ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
খোলা আকাশের নিচে জুতা সেলাই করেন বাবা, পাশেই বসে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বুনছে ছোট্ট প্রিয়জিত বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত তসলিমা নাসরিনের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিলেন শুভেন্দু কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে প্রতিবেশী দেশগুলোকে যে বার্তা দিল ইরান আসিয়ানে বাংলাদেশের সদস্যপদের সম্ভাবনা নেই: মহাসচিব ‎রাজধানীর উত্তর সিটি প্রশাসক ও এমপির ওপর হামলার অভিযোগ ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ করতে হলে ১৯৭২-এর সংবিধান বাতিল করতে হবে: ফরহাদ মজহার জুলাই সনদ-বিচার ইস্যুতে তোপের মুখে মাহদী আমিন ‘ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে’ ঢাকা মাতাবেন পাকিস্তানি র‍্যাপার হাসান রহিম ইসরায়েলে তীব্র তাপপ্রবাহ, সতর্কতা জারি

এবার ইরানের কড়া হুঁশিয়ারির পর হামলা বাতিল করলেন ট্রাম্প?

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:০৬:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

এবার ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে ইরান কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দেয়ার পর ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে তেহরান জানিয়েছিল, হামলা হলে শুধু উপসাগরীয় অঞ্চল নয়, যেখান থেকেই আক্রমণ করা হবে, সেখানেই পাল্টা হামলা চালিয়ে জবাব দেয়া হবে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা ব্যাপকভাবে জোরদার করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পৃথকভাবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।

এসব আলোচনায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়। ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে ইরান জানায়, দেশটির সার্বভৌমত্ব বা জাতীয় নিরাপত্তার ওপর যেকোনও হামলার জবাব তারা কঠোরভাবে দেবে। এর পাশাপাশি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের প্রচলিত নিয়ম উপেক্ষা করে এবং ইরানের অনুমোদনহীন পথ দিয়ে জাহাজ পরিচালনার মাধ্যমে ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে।

এছাড়া বাণিজ্যিক জাহাজ ব্যবহার করে সামরিক তৎপরতা আড়াল করা, নতুন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ আরোপ এবং ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালানোর অভিযোগও করেছে তেহরান। এদিকে মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক রস হ্যারিসন বলেছেন, ট্রাম্প হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করলেও পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, হামলার হুমকির মুখে কোনও আলোচনায় বসবে না ইরান। তার ভাষায়, ‘ইতিহাসে যখনই ইরান নমনীয়তা দেখিয়েছে, ওয়াশিংটন সেটিকে দুর্বলতা হিসেবে দেখেছে। এরপর পরিস্থিতি আরও সহিংস হয়েছে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকেধৈর্যের পরীক্ষাএবংইচ্ছাশক্তির লড়াইবলে উল্লেখ করেন।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি তেহরান ও ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তার মতে, ইরান ইস্যুর সঙ্গে এখন লেবানন, ইসরায়েলফিলিস্তিন, সৌদিহুথি এবং ইরাকের মতো আরও কয়েকটি সংকট জড়িয়ে গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চাইলে উত্তেজনা কমাতে উদ্যোগ নিলেও অন্য পক্ষগুলো সংঘাত আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। হ্যারিসন বলেন, ট্রাম্প যদি সত্যিই চুক্তি কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার কথা বলে থাকেন, তাহলে সেটি অবশ্যই ইতিবাচক খবর। তবে তার মতে, ‘শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আগামী কয়েক দিনে বোঝা যাবে, সত্যিই উত্তেজনা কমছে নাকি শুধু অবস্থান প্রদর্শনের রাজনীতি চলছে।

রস হ্যারিসনের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সুস্পষ্ট কৌশল আসলে কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ ট্রাম্প বারবার হামলার ইঙ্গিত দিয়ে পরে সেখান থেকে সরে এসেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প কেন পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করলেন কিংবা তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরাগচির আলোচনায় ইরান কী ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে তার ধারণা, ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি এমনভাবে দেখা হতে পারে যে, উত্তেজনা আরও বাড়ার ঝুঁকির কারণে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পই পিছু হটেছেন। হ্যারিসনের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্পষ্ট সমঝোতা না হলে বর্তমান পরিস্থিতিকে প্রকৃত অর্থে উত্তেজনা প্রশমন বলা যাবে না।

তিনি বলেন, জুন মাসে সই হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকের অস্পষ্ট ব্যাখ্যা থেকেই সাম্প্রতিক এই সংকটের সূত্রপাত। ইরান মনে করেছিল, ওই সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তাদের থাকবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ওমানের সহযোগিতায় জাহাজগুলোকে ইরানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে দক্ষিণ উপকূল ঘেঁষে চলাচলের ব্যবস্থা করে। তার মতে, সেখান থেকেই নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘প্রণালি খুলে দেয়া এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহার নিয়ে স্পষ্ট কোনও চুক্তি না হলে বর্তমান পরিস্থিতি টিকবে না। আজকের ঘোষণাটি কেবল আরেকটি সাময়িক বিরতি হয়ে থাকবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

খোলা আকাশের নিচে জুতা সেলাই করেন বাবা, পাশেই বসে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বুনছে ছোট্ট প্রিয়জিত

এবার ইরানের কড়া হুঁশিয়ারির পর হামলা বাতিল করলেন ট্রাম্প?

