ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইকনের পড়ালেখার দায়িত্ব নিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের পাশে স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসকেরা শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অ্যাকশনে বিজেপি ও শরিকদের অস্বস্তি রান্নার সময় মাংসের রং হলো সবুজ, কড়াই নিয়ে থানায় হাজির শিশুকে বলাৎকার করে মাদরাসাশিক্ষক বললেন, ‘মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ তারেক রহমানের পাঙ্খা গজাইছে, সব পাঙ্খা ভেঙে মাটিতে পড়ে যাবে: পাটওয়ারী যে মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীকে লাল কার্ড ধরিয়ে দিতে চান পাটওয়ারী, সেই মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন সারজিস আলম সরকারি নির্দেশেই দিল্লিতে ইন্টারনেট বন্ধ, দাবি টেলিকম সংস্থাগুলোর বাবাকে হারিয়েও থামেনি জীবন, রাতের ডিউটি শেষে সকালে এইচএসসি পরীক্ষা দিলেন ইকন মেয়েটা যে অরক্ষিত হলো, এই দায়ভার কে নেবে: মনিরা শারমিন

ব্রাজিল শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে জিতবে কি না, ভবিষ্যদ্বাণী সুপার কম্পিউটারের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৩২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • ৭০ বার পড়া হয়েছে

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত ২টায় মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও ইউরোপের উদীয়মান শক্তি নরওয়ে। তারকা ফরোয়ার্ড আর্লিং হালান্ডকে সামলানোর চ্যালেঞ্জ থাকলেও, পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপটা সুপার কম্পিউটার এই ম্যাচে পরিষ্কারভাবেই এগিয়ে রাখছে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলকে।

২৫ হাজারবার ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফল সিমুলেশন চালিয়ে অপটার হিসাব বলছে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই ৫৩.৬ শতাংশ ক্ষেত্রে জয় পেয়েছে ব্রাজিল। অন্যদিকে নরওয়ের জয়ের সম্ভাবনা ২২.৪ শতাংশ, আর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর মতো ড্রয়ের সম্ভাবনা ২৪ শতাংশ।

সব মিলিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনায়ও এগিয়ে সেলেসাও। অপটার হিসাবে, ব্রাজিলের শেষ আটে ওঠার সম্ভাবনা ৬৫.৬ শতাংশ, যেখানে নরওয়ের সম্ভাবনা ৩৪.৫ শতাংশ। এই ম্যাচের বিজয়ী কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড বা মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসও ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলছে। শেষ ষোলোর ১০টি ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই জিতেছে সেলেসাও। একমাত্র ব্যতিক্রম ১৯৯০ সালে, যখন আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল।

অন্যদিকে নরওয়েও আত্মবিশ্বাসী। শেষ ৩২-এর ম্যাচে আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ পায় তারা। জয়সূচক গোলটি করেছিলেন আর্লিং হালান্ড, যিনি জাতীয় দলের হয়ে টানা ১৩টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচেই গোল করেছেন। এই সময়ে তার গোলসংখ্যা ২৫।

ব্রাজিলের বিপক্ষেও গোল করতে পারলে বিশ্বকাপের প্রথম চার ম্যাচেই গোল করার বিরল কীর্তি গড়বেন হালান্ড। ১৯৯৮ সালে ইতালির ক্রিশ্চিয়ান ভিয়েরির পর প্রথম ইউরোপীয় ফুটবলার হিসেবে এই অর্জনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি।

হালান্ডের পেছনে রয়েছেন সৃজনশীল মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ড। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে অ্যাসিস্ট করা আর্সেনাল তারকা টানা চতুর্থ বিশ্বকাপ ম্যাচেও অ্যাসিস্ট করলে নতুন রেকর্ড গড়বেন।

শেষ ম্যাচে ব্রাজিল খুব একটা স্বস্তিদায়ক ফুটবল খেলতে পারেনি। জাপানের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় আনচেলত্তির দল। ম্যাচে ব্রাজিলের প্রথম গোলটি করেছিলেন কাসেমিরো।

সেই ম্যাচে আরও একবার আলো ছড়ান ব্রুনো গিমারায়েস। মার্টিনেল্লির জয়সূচক গোলের অ্যাসিস্ট করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের অ্যাসিস্ট সংখ্যা চারটিতে নিয়ে যান তিনি। ১৯৬৬ সালের পর এক বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে এর চেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট আছে কেবল কিংবদন্তি পেলের। তিনি ১৯৭০ আসরে ছয়টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন। যদিও আক্রমণভাগ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকতেই পারে আনচেলত্তির। চলতি বিশ্বকাপে চার ম্যাচে ব্রাজিল গড়ে ম্যাচপ্রতি ১৫টি শট নিয়েছে, যা ১৯৯৮ সালের পর তাদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।

অন্যদিকে, নরওয়ের বড় চিন্তা তাদের রক্ষণভাগ। চলতি বিশ্বকাপে চার ম্যাচেই তারা যেমন গোল করেছে, তেমনি গোলও হজম করেছে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মাতেউস কুনহাদের মতো দ্রুতগতির আক্রমণভাগের বিপক্ষে এমন দুর্বলতা ভোগাতে পারে স্ক্যান্ডিনেভিয়ানদের।

