ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আগামী ১০ বছরের মধ্যে সরকার গঠন করতে চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম “মারো না কেন ওদের?”, ফোনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেও ফিফা সভাপতি পদেই থাকছেন ইনফান্তিনো মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাইলে ‘আকাশ ভেঙে পড়বে না’: কলকাতা হাইকোর্ট কিস্তি না পেয়ে গ্রাহকের গরু নিয়ে গেলেন এনজিও কর্মীরা হাসিনাকে বক্তব্যের সুযোগ দিয়ে সার্বভৌমত্বের প্রতি অপমান করেছে ভারত: রিজভী মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাইলে ‘আকাশ ভেঙে পড়বে না’: কলকাতা হাইকোর্ট ম্যাডাম যুবলীগ আ. লীগ আমলে লোপাটে বিপাকে ২ কোটি আমানতকারী: গভর্নর নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে যোগাযোগে ব্যাঘাত, যাত্রীবাহী বিমানের কাছে চলে আসে ট্রাম্পের হেলিকপ্টার

মোদি এখন দুর্বল, এবার বড় আন্দোলনের সতর্কবার্তা দিলেন সোনাম ওয়াংচুক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:২১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

ভারতের সাম্প্রতিক জেনজি আন্দোলনের কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক অবস্থান অনেকটাই দুর্বল হয়েছে বলে দাবি করেছেন সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুক। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে জনগণের দাবি উপেক্ষা করা হলে শিক্ষা ইস্যুর বাইরে আরও বড় আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে। সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সোনাম ওয়াংচুক বলেন, আন্দোলনের ফলে দেশের তরুণদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে এবং তারা এখন বিশ্বাস করছে যে ঐক্যবদ্ধ হলে পরিবর্তন আনা সম্ভব।

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে ভারতজুড়ে বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। আন্দোলনের জেরে ২৫ জুলাই ভারতের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। ওয়াংচুকের মতে, এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে আন্দোলন সরকারের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। ৫৯ বছর বয়সি ওয়াংচুক দিল্লিতে টানা ২৬ দিন অনশন করেন। এ সময় তিনি শুধু লবণ ও পানি গ্রহণ করেন। অনশনের সময় তার ওজন ১১ কেজি কমে যায়। পরে তিনি জানান, শেষ ছয় দিন তাকে জোর করে হাসপাতালে রাখা হয়েছিল, যা তার ভাষায় ছিল কারাগারের মতো।

তিনি বলেন, আন্দোলনের পর সরকার পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার দ্রুত বিচার, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য প্রযুক্তি খাতের একজন শীর্ষ উদ্যোক্তাকে দায়িত্ব দেওয়া এবং প্রশ্নফাঁসের কারণে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে ওয়াংচুকের মতে, শুধু এসব পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। বর্তমানে পরীক্ষাগুলো মূলত মুখস্থনির্ভর ও বহু নির্বাচনী প্রশ্নভিত্তিক হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের উপযোগিতা তৈরি হচ্ছে না।

তার মতে, শিক্ষা ও পরীক্ষার ধরন এমন হওয়া উচিত, যা ভবিষ্যতের চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে একদিকে শিক্ষার্থীরা দক্ষ হয়ে উঠবে, অন্যদিকে দেশের বেকারত্ব সমস্যাও কমতে পারে। ওয়াংচুক আরও বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী এখনো মামলা, পুলিশি হয়রানি ও সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন। যদিও ভারতের সুপ্রিম কোর্ট প্রথমবারের মতো অভিযুক্ত কিন্তু অপরাধমূলক রেকর্ড নেইএমন আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, সরকারের দেরিতে পদক্ষেপ নেওয়ার কারণেই তরুণদের মধ্যে ঐক্য ও আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে।

সম্প্রতি কয়েকটি উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপির পরাজয়ের ঘটনাও এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে বলে মন্তব্য করেন ওয়াংচুক। তিনি মনে করেন, সরকার এখনো ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নীতি পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। নিজে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই জানিয়ে ওয়াংচুক বলেন, তিনি অহিংস আন্দোলনের পথেই মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে চান। মহাত্মা গান্ধীর দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে অনশনের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে জানান তিনি। সূত্র: বিবিসি

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামী ১০ বছরের মধ্যে সরকার গঠন করতে চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম

মোদি এখন দুর্বল, এবার বড় আন্দোলনের সতর্কবার্তা দিলেন সোনাম ওয়াংচুক

আপডেট সময় ১১:২১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের সাম্প্রতিক জেনজি আন্দোলনের কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক অবস্থান অনেকটাই দুর্বল হয়েছে বলে দাবি করেছেন সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুক। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে জনগণের দাবি উপেক্ষা করা হলে শিক্ষা ইস্যুর বাইরে আরও বড় আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে। সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সোনাম ওয়াংচুক বলেন, আন্দোলনের ফলে দেশের তরুণদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে এবং তারা এখন বিশ্বাস করছে যে ঐক্যবদ্ধ হলে পরিবর্তন আনা সম্ভব।

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে ভারতজুড়ে বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। আন্দোলনের জেরে ২৫ জুলাই ভারতের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। ওয়াংচুকের মতে, এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে আন্দোলন সরকারের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। ৫৯ বছর বয়সি ওয়াংচুক দিল্লিতে টানা ২৬ দিন অনশন করেন। এ সময় তিনি শুধু লবণ ও পানি গ্রহণ করেন। অনশনের সময় তার ওজন ১১ কেজি কমে যায়। পরে তিনি জানান, শেষ ছয় দিন তাকে জোর করে হাসপাতালে রাখা হয়েছিল, যা তার ভাষায় ছিল কারাগারের মতো।

তিনি বলেন, আন্দোলনের পর সরকার পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার দ্রুত বিচার, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য প্রযুক্তি খাতের একজন শীর্ষ উদ্যোক্তাকে দায়িত্ব দেওয়া এবং প্রশ্নফাঁসের কারণে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে ওয়াংচুকের মতে, শুধু এসব পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। বর্তমানে পরীক্ষাগুলো মূলত মুখস্থনির্ভর ও বহু নির্বাচনী প্রশ্নভিত্তিক হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের উপযোগিতা তৈরি হচ্ছে না।

তার মতে, শিক্ষা ও পরীক্ষার ধরন এমন হওয়া উচিত, যা ভবিষ্যতের চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে একদিকে শিক্ষার্থীরা দক্ষ হয়ে উঠবে, অন্যদিকে দেশের বেকারত্ব সমস্যাও কমতে পারে। ওয়াংচুক আরও বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী এখনো মামলা, পুলিশি হয়রানি ও সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন। যদিও ভারতের সুপ্রিম কোর্ট প্রথমবারের মতো অভিযুক্ত কিন্তু অপরাধমূলক রেকর্ড নেইএমন আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, সরকারের দেরিতে পদক্ষেপ নেওয়ার কারণেই তরুণদের মধ্যে ঐক্য ও আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে।

সম্প্রতি কয়েকটি উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপির পরাজয়ের ঘটনাও এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে বলে মন্তব্য করেন ওয়াংচুক। তিনি মনে করেন, সরকার এখনো ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নীতি পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। নিজে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই জানিয়ে ওয়াংচুক বলেন, তিনি অহিংস আন্দোলনের পথেই মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে চান। মহাত্মা গান্ধীর দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে অনশনের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে জানান তিনি। সূত্র: বিবিসি