মধ্যপ্রাচ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান, অন্যদিকে কুয়েত দাবি করেছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন প্রতিহত করছে। একই সময়ে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনার খবর নাকচ করেছে। এছাড়া ওমান উপকূলে একটি তেলবাহী ট্যাংকার অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামুদ্রিক অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে শুধু হরমুজ প্রণালিই নয়, আরও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর পড়বে।
এদিকে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন প্রতিহত করেছে। সামরিক বাহিনীর দাবি, স্থানীয়ভাবে শোনা বিস্ফোরণের শব্দ ড্রোন ধ্বংসের সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যক্রমের ফল। এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী দক্ষিণ লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে হুতি-নিয়ন্ত্রিত হিউম্যানিটারিয়ান অপারেশনস কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এইচওসিসি) এ দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে কোনো ধরনের ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি। তাদের নিরাপদ চলাচল সহায়তা সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়।
এদিকে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি দাবি করেছেন, তাদের ঘোষিত সামুদ্রিক অবরোধের কারণে সৌদি আরবের আটটি তেলবাহী ট্যাংকার বাব আল-মান্দাব প্রণালি এড়িয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে চলাচল করছে।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমানের লিমা উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকার অজ্ঞাত একটি বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। তবে ঘটনায় কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















