মানুষ আজ মঙ্গল গ্রহে বসতি গড়ার স্বপ্ন দেখছে, চাঁদে ফিরতে চলছে নতুন প্রতিযোগিতা। কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী গ্রহ শুক্র বা ভেনাসের কথা উঠলেই যেন থমকে যায় মহাকাশ গবেষণা। কারণ বাইরে থেকে উজ্জ্বল ও শান্ত দেখালেও বাস্তবে শুক্র গ্রহ সৌরজগতের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর স্থানগুলোর একটি।
১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে স্নায়ুযুদ্ধের সময় শুক্রকে পৃথিবীর ‘জমজ বোন’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। আকার, ভর ও বায়ুমণ্ডলের মিল দেখে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছিলেন, হয়তো সেখানে প্রাণের অস্তিত্বও থাকতে পারে। তবে বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেনেরা মিশনগুলো একের পর এক ভয়ঙ্কর তথ্য উন্মোচন করে। জানা যায়, শুক্রের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ৪৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস—যা সহজেই সীসা গলিয়ে ফেলতে পারে। শুধু তাই নয়, সেখানে বায়ুচাপ পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৯০ গুণ বেশি, যা সমুদ্রের প্রায় এক কিলোমিটার গভীরতার চাপের সমান। পুরো বায়ুমণ্ডল ভরা কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন ও সালফিউরিক অ্যাসিডের বিষাক্ত মেঘে।
এই ভয়াবহ পরিবেশের কারণে বহু মহাকাশযান শুক্রের পথে কিংবা বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর ধ্বংস হয়ে যায়। ১৯৭০ সালে ভেনেরা-৭ প্রথমবারের মতো শুক্রের পৃষ্ঠে অবতরণ করে ইতিহাস গড়ে। পরে ভেনেরা-৯ অন্য কোনো গ্রহের পৃষ্ঠের প্রথম ছবি পৃথিবীতে পাঠায়। আর ভেনেরা-১৩ ও ১৪ রঙিন ছবি, শব্দ এবং মাটির নমুনা বিশ্লেষণের তথ্য সংগ্রহ করে বিজ্ঞানকে নতুন দিগন্ত দেখায়।
তবে এসব সাফল্যের আড়ালেও ছিল এক নির্মম সত্য। শুক্রের চরম তাপ, প্রচণ্ড চাপ এবং অ্যাসিডে ভরা পরিবেশে কোনো প্রাণের অস্তিত্ব টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব। ফলে ১৯৮৪ সালের পর থেকে আর কোনো দেশ সেখানে অবতরণ মিশন পরিচালনা করতে পারেনি।
আজও শুক্র গ্রহ বিজ্ঞানীদের কাছে এক রহস্যময় সতর্কবার্তা। একসময় পৃথিবীর মতো সম্ভাবনাময় এই গ্রহ কীভাবে ভয়াবহ ‘কসমিক হেল’-এ পরিণত হলো, সেই প্রশ্ন এখনও গবেষকদের ভাবায়। অনেকের মতে, নিয়ন্ত্রণহীন গ্রিনহাউস প্রভাবের ভয়াবহ পরিণতির সবচেয়ে বড় উদাহরণই হলো শুক্র গ্রহ।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























