ঢাকা , মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

‘ফিঙ্গার প্রিন্ট’ দিয়ে নামাজ আদায় করে এই মসজিদে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:৫৯:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র কুরআনে মুসলমানদের সালাত স্থাপন করতে বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তবে দুনিয়ার মোহে পড়ে অনেকেই নামাজ এড়িয়ে চলছেন। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জিন্দাপার্ক মসজিদে নতুনভাবে নামাজে উদ্বুদ্ধ করতে বসানো হয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, যা স্থানীয় সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। নামাজে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে এটি নজর কাড়ছে সবার।

 

এখানে নামাজ পড়লেই হয় না, উপস্থিতি রেকর্ড করা হয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ডিজিটাল হাজিরার মাধ্যমে। আর সেই হাজিরা থেকে তৈরি হয় এক ধরনের ‘আমলনামা’। মাসের শেষে স্টাফরা নিজেরাই দেখতে পারেন, মাসে কত ওয়াক্ত নামাজ তারা পড়েছেন।

 

এই নিয়ম জিন্দা পার্কের স্টাফ ও পার্কের ভেতরে অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য। পার্কে কর্মরত কেউ যদি নিয়মিত নামাজ না পড়েন, তাহলে তার বেতনের নির্দিষ্ট অংশ কেটে নেওয়া হয়। আবার যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন, তারা পান বিশেষ প্রণোদনা। মসজিদ কর্তৃপক্ষের ভাষায়, এ ব্যবস্থা মূলত ধর্মীয় অনুশাসনের পাশাপাশি সততা ও নৈতিকতার চর্চা বাড়ানোর জন্য।

 

২০০৮ সালে অগ্রপথিক পল্লী সমিতির উদ্যোগে গড়ে তোলা হয় এই মসজিদটি। সমিতির লক্ষ্য ছিল, এলাকার মানুষকে ধর্মভীরু ও নৈতিকভাবে সচেতন করে একটি আদর্শ সমাজ গড়ে তোলা।

 

 

মসজিদে ঢুকতেই চোখে পড়ে প্রবেশদ্বারের মুখে তিনটি ছোট গম্বুজ। আর মূল দালানের ওপর রয়েছে একটি বড় গম্বুজ। দূর থেকেই মসজিদের সৌন্দর্য নজর কাড়ে। মসজিদের সামনের খোলা ময়দান নামাজের সময় ভরে ওঠে মুসল্লিদের সমাগমে। উত্তরের দিকে রয়েছে অজুখানা ও হাম্মামখানা। একই পাশে রয়েছে নারীদের জন্য আলাদা নামাজের স্থান।

 

এর বিশেষত্ব হলো, মসজিদে কোনো দরজা-জানালা নেই। এটি পুরোপুরি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে যাতে গরমের সময়ও ভেতরে শীতল পরিবেশ থাকে। পাশাপাশি, যেকোনো সময় মুসল্লিরা অবাধে মসজিদে প্রবেশ করে নামাজ আদায় করতে পারেন।

 

প্রবেশদ্বারের পাল্লাগুলো তৈরি হয়েছে লোহা কাঠ দিয়ে। মসজিদের ভেতরের মেঝেতে ব্যবহার করা হয়েছে দামি সেগুন কাঠ। পুরো মসজিদে রয়েছে ৯টি প্রবেশদ্বার। মসজিদের দেয়ালে খেজুরগাছের নকশা খোদাই করে আঁকা হয়েছে, যা মোঘল আমলের স্থাপত্যশৈলীর ছোঁয়া এনে দিয়েছে।

 

এই মসজিদে ঢুকে নামাজ পড়তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে হয়। জিন্দা পার্কের স্টাফ ও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিটি ওয়াক্ত নামাজে হাজিরা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙাতে গিয়ে মৌমাছির কামড়ে সমর্থক আহত

‘ফিঙ্গার প্রিন্ট’ দিয়ে নামাজ আদায় করে এই মসজিদে

আপডেট সময় ০৮:৫৯:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

পবিত্র কুরআনে মুসলমানদের সালাত স্থাপন করতে বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তবে দুনিয়ার মোহে পড়ে অনেকেই নামাজ এড়িয়ে চলছেন। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জিন্দাপার্ক মসজিদে নতুনভাবে নামাজে উদ্বুদ্ধ করতে বসানো হয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, যা স্থানীয় সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। নামাজে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে এটি নজর কাড়ছে সবার।

 

এখানে নামাজ পড়লেই হয় না, উপস্থিতি রেকর্ড করা হয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ডিজিটাল হাজিরার মাধ্যমে। আর সেই হাজিরা থেকে তৈরি হয় এক ধরনের ‘আমলনামা’। মাসের শেষে স্টাফরা নিজেরাই দেখতে পারেন, মাসে কত ওয়াক্ত নামাজ তারা পড়েছেন।

 

এই নিয়ম জিন্দা পার্কের স্টাফ ও পার্কের ভেতরে অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য। পার্কে কর্মরত কেউ যদি নিয়মিত নামাজ না পড়েন, তাহলে তার বেতনের নির্দিষ্ট অংশ কেটে নেওয়া হয়। আবার যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন, তারা পান বিশেষ প্রণোদনা। মসজিদ কর্তৃপক্ষের ভাষায়, এ ব্যবস্থা মূলত ধর্মীয় অনুশাসনের পাশাপাশি সততা ও নৈতিকতার চর্চা বাড়ানোর জন্য।

 

২০০৮ সালে অগ্রপথিক পল্লী সমিতির উদ্যোগে গড়ে তোলা হয় এই মসজিদটি। সমিতির লক্ষ্য ছিল, এলাকার মানুষকে ধর্মভীরু ও নৈতিকভাবে সচেতন করে একটি আদর্শ সমাজ গড়ে তোলা।

 

 

মসজিদে ঢুকতেই চোখে পড়ে প্রবেশদ্বারের মুখে তিনটি ছোট গম্বুজ। আর মূল দালানের ওপর রয়েছে একটি বড় গম্বুজ। দূর থেকেই মসজিদের সৌন্দর্য নজর কাড়ে। মসজিদের সামনের খোলা ময়দান নামাজের সময় ভরে ওঠে মুসল্লিদের সমাগমে। উত্তরের দিকে রয়েছে অজুখানা ও হাম্মামখানা। একই পাশে রয়েছে নারীদের জন্য আলাদা নামাজের স্থান।

 

এর বিশেষত্ব হলো, মসজিদে কোনো দরজা-জানালা নেই। এটি পুরোপুরি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে যাতে গরমের সময়ও ভেতরে শীতল পরিবেশ থাকে। পাশাপাশি, যেকোনো সময় মুসল্লিরা অবাধে মসজিদে প্রবেশ করে নামাজ আদায় করতে পারেন।

 

প্রবেশদ্বারের পাল্লাগুলো তৈরি হয়েছে লোহা কাঠ দিয়ে। মসজিদের ভেতরের মেঝেতে ব্যবহার করা হয়েছে দামি সেগুন কাঠ। পুরো মসজিদে রয়েছে ৯টি প্রবেশদ্বার। মসজিদের দেয়ালে খেজুরগাছের নকশা খোদাই করে আঁকা হয়েছে, যা মোঘল আমলের স্থাপত্যশৈলীর ছোঁয়া এনে দিয়েছে।

 

এই মসজিদে ঢুকে নামাজ পড়তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে হয়। জিন্দা পার্কের স্টাফ ও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিটি ওয়াক্ত নামাজে হাজিরা দেওয়া বাধ্যতামূলক।