ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আজ রাতে খালি চোখে দেখা যাবে পারসেইড উল্কাবৃষ্টি মুয়াজ্জিনের তালিকায় নাম না দেওয়ায় ইমামকে হাতুড়িপেটার অভিযোগ যন্তর মন্তর ‘সিজন-টু’ শুরুর হুঁশিয়ারি ককরোচ জনতা পার্টির অভিজিৎ দীপকের ২০২৭ সালের মধ্যে বসিলা ও রায়েরবাজারে হবে আলাদা থানা: ববি হাজ্জাজ অতিরিক্ত যাত্রী, বড় ঢেউ; জিম্বাবুয়েতে ফেরি দুর্ঘটনায় নিহত ৪৪ বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা নারী, যুবলীগ কর্মী গ্রেফতার বিএনপির পতন হলে আপনারা সরকার চালাতে পারবেন?-প্রশ্ন রাশেদ খানের বালুর ঘাটে ইজারাদারের কর্মীকে ইউএনওর মারধর তুরস্কে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত অন্যতম শীর্ষ অনলাইন ক্যাসিনো এজেন্ট লিপুর বাগানবাড়িতে ডিবির অভিযান

ইউনিয়ন বিএনপির নেতা একাই গিলে খাচ্ছেন জনগণের সকল বরাদ্দ ও সুযোগ সুবিধা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:১৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • ২৩১ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি মীর্জা আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে ত্রাণ সহায়তা, টিসিবি কার্ড এবং সরকারি কৃষি উপকরণ বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বলয় শক্তিশালী করতে তিনি সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ বিভিন্ন সুবিধা দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিতরণ করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত দুই হাজার টাকা করে সহায়তার অর্থ স্থানীয় ১৯ জন বিএনপি নেতাকর্মীর নামে বিতরণ করা হয়েছে। সহায়তা গ্রহণকারীদের তালিকায় দলীয় নেতাকর্মীদের নাম পাওয়া গেছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে আবুল হাসেম বলেন, ঈদের আগে সময় স্বল্পতার কারণে তিনি একটি তালিকা তৈরি করেছিলেন। পুরো ইউনিয়নে সমন্বয়ের জন্য পরিচিত ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল এবং তাদের মাধ্যমে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক নেতারা কেন দুস্থদের জন্য বরাদ্দ সহায়তা গ্রহণ করেছেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি স্থানীয়ভাবে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দেন।
তদন্তে আরও অভিযোগ উঠে আসে যে, দুস্থ পরিবারের জন্য বরাদ্দ শতাধিক টিসিবি কার্ড যথাযথভাবে বিতরণ না করে তার পছন্দের কিছু নেতাকর্মীর মধ্যে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
এছাড়া সাবমার্সিবল পানির পাম্প, ধান কাটার মেশিন, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি কৃষি সহায়তা রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠদের মধ্যে বণ্টনের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব সুবিধার কিছু অংশ তার ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা পেয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজন সাবেক জনপ্রতিনিধি অভিযোগ করেন, আবুল হাসেম তার অনুসারীদের বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে একটি একক রাজনৈতিক বলয় গড়ে তুলছেন। এর ফলে ইউনিয়নের অন্যান্য নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন।
স্থানীয়দের মতে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজের প্রভাব ও জনবল বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। এতে একদিকে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে বঞ্চিত মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন বলেন, “দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে দল জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ রাতে খালি চোখে দেখা যাবে পারসেইড উল্কাবৃষ্টি

ইউনিয়ন বিএনপির নেতা একাই গিলে খাচ্ছেন জনগণের সকল বরাদ্দ ও সুযোগ সুবিধা

আপডেট সময় ১০:১৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি মীর্জা আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে ত্রাণ সহায়তা, টিসিবি কার্ড এবং সরকারি কৃষি উপকরণ বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বলয় শক্তিশালী করতে তিনি সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ বিভিন্ন সুবিধা দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিতরণ করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত দুই হাজার টাকা করে সহায়তার অর্থ স্থানীয় ১৯ জন বিএনপি নেতাকর্মীর নামে বিতরণ করা হয়েছে। সহায়তা গ্রহণকারীদের তালিকায় দলীয় নেতাকর্মীদের নাম পাওয়া গেছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে আবুল হাসেম বলেন, ঈদের আগে সময় স্বল্পতার কারণে তিনি একটি তালিকা তৈরি করেছিলেন। পুরো ইউনিয়নে সমন্বয়ের জন্য পরিচিত ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল এবং তাদের মাধ্যমে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক নেতারা কেন দুস্থদের জন্য বরাদ্দ সহায়তা গ্রহণ করেছেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি স্থানীয়ভাবে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দেন।
তদন্তে আরও অভিযোগ উঠে আসে যে, দুস্থ পরিবারের জন্য বরাদ্দ শতাধিক টিসিবি কার্ড যথাযথভাবে বিতরণ না করে তার পছন্দের কিছু নেতাকর্মীর মধ্যে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
এছাড়া সাবমার্সিবল পানির পাম্প, ধান কাটার মেশিন, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি কৃষি সহায়তা রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠদের মধ্যে বণ্টনের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব সুবিধার কিছু অংশ তার ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা পেয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজন সাবেক জনপ্রতিনিধি অভিযোগ করেন, আবুল হাসেম তার অনুসারীদের বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে একটি একক রাজনৈতিক বলয় গড়ে তুলছেন। এর ফলে ইউনিয়নের অন্যান্য নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন।
স্থানীয়দের মতে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজের প্রভাব ও জনবল বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। এতে একদিকে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে বঞ্চিত মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন বলেন, “দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে দল জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।”