ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নারীকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের কারখানায় সরবরাহ বেড়েছে, বাসাবাড়িতে গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট কাটবে কবে? কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন এনসিপি থেকে অব্যাহতি পাওয়া সালাউদ্দিন চুরি হওয়া গরু মিলল বিএনপি নেতার গোয়ালঘরে অজ্ঞান করে ২০ বছর ধরে স্ত্রীকে ধর্ষণ, আদালতে দোষ স্বীকার ছাত্রত্ব নেই, কুবির হলের কক্ষ দখল করলেন ছাত্রদলের আহ্বায়ক ছোট্ট কাপড়ের দোকান থেকে ভিপি, সাদিক কায়েমের বেড়ে ওঠার নানা গল্প আসিফ মাহমুদকে যে কারণে ধন্যবাদ জানালেন মামুনুল হক সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে জামায়াতের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ তিস্তাপাড়ের মানুষের স্বার্থ আদায়ে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ

৯১ ছাত্রীকে ‘যৌনকর্মী’ বলা সেই ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কারের দাবিতে উত্তাল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৩৫:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩৯৮ বার পড়া হয়েছে

এবার রাত ১১টার পর হলে প্রবেশ করা ছাত্রীদের ‘বিনা পারিশ্রমিকের যৌনকর্মী’ বলা ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমান মিলনকে বহিষ্কারের দাবিতে উত্তাল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিলনকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন জুলাই-৩৬ হলের ছাত্রীরা।

এ সময় তারা ‘ইভটিজারের কালো হাত ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও’, ‘নারীদের বুলিং করে, প্রশাসন কী করে?’, ‘ইভটিজারের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’ বলে নানান স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভ থেকে ছাত্রীরা ছাত্রদল আনিসুর রহমানের স্থায়ী বহিষ্কার, মনোনয়নপত্র বাতিল ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইওয়ার শর্ত দেন। এছাড়া সাইবার বুলিং সেল গঠন, ফেসবুকে যাবতীয় অশালীন মন্তব্যের জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

ছাত্রদল নেতাআনিসুর রহমান মিলন বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ মখ্দুম হল শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্বে আছেন। অভিযোগ ওঠার পর রাতে ওই নেতার পদ সাময়িক স্থগিতের কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি বলেছে, “বিষয়টির সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত আনিসুর রহমানের পদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। সত্যতা যাচাই ও সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শাকিলুর রহমান ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, প্রাথমিকভাবে তাকে জিজ্ঞাসা করেছি। তিনি জানিয়েছেন, তার আইডির নিয়ন্ত্রণ তার কাছে ছিল না। সাংগঠনিক দায়িত্বে থেকে এমনটা করার কথা না। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। যদি ঘটনার সতত্য পাওয়া যায়, তাকে আজীবনের জন্য ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শাস্তি দেওয়ার জন্য ছাত্রদল থেকে সুপারিশ করা হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আগামীকাল প্রক্টরিয়াল বডি থেকে ওই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ছাত্রদল নেতার অশালীন মন্তব্যের প্রতিবাদ ও তাকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে কাল বেলা ১১টায় প্যারিস রোডে একযোগে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ক্যাম্পাসের নারী শিক্ষার্থীরা। এছাড়া একই সময়ে স্টুডেন্ট রাইটস অ্যাসোসিয়েশন ও সোচ্চার বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার রাত ১১টার পরে হলে ফেরায়, জুলাই-৩৬ হলের ৯১ ছাত্রীকে প্রাধ্যক্ষের অফিসে তলব করে নোটিশ দেয় হল কর্তৃপক্ষ। ওই বিজ্ঞপ্তির একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা হয়। পরদিন মঙ্গলবার সমালোচনার মুখে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে নোটিশটি প্রত্যাহার করে নেয় হল প্রশাসন। ফেসবুকে এ-সংক্রান্ত একটি ফটোকার্ডের মন্তব্যের ঘরে ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমানের আইডি থেকে ছাত্রীদের ‘বিনা পারিশ্রমিকের যৌনকর্মী’ বলে মন্তব্য করা হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের

৯১ ছাত্রীকে ‘যৌনকর্মী’ বলা সেই ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কারের দাবিতে উত্তাল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট সময় ১০:৩৫:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

এবার রাত ১১টার পর হলে প্রবেশ করা ছাত্রীদের ‘বিনা পারিশ্রমিকের যৌনকর্মী’ বলা ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমান মিলনকে বহিষ্কারের দাবিতে উত্তাল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিলনকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন জুলাই-৩৬ হলের ছাত্রীরা।

এ সময় তারা ‘ইভটিজারের কালো হাত ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও’, ‘নারীদের বুলিং করে, প্রশাসন কী করে?’, ‘ইভটিজারের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’ বলে নানান স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভ থেকে ছাত্রীরা ছাত্রদল আনিসুর রহমানের স্থায়ী বহিষ্কার, মনোনয়নপত্র বাতিল ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইওয়ার শর্ত দেন। এছাড়া সাইবার বুলিং সেল গঠন, ফেসবুকে যাবতীয় অশালীন মন্তব্যের জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

ছাত্রদল নেতাআনিসুর রহমান মিলন বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ মখ্দুম হল শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্বে আছেন। অভিযোগ ওঠার পর রাতে ওই নেতার পদ সাময়িক স্থগিতের কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি বলেছে, “বিষয়টির সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত আনিসুর রহমানের পদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। সত্যতা যাচাই ও সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শাকিলুর রহমান ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, প্রাথমিকভাবে তাকে জিজ্ঞাসা করেছি। তিনি জানিয়েছেন, তার আইডির নিয়ন্ত্রণ তার কাছে ছিল না। সাংগঠনিক দায়িত্বে থেকে এমনটা করার কথা না। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। যদি ঘটনার সতত্য পাওয়া যায়, তাকে আজীবনের জন্য ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শাস্তি দেওয়ার জন্য ছাত্রদল থেকে সুপারিশ করা হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আগামীকাল প্রক্টরিয়াল বডি থেকে ওই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ছাত্রদল নেতার অশালীন মন্তব্যের প্রতিবাদ ও তাকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে কাল বেলা ১১টায় প্যারিস রোডে একযোগে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ক্যাম্পাসের নারী শিক্ষার্থীরা। এছাড়া একই সময়ে স্টুডেন্ট রাইটস অ্যাসোসিয়েশন ও সোচ্চার বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার রাত ১১টার পরে হলে ফেরায়, জুলাই-৩৬ হলের ৯১ ছাত্রীকে প্রাধ্যক্ষের অফিসে তলব করে নোটিশ দেয় হল কর্তৃপক্ষ। ওই বিজ্ঞপ্তির একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা হয়। পরদিন মঙ্গলবার সমালোচনার মুখে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে নোটিশটি প্রত্যাহার করে নেয় হল প্রশাসন। ফেসবুকে এ-সংক্রান্ত একটি ফটোকার্ডের মন্তব্যের ঘরে ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমানের আইডি থেকে ছাত্রীদের ‘বিনা পারিশ্রমিকের যৌনকর্মী’ বলে মন্তব্য করা হয়।