জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ কিংবা দেশের অন্য কোনো গণআন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন আন্দোলনের অন্যতম নেতা মাহফুজ আলম। তিনি মনে করেন, এই অভ্যুত্থান ছিল রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠা একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক উদ্যোগ, যার মূল্যায়ন এখনই চূড়ান্তভাবে করা সম্ভব নয়।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মাহফুজ আলম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করা যেমন ভুল, তেমনি এটিকে দেশের অন্য অভ্যুত্থান বা গণআন্দোলনের সঙ্গে একই কাঠামোয় বিচার করাও সঠিক নয়। তার মতে, এই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা।
তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একদফা দাবির কেন্দ্রে ছিল রাষ্ট্র সংস্কার, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গঠন। এত বিস্তৃত রাষ্ট্রকাঠামোগত পরিবর্তনের ধারণা দেশের পূর্ববর্তী কোনো গণআন্দোলনে এভাবে স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
মাহফুজ আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রকে নতুনভাবে গড়ে তোলার দ্বিতীয় প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে উদ্যোগটি কতটা সফল হয়েছে, সে মূল্যায়নের সময় এখনো আসেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দেশের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে তিনি বাঙালির উপনিবেশবিরোধী সংগ্রামের চূড়ান্ত অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই পাকিস্তানের সামরিক শাসন ও সামন্তবাদী শক্তির পতন সম্ভব হয়েছিল।
দেশের ইতিহাসের বিভিন্ন আন্দোলনকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে চলমান সংগ্রামের ধারাবাহিক অংশ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান মাহফুজ আলম। স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সংগ্রামে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গুরুত্ব অনন্য বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