তবে মুখোমুখি পরিসংখ্যান ব্রাজিলকে খুব বেশি স্বস্তি দিচ্ছে না। দুই দলের আগের চার দেখায় দুই জয় ও দুই ড্রয়ে অপরাজিত নরওয়ে। সর্বশেষ বিশ্বকাপে ১৯৯৮ সালে তাদের ২-১ গোলে হারিয়েছিল ভাইকিংরা। এছাড়া ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নকআউটে ব্রাজিলের সাম্প্রতিক রেকর্ডও হতাশাজনক। ২০০২ সালের ফাইনালে জার্মানিকে হারানোর পর ইউরোপের দলের বিপক্ষে টানা ছয়টি বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচে বিদায় নিয়েছে সেলেসাও।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইকনের পড়ালেখার দায়িত্ব নিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী

ব্রাজিল শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে জিতবে কি না, ভবিষ্যদ্বাণী সুপার কম্পিউটারের

আপডেট সময় ১১:৩২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত ২টায় মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও ইউরোপের উদীয়মান শক্তি নরওয়ে। তারকা ফরোয়ার্ড আর্লিং হালান্ডকে সামলানোর চ্যালেঞ্জ থাকলেও, পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপটা সুপার কম্পিউটার এই ম্যাচে পরিষ্কারভাবেই এগিয়ে রাখছে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলকে।

২৫ হাজারবার ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফল সিমুলেশন চালিয়ে অপটার হিসাব বলছে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই ৫৩.৬ শতাংশ ক্ষেত্রে জয় পেয়েছে ব্রাজিল। অন্যদিকে নরওয়ের জয়ের সম্ভাবনা ২২.৪ শতাংশ, আর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর মতো ড্রয়ের সম্ভাবনা ২৪ শতাংশ।

সব মিলিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনায়ও এগিয়ে সেলেসাও। অপটার হিসাবে, ব্রাজিলের শেষ আটে ওঠার সম্ভাবনা ৬৫.৬ শতাংশ, যেখানে নরওয়ের সম্ভাবনা ৩৪.৫ শতাংশ। এই ম্যাচের বিজয়ী কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড বা মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসও ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলছে। শেষ ষোলোর ১০টি ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই জিতেছে সেলেসাও। একমাত্র ব্যতিক্রম ১৯৯০ সালে, যখন আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল।

অন্যদিকে নরওয়েও আত্মবিশ্বাসী। শেষ ৩২-এর ম্যাচে আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ পায় তারা। জয়সূচক গোলটি করেছিলেন আর্লিং হালান্ড, যিনি জাতীয় দলের হয়ে টানা ১৩টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচেই গোল করেছেন। এই সময়ে তার গোলসংখ্যা ২৫।

ব্রাজিলের বিপক্ষেও গোল করতে পারলে বিশ্বকাপের প্রথম চার ম্যাচেই গোল করার বিরল কীর্তি গড়বেন হালান্ড। ১৯৯৮ সালে ইতালির ক্রিশ্চিয়ান ভিয়েরির পর প্রথম ইউরোপীয় ফুটবলার হিসেবে এই অর্জনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি।

হালান্ডের পেছনে রয়েছেন সৃজনশীল মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ড। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে অ্যাসিস্ট করা আর্সেনাল তারকা টানা চতুর্থ বিশ্বকাপ ম্যাচেও অ্যাসিস্ট করলে নতুন রেকর্ড গড়বেন।

শেষ ম্যাচে ব্রাজিল খুব একটা স্বস্তিদায়ক ফুটবল খেলতে পারেনি। জাপানের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় আনচেলত্তির দল। ম্যাচে ব্রাজিলের প্রথম গোলটি করেছিলেন কাসেমিরো।

সেই ম্যাচে আরও একবার আলো ছড়ান ব্রুনো গিমারায়েস। মার্টিনেল্লির জয়সূচক গোলের অ্যাসিস্ট করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের অ্যাসিস্ট সংখ্যা চারটিতে নিয়ে যান তিনি। ১৯৬৬ সালের পর এক বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে এর চেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট আছে কেবল কিংবদন্তি পেলের। তিনি ১৯৭০ আসরে ছয়টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন। যদিও আক্রমণভাগ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকতেই পারে আনচেলত্তির। চলতি বিশ্বকাপে চার ম্যাচে ব্রাজিল গড়ে ম্যাচপ্রতি ১৫টি শট নিয়েছে, যা ১৯৯৮ সালের পর তাদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।

অন্যদিকে, নরওয়ের বড় চিন্তা তাদের রক্ষণভাগ। চলতি বিশ্বকাপে চার ম্যাচেই তারা যেমন গোল করেছে, তেমনি গোলও হজম করেছে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মাতেউস কুনহাদের মতো দ্রুতগতির আক্রমণভাগের বিপক্ষে এমন দুর্বলতা ভোগাতে পারে স্ক্যান্ডিনেভিয়ানদের।

তবে মুখোমুখি পরিসংখ্যান ব্রাজিলকে খুব বেশি স্বস্তি দিচ্ছে না। দুই দলের আগের চার দেখায় দুই জয় ও দুই ড্রয়ে অপরাজিত নরওয়ে। সর্বশেষ বিশ্বকাপে ১৯৯৮ সালে তাদের ২-১ গোলে হারিয়েছিল ভাইকিংরা। এছাড়া ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নকআউটে ব্রাজিলের সাম্প্রতিক রেকর্ডও হতাশাজনক। ২০০২ সালের ফাইনালে জার্মানিকে হারানোর পর ইউরোপের দলের বিপক্ষে টানা ছয়টি বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচে বিদায় নিয়েছে সেলেসাও।