যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই ফিলিস্তিনের গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সোমবার (৩১ আগস্ট) গাজার বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা শহরের একটি পৌর পাবলিক পার্কের কাছে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর অবস্থান করা এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুজন নিহত হন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া গাজা শহরের পশ্চিমাঞ্চলের তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি গাড়ি লক্ষ্য করে পৃথক বিমান হামলা চালানো হয়। এতে আরও তিনজন নিহত হন।
নিহতদের মধ্যে দুজনের মরদেহ সোমবার আল-শিফা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে স্বজন ও বন্ধুরা তাদের শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে মরদেহগুলো দাফনের জন্য কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে রোববার মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় হামলায় তিন বছর বয়সী এক শিশুসহ দুজন নিহত হন। শনিবারের হামলায়ও অন্তত চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
নিহত এক ব্যক্তির আত্মীয় আমজাদ আবু আবদো রয়টার্সকে বলেন, গাজায় কার্যত কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে সেখানকার মানুষের একটি দিনও স্বাভাবিক কাটেনি। ড্রোনের শব্দ ও হামলার আতঙ্কে মানুষ ঘুমাতেও পারছেন না বলে জানান তিনি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৩১৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এদিকে ফিলিস্তিনি নিখোঁজ ও জোরপূর্বক নিখোঁজ ব্যক্তিদের কেন্দ্র জানিয়েছে, গাজায় এখনো ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে তাদের পাঁচ সেনা সদস্য ও একজন বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৩ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ জন আহত হয়েছেন। হতাহতদের বড় একটি অংশ নারী ও শিশু।

ডেস্ক রিপোর্ট 




















