ঢাকা , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মামলা ডিবিতে, নেপথ্যে ‘বড় শক্তির’ ইঙ্গিত চালু হলো ‘চাঁদাবিডি ডটকম’, কয়েক ঘণ্টাতেই একাধিক অভিযোগ ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি সীমান্তে বাংলাদেশির সঙ্গে ধস্তাধস্তি, রাইফেল ফেলে পালালো বিএসএফ সদস্য মক্কা চুক্তিতে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্যকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে: রয়টার্স পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনা এলাকায় আঘাত হানে ভারতের ড্রোন মহানবী (সা.)-এর আদর্শে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) ‘ব্রাজিল ম্যাচের জন্য টাকা ব্যয়ের মানসিকতা আপাতত নেই সরকারের’ প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন আশিক চৌধুরী

৯১ ছাত্রীকে ‘যৌনকর্মী’ বলা সেই ছাত্রদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার, মামলার সিদ্ধান্ত 

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:২৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩৮২ বার পড়া হয়েছে

এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জুলাই ৩৬ হলের ৯১ জন শিক্ষার্থীকে ‘বিনা পারিশ্রমিকের যৌনকর্মী’ বলা শাহ মখদুম হলের সহ-সভাপতি এ আর মিলন খানকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে শাখা ছাত্রদল। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে মতিহার থানায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, ২ সেপ্টেম্বর থেকে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট অন্য কারো নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল বলে দাবি করেছিল ওই ছাত্রদল নেতা। পরে তার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করে সত্যতা যাচাই করার জন্য দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে শাখা ছাত্রদল। তদন্ত কমিটির সদস্য ছিলেন শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক।

শাখা ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক নাফিউল ইসলাম জীবনের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি জানানো হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জুলাই ৩৬ হল’-এর প্রভোস্ট কর্তৃক ৯১ জন শিক্ষার্থীকে অযাচিতভাবে তলব করার প্রতিবাদে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও শিক্ষার্থী জান্নাতুল নাঈমা তুহিনার ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসে শাহ মখদুম হলের সহ-সভাপতি এ আর মিলন খান কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যবৃন্দের পক্ষ থেকে এ আর মিলন খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব না দিয়ে ফোন বন্ধ করে দেন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে উক্ত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য তিনিই ইচ্ছাকৃতভাবে করেছেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ফলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল এ আর মিলন খানকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ হল সহ-সভাপতির পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার ঘোষণা করছে। একইসাথে সংগঠনের সকল নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হলো তার সঙ্গে কোনোপ্রকার সাংগঠনিক কোন যোগাযোগ না রাখার জন্য। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট আহ্বান জানানো হচ্ছে-বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ও সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল ইসলাম এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, রাবির ‘জুলাই ৩৬’ হলে নির্ধারিত সময়ের পরে প্রবেশ করায় ৯১ জন ছাত্রীকে তলব করেছিলেন হল প্রাধ্যক্ষ। নোটিসটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হলে তা প্রত্যাহার করে হল প্রশাসন। এই বিষয়ে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ’ নামে এক ফেসবুক গ্রুপে করা এক পোস্টের কমেন্টে ওই ৯১ জন ছাত্রীকে বিনা পারিশ্রমিক যৌনকর্মী বলে আখ্যায়িত করেছিলেন রাবি’র শাহ মাখদুম হল শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান মিলন। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ওই কমেন্টের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় সমালোচনা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মামলা ডিবিতে, নেপথ্যে ‘বড় শক্তির’ ইঙ্গিত

৯১ ছাত্রীকে ‘যৌনকর্মী’ বলা সেই ছাত্রদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার, মামলার সিদ্ধান্ত 

আপডেট সময় ১২:২৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জুলাই ৩৬ হলের ৯১ জন শিক্ষার্থীকে ‘বিনা পারিশ্রমিকের যৌনকর্মী’ বলা শাহ মখদুম হলের সহ-সভাপতি এ আর মিলন খানকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে শাখা ছাত্রদল। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে মতিহার থানায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, ২ সেপ্টেম্বর থেকে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট অন্য কারো নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল বলে দাবি করেছিল ওই ছাত্রদল নেতা। পরে তার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করে সত্যতা যাচাই করার জন্য দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে শাখা ছাত্রদল। তদন্ত কমিটির সদস্য ছিলেন শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক।

শাখা ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক নাফিউল ইসলাম জীবনের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি জানানো হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জুলাই ৩৬ হল’-এর প্রভোস্ট কর্তৃক ৯১ জন শিক্ষার্থীকে অযাচিতভাবে তলব করার প্রতিবাদে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও শিক্ষার্থী জান্নাতুল নাঈমা তুহিনার ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসে শাহ মখদুম হলের সহ-সভাপতি এ আর মিলন খান কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যবৃন্দের পক্ষ থেকে এ আর মিলন খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব না দিয়ে ফোন বন্ধ করে দেন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে উক্ত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য তিনিই ইচ্ছাকৃতভাবে করেছেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ফলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল এ আর মিলন খানকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ হল সহ-সভাপতির পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার ঘোষণা করছে। একইসাথে সংগঠনের সকল নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হলো তার সঙ্গে কোনোপ্রকার সাংগঠনিক কোন যোগাযোগ না রাখার জন্য। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট আহ্বান জানানো হচ্ছে-বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ও সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল ইসলাম এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, রাবির ‘জুলাই ৩৬’ হলে নির্ধারিত সময়ের পরে প্রবেশ করায় ৯১ জন ছাত্রীকে তলব করেছিলেন হল প্রাধ্যক্ষ। নোটিসটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হলে তা প্রত্যাহার করে হল প্রশাসন। এই বিষয়ে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ’ নামে এক ফেসবুক গ্রুপে করা এক পোস্টের কমেন্টে ওই ৯১ জন ছাত্রীকে বিনা পারিশ্রমিক যৌনকর্মী বলে আখ্যায়িত করেছিলেন রাবি’র শাহ মাখদুম হল শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান মিলন। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ওই কমেন্টের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় সমালোচনা।