ঢাকা , বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জিন্নাহর ছবি ছেঁড়াকে ‘মব’ উল্লেখ করে বিচার দাবি করলেন ডাকসু নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ৩ ককটেল বিস্ফোরণ ‘ইনশাআল্লাহ-জাযাকাল্লাহ’ বলায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বদলি অসহায় অর্ধশতাধিক নারী থেকে ফ্যামিলি কার্ডের নামে টাকা নেয়ার অভিযোগ যুবদল-বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে শিবিরের ‘গুপ্ত’ সন্দেহ রাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে খেয়ে না খেয়ে কাটছে শত বছরের ছালেহার শেষবেলা: ৬ সন্তান থাকলেও খোঁজ নেওয়ার মতো নেই কেউ! বিলুপ্ত র‌্যাব, নতুন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ গঠনের আইন ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল পাস হলে মা-বাবার মৃত্যুকামনা করবে সন্তানরা’ জিন্নাহর চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে শুটিংয়ে কেঁদেছিলেন ক্রিস্টোফার লি নারীকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের

কঠিন সমীকরণের সামনে ট্রাম্প, বেছে নিতে হবে যেকোনও একটিকে ইসরায়েল অথবা যুক্তরাষ্ট্রকে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৩৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৯১ বার পড়া হয়েছে

এবার মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘায়িত সংঘাতের জেরে মার্কিন সামরিক বাহিনী ও অস্ত্রভান্ডারের ওপর তৈরি হওয়া অভূতপূর্ব চাপের মুখে এক কঠিন সমীকরণের সামনে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধে একদিকে মিত্র ইসরায়েলকে নিরাপত্তা দেওয়া এবং অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নিজস্ব সেনাসদস্য ও সামরিক ঘাঁটি রক্ষাএই দুইয়ের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নেওয়ার মতো চরম সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনকে।

শনিবার (১ আগস্ট)মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও সিএনএনের পৃথক প্রতিবেদনে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে ইসরায়েলকে রক্ষা করা এবং একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাএই দুই দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করার মতো পর্যাপ্ত নৌসামরিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাও থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ। 

তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত চলতে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতার ওপর ক্রমেই চাপ বাড়ছে। তার মতে, এ অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর আরও একটি ডেস্ট্রয়ার না পাঠানো হলে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষা দেয়া হবে, নাকি ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে সে বিষয়ে একসময় কমান্ডারদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ২০০টির বেশিথাডইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে ফেলেছে, যা তাদের মোট সঞ্চয়ের প্রায় অর্ধেক। পাশাপাশি মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ থেকেও ১০০টির বেশি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যম সিএনএনএর উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানায়, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের প্রায় ৪৫ শতাংশ, থাড ইন্টারসেপ্টরের ৫০ শতাংশ, প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৫০ শতাংশ এবং টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক প্রতিরক্ষামূলক এসব অস্ত্র অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এগুলোর উৎপাদনপ্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় নিঃশেষিত মজুত দ্রুত পূর্ণ করা প্রায় অসম্ভব। ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে একাধিক সংকট একসঙ্গে দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্রকে যেকোনো একটি ফ্রন্ট বেছে নিতে হতে পারেযা মার্কিন সামরিক শক্তি সীমাহীন নয় বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জিন্নাহর ছবি ছেঁড়াকে ‘মব’ উল্লেখ করে বিচার দাবি করলেন ডাকসু নেতারা

কঠিন সমীকরণের সামনে ট্রাম্প, বেছে নিতে হবে যেকোনও একটিকে ইসরায়েল অথবা যুক্তরাষ্ট্রকে

আপডেট সময় ০১:৩৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

এবার মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘায়িত সংঘাতের জেরে মার্কিন সামরিক বাহিনী ও অস্ত্রভান্ডারের ওপর তৈরি হওয়া অভূতপূর্ব চাপের মুখে এক কঠিন সমীকরণের সামনে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধে একদিকে মিত্র ইসরায়েলকে নিরাপত্তা দেওয়া এবং অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নিজস্ব সেনাসদস্য ও সামরিক ঘাঁটি রক্ষাএই দুইয়ের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নেওয়ার মতো চরম সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনকে।

শনিবার (১ আগস্ট)মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও সিএনএনের পৃথক প্রতিবেদনে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে ইসরায়েলকে রক্ষা করা এবং একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাএই দুই দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করার মতো পর্যাপ্ত নৌসামরিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাও থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ। 

তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত চলতে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতার ওপর ক্রমেই চাপ বাড়ছে। তার মতে, এ অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর আরও একটি ডেস্ট্রয়ার না পাঠানো হলে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষা দেয়া হবে, নাকি ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে সে বিষয়ে একসময় কমান্ডারদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ২০০টির বেশিথাডইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে ফেলেছে, যা তাদের মোট সঞ্চয়ের প্রায় অর্ধেক। পাশাপাশি মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ থেকেও ১০০টির বেশি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যম সিএনএনএর উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানায়, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের প্রায় ৪৫ শতাংশ, থাড ইন্টারসেপ্টরের ৫০ শতাংশ, প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৫০ শতাংশ এবং টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক প্রতিরক্ষামূলক এসব অস্ত্র অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এগুলোর উৎপাদনপ্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় নিঃশেষিত মজুত দ্রুত পূর্ণ করা প্রায় অসম্ভব। ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে একাধিক সংকট একসঙ্গে দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্রকে যেকোনো একটি ফ্রন্ট বেছে নিতে হতে পারেযা মার্কিন সামরিক শক্তি সীমাহীন নয় বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।