ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকর্মীকে খুঁজতে গিয়ে এলাকাবাসীর হাতে আটক ৩ যুবক, ‘ডাকাত’ সন্দেহে গণধোলাই

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫০:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • ৬৬ বার পড়া হয়েছে

এবার ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর আলামপুর বুচিপুর গ্রামে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এক প্রবাসী ছাত্রলীগ কর্মীকে খুঁজতে গিয়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েছেন তিন যুবক। প্রথমে তাদেরডাকাতসন্দেহে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও ডাকাতির আলামত না থাকায় মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে ছাড়া পান তারা।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টরা জানায়, জায়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর আলামপুর বড় বাড়ির প্রবাসী আব্দুল হামিদের ছেলে সাবেক ছাত্রলীগকর্মী কামরুল হাসানের সাথে স্থানীয় যুবদল নেতা জসিম উদ্দিন বাবুর ছেলে মিস্টারের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী শাসনামলে মিস্টার বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। কামরুল হাসান ২০২১ সালে দুবাই চলে যান এবং ২০২৪ সালে ১৭ দিনের জন্য দেশে এসে আবার প্রবাসে ফিরে যান। সর্বশেষ গত ৩০ মে বাবা ও ছেলে পুনরায় দেশে আসেন।

এই খবর পেয়ে গত ২ জুন রাতে পূর্বের প্রতিশোধ নিতে মিস্টার ও তার সহযোগীরা কামরুল হাসানের বাড়িতে যান। এ সময় ওই বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ ও শোরগোল ঘটলে বাড়ির লোকজনের চিৎকারে গ্রামবাসী ছুটে এসে তাদের ধাওয়া দেয়। ধাওয়া খেয়ে মিস্টার পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও কুঠিরহাটের হৃদয়, অটোচালক একরামুল হক ও মাওলা নামের তিন যুবককেডাকাতসন্দেহে আটক করে গণধোলাই দেয় এলাকাবাসী। পরে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯এ ফোন করা হলে দাগনভূঞা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান জানান, যার ওপর পূর্ব প্রতিশোধ নিতে ওই যুবকরা গিয়েছিল, তার বাবা থানায় এসে ঘটনার বিস্তারিত খুলে বলেন। যেহেতু এই ঘটনায় কোনো পক্ষের কোনো লিখিত অভিযোগ ছিল না এবং পুলিশ তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কোনো আলামত বা প্রমাণ পায়নি, তাই মুচলেকা রেখে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে কাউকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জুলুম করা বা কোর্টে চালান করা ন্যায়সংগত হতো না। যোগাযোগ করা হলে প্রবাসী আব্দুল হামিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি মূলত ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে। গ্রামবাসী ডাকাত সন্দেহে তাদের আটক করেছিল। পরে আমরা নিজেরা বসে বিষয়টি আপসমীমাংসা করেছি। যা ঘটেছে তার জন্য আমি দুঃখিত।

এদিকে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে দাগনভূঞা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মনসুর ভূঁইয়া বলেন, আমরা যতটুকু জেনেছি ঘটনাটি পূর্ব শত্রুতার জেরে ঘটেছে। এই ঘটনায় যুবদলের কেউ জড়িত কি নাতা আমাদের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। আমরা বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে সে মোতাবেক কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকর্মীকে খুঁজতে গিয়ে এলাকাবাসীর হাতে আটক ৩ যুবক, ‘ডাকাত’ সন্দেহে গণধোলাই

আপডেট সময় ১১:৫০:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

এবার ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর আলামপুর বুচিপুর গ্রামে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এক প্রবাসী ছাত্রলীগ কর্মীকে খুঁজতে গিয়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েছেন তিন যুবক। প্রথমে তাদেরডাকাতসন্দেহে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও ডাকাতির আলামত না থাকায় মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে ছাড়া পান তারা।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টরা জানায়, জায়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর আলামপুর বড় বাড়ির প্রবাসী আব্দুল হামিদের ছেলে সাবেক ছাত্রলীগকর্মী কামরুল হাসানের সাথে স্থানীয় যুবদল নেতা জসিম উদ্দিন বাবুর ছেলে মিস্টারের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী শাসনামলে মিস্টার বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। কামরুল হাসান ২০২১ সালে দুবাই চলে যান এবং ২০২৪ সালে ১৭ দিনের জন্য দেশে এসে আবার প্রবাসে ফিরে যান। সর্বশেষ গত ৩০ মে বাবা ও ছেলে পুনরায় দেশে আসেন।

এই খবর পেয়ে গত ২ জুন রাতে পূর্বের প্রতিশোধ নিতে মিস্টার ও তার সহযোগীরা কামরুল হাসানের বাড়িতে যান। এ সময় ওই বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ ও শোরগোল ঘটলে বাড়ির লোকজনের চিৎকারে গ্রামবাসী ছুটে এসে তাদের ধাওয়া দেয়। ধাওয়া খেয়ে মিস্টার পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও কুঠিরহাটের হৃদয়, অটোচালক একরামুল হক ও মাওলা নামের তিন যুবককেডাকাতসন্দেহে আটক করে গণধোলাই দেয় এলাকাবাসী। পরে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯এ ফোন করা হলে দাগনভূঞা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান জানান, যার ওপর পূর্ব প্রতিশোধ নিতে ওই যুবকরা গিয়েছিল, তার বাবা থানায় এসে ঘটনার বিস্তারিত খুলে বলেন। যেহেতু এই ঘটনায় কোনো পক্ষের কোনো লিখিত অভিযোগ ছিল না এবং পুলিশ তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কোনো আলামত বা প্রমাণ পায়নি, তাই মুচলেকা রেখে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে কাউকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জুলুম করা বা কোর্টে চালান করা ন্যায়সংগত হতো না। যোগাযোগ করা হলে প্রবাসী আব্দুল হামিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি মূলত ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে। গ্রামবাসী ডাকাত সন্দেহে তাদের আটক করেছিল। পরে আমরা নিজেরা বসে বিষয়টি আপসমীমাংসা করেছি। যা ঘটেছে তার জন্য আমি দুঃখিত।

এদিকে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে দাগনভূঞা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মনসুর ভূঁইয়া বলেন, আমরা যতটুকু জেনেছি ঘটনাটি পূর্ব শত্রুতার জেরে ঘটেছে। এই ঘটনায় যুবদলের কেউ জড়িত কি নাতা আমাদের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। আমরা বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে সে মোতাবেক কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।