ঢাকা , রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঘরজামাই দত্তক নিচ্ছে জাপানের ধনী পরিবারগুলো, আবেদন করতে পারবে বাংলাদেশিরাও ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করার আহ্বান স্পিকারের যুবদল নেতা নয়নের ‘দাড়িওয়ালাদের আস্তানা’ স্লোগানের প্রতিবাদ জামায়াতের পাকিস্তানের ‘স্বৈরাচারীদের’ রুখে দেওয়ার আহ্বান ইমরান খানের ছেলের বাবার কষ্টের দিন শেষ করার স্বপ্ন, নিয়োগের আগেই থামল সোহানের পথ কেউ চাঁদা চাইলে থানায় সোপর্দ করবেন: ধর্মমন্ত্রী এবার মোহাম্মদপুরে জমি দখলের চেষ্টা, অফিসে হামলা-ভাঙচুর নিরাপত্তা জোরদারে সামরিক সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরাল ইরান একতরফা সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে চীন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের জোরালো আহ্বান বর্তমান সরকার যুবকদের লুটতরাজের জন্য দলীয় ক্যাডার বানাচ্ছে: সাবেক শিবির সভাপতি

৭২ বছরের ইমামতি শেষে আবেগঘন বিদায়, আজীবন বসবেন ইতিকাফে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:০৪:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪৪১ বার পড়া হয়েছে

একই মসজিদ, প্রজন্মের পর প্রজন্মের মুসল্লি আর টানা সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে একই কণ্ঠের খুতবা—গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) শেষ হলো এক স্মরণীয় অধ্যায়। দীর্ঘ ৭২ বছর ১ দিন ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে জুমার নামাজের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন আলহাজ্ব মাওলানা আবদুল হক পীর সাহেব। বিদায়ী খুতবার সময় আবেগ সামলাতে না পেরে কণ্ঠ ভারী হয়ে ওঠে তার।
মসজিদ কমিটি সূত্র জানায়, ১৯৫৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর মাত্র ১৩ বছর বয়সে গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মাওলানা আবদুল হক। তখন তিনি সোনাকান্দা দারুল হুদা মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সেই কৈশোরেই শুরু হয় নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও আস্থার এক দীর্ঘ পথচলা—যার পরিসমাপ্তি ঘটল টানা ৭২ বছরের নিরবচ্ছিন্ন সেবায়।
বর্তমানে তার বয়স ৮৭ বছর ২ মাস। বয়সজনিত কারণে খতিবের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও মসজিদের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক অটুট থাকছে। মসজিদ সূত্রে জানা গেছে, তিনি নিয়মিত জুমার নামাজে অংশ নেবেন এবং জীবদ্দশায় রমজান মাসে এখানেই ইতেকাফ পালন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তারই ছেলে আব্দুল কাদির। তিনি বলেন, “বাবার জীবনের বড় একটি অংশ এই মসজিদের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। এমন বিদায় সহজ ছিল না।”
মসজিদ কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, “১৩ বছর বয়সে যিনি ইমামতি শুরু করেছেন, এমন নজির এখন কল্পনাও করা কঠিন। এই মসজিদে ইমামতি ছিল পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ—তার দাদা, বাবা, চাচা এবং সবশেষে তিনি নিজে। টানা ৭২ বছর মুসল্লিরা তার পেছনে নামাজ আদায় করেছেন—এটা নিঃসন্দেহে ইতিহাস।”
মুসল্লিদের ভাষ্য, আলহাজ্ব মাওলানা আবদুল হক পীর সাহেব শুধু একজন ইমাম নন—তিনি স্মৃতি, বিশ্বাস ও ভালোবাসার এক জীবন্ত অধ্যায়। গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইতিহাসে তার নাম চিরকাল লেখা থাকবে দোয়া আর কৃতজ্ঞতার

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘরজামাই দত্তক নিচ্ছে জাপানের ধনী পরিবারগুলো, আবেদন করতে পারবে বাংলাদেশিরাও

৭২ বছরের ইমামতি শেষে আবেগঘন বিদায়, আজীবন বসবেন ইতিকাফে

আপডেট সময় ০৯:০৪:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

একই মসজিদ, প্রজন্মের পর প্রজন্মের মুসল্লি আর টানা সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে একই কণ্ঠের খুতবা—গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) শেষ হলো এক স্মরণীয় অধ্যায়। দীর্ঘ ৭২ বছর ১ দিন ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে জুমার নামাজের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন আলহাজ্ব মাওলানা আবদুল হক পীর সাহেব। বিদায়ী খুতবার সময় আবেগ সামলাতে না পেরে কণ্ঠ ভারী হয়ে ওঠে তার।
মসজিদ কমিটি সূত্র জানায়, ১৯৫৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর মাত্র ১৩ বছর বয়সে গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মাওলানা আবদুল হক। তখন তিনি সোনাকান্দা দারুল হুদা মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সেই কৈশোরেই শুরু হয় নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও আস্থার এক দীর্ঘ পথচলা—যার পরিসমাপ্তি ঘটল টানা ৭২ বছরের নিরবচ্ছিন্ন সেবায়।
বর্তমানে তার বয়স ৮৭ বছর ২ মাস। বয়সজনিত কারণে খতিবের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও মসজিদের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক অটুট থাকছে। মসজিদ সূত্রে জানা গেছে, তিনি নিয়মিত জুমার নামাজে অংশ নেবেন এবং জীবদ্দশায় রমজান মাসে এখানেই ইতেকাফ পালন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তারই ছেলে আব্দুল কাদির। তিনি বলেন, “বাবার জীবনের বড় একটি অংশ এই মসজিদের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। এমন বিদায় সহজ ছিল না।”
মসজিদ কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, “১৩ বছর বয়সে যিনি ইমামতি শুরু করেছেন, এমন নজির এখন কল্পনাও করা কঠিন। এই মসজিদে ইমামতি ছিল পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ—তার দাদা, বাবা, চাচা এবং সবশেষে তিনি নিজে। টানা ৭২ বছর মুসল্লিরা তার পেছনে নামাজ আদায় করেছেন—এটা নিঃসন্দেহে ইতিহাস।”
মুসল্লিদের ভাষ্য, আলহাজ্ব মাওলানা আবদুল হক পীর সাহেব শুধু একজন ইমাম নন—তিনি স্মৃতি, বিশ্বাস ও ভালোবাসার এক জীবন্ত অধ্যায়। গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইতিহাসে তার নাম চিরকাল লেখা থাকবে দোয়া আর কৃতজ্ঞতার