্গে তুলনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, একই ট্রেনে যেমন কারও জীবনের সমাপ্তি ঘটে, তেমনি অন্য কারও নতুন জীবনের সূচনা হয়। একদিকে থাকে সন্তানের কফিন, অন্যদিকে নবজীবনের স্বপ্ন; একদিকে হারানোর বেদনা, অন্যদিকে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি।
পোস্টের শেষাংশে তিনি জীবনের অবিরাম চলমানতার কথা তুলে ধরেন। তার মতে, মানুষ বারবার ভেঙে পড়লেও আবার উঠে দাঁড়ায়। দুঃখ, ব্যর্থতা ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই জীবন এগিয়ে চলে। আর এই চলমানতাই মানবজীবনের সবচেয়ে বড় সত্য।
হাসনাত আবদুল্লাহর ভাষায়, “বনলতা এক্সপ্রেসকে কেউ থামাতে পারে না। কারণ এই ট্রেন মানবজীবনেরই প্রতিচ্ছবি, যেখানে স্থবিরতা নয়, রূপান্তরই চূড়ান্ত সত্য।”

ডেস্ক রিপোর্ট 






