আপডেট সময় ১২:০৬:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

এবার ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে ইরান কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দেয়ার পর ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে তেহরান জানিয়েছিল, হামলা হলে শুধু উপসাগরীয় অঞ্চল নয়, যেখান থেকেই আক্রমণ করা হবে, সেখানেই পাল্টা হামলা চালিয়ে জবাব দেয়া হবে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা ব্যাপকভাবে জোরদার করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পৃথকভাবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।

এসব আলোচনায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়। ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে ইরান জানায়, দেশটির সার্বভৌমত্ব বা জাতীয় নিরাপত্তার ওপর যেকোনও হামলার জবাব তারা কঠোরভাবে দেবে। এর পাশাপাশি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের প্রচলিত নিয়ম উপেক্ষা করে এবং ইরানের অনুমোদনহীন পথ দিয়ে জাহাজ পরিচালনার মাধ্যমে ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে।

এছাড়া বাণিজ্যিক জাহাজ ব্যবহার করে সামরিক তৎপরতা আড়াল করা, নতুন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ আরোপ এবং ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালানোর অভিযোগও করেছে তেহরান। এদিকে মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক রস হ্যারিসন বলেছেন, ট্রাম্প হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করলেও পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, হামলার হুমকির মুখে কোনও আলোচনায় বসবে না ইরান। তার ভাষায়, ‘ইতিহাসে যখনই ইরান নমনীয়তা দেখিয়েছে, ওয়াশিংটন সেটিকে দুর্বলতা হিসেবে দেখেছে। এরপর পরিস্থিতি আরও সহিংস হয়েছে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকেধৈর্যের পরীক্ষাএবংইচ্ছাশক্তির লড়াইবলে উল্লেখ করেন।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি তেহরান ও ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তার মতে, ইরান ইস্যুর সঙ্গে এখন লেবানন, ইসরায়েলফিলিস্তিন, সৌদিহুথি এবং ইরাকের মতো আরও কয়েকটি সংকট জড়িয়ে গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চাইলে উত্তেজনা কমাতে উদ্যোগ নিলেও অন্য পক্ষগুলো সংঘাত আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। হ্যারিসন বলেন, ট্রাম্প যদি সত্যিই চুক্তি কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার কথা বলে থাকেন, তাহলে সেটি অবশ্যই ইতিবাচক খবর। তবে তার মতে, ‘শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আগামী কয়েক দিনে বোঝা যাবে, সত্যিই উত্তেজনা কমছে নাকি শুধু অবস্থান প্রদর্শনের রাজনীতি চলছে।

রস হ্যারিসনের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সুস্পষ্ট কৌশল আসলে কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ ট্রাম্প বারবার হামলার ইঙ্গিত দিয়ে পরে সেখান থেকে সরে এসেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প কেন পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করলেন কিংবা তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরাগচির আলোচনায় ইরান কী ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে তার ধারণা, ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি এমনভাবে দেখা হতে পারে যে, উত্তেজনা আরও বাড়ার ঝুঁকির কারণে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পই পিছু হটেছেন। হ্যারিসনের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্পষ্ট সমঝোতা না হলে বর্তমান পরিস্থিতিকে প্রকৃত অর্থে উত্তেজনা প্রশমন বলা যাবে না।

তিনি বলেন, জুন মাসে সই হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকের অস্পষ্ট ব্যাখ্যা থেকেই সাম্প্রতিক এই সংকটের সূত্রপাত। ইরান মনে করেছিল, ওই সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তাদের থাকবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ওমানের সহযোগিতায় জাহাজগুলোকে ইরানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে দক্ষিণ উপকূল ঘেঁষে চলাচলের ব্যবস্থা করে। তার মতে, সেখান থেকেই নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘প্রণালি খুলে দেয়া এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহার নিয়ে স্পষ্ট কোনও চুক্তি না হলে বর্তমান পরিস্থিতি টিকবে না। আজকের ঘোষণাটি কেবল আরেকটি সাময়িক বিরতি হয়ে থাকবে।