ঢাকা , শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বাউফলে নির্বাচন ঘিরে একাধিক সহিংসতা; পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিএনপি—জামায়াতের ১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত আসন ঘোষণা ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত, সর্বোচ্চ ১৯০ আসন জামায়াতে ইসলামী ভোলায় বালিশ চাপায় স্ত্রীকে হত্যা, পাষণ্ড স্বামী আটক ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ড বিতরণ বন্ধের দাবি জামায়াতের, সিইসির সঙ্গে বৈঠকে প্রটোকল সমতার আহ্বান জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি ও তথ্য বিক্রি করে মাসে কোটি টাকার বেশি আয়; নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মচারী গ্রেফতার বাউফলে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ বাউফলে জামায়াতের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন রাশেদ প্রধান ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ নামে নির্বাচনে অংশ নেবে ১১ দল

মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ স্থাপনের জন্য মাথায় করে ইট আনছেন স্থানীয়রা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৩৮:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২১৩ বার পড়া হয়েছে

এবার ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ৩৩ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙায় আজ (শনিবার) একই নামে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এর জন্য চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। অন্যদিকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে অংশ নিতে অনেকে মাথায় করে ইট নিয়ে আসছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রশাসনের তৎপরতা বেড়েছে এবং ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে অনুষ্ঠানের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বেলডাঙ্গা থানা ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ সদস্যরা জড়ো হন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় ও রাজ্য পুলিশসহ বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো।

সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে। উত্তর বারাসাতের বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলামকে প্রস্তাবিত কাঠামোর জন্য তার অবদানের অংশ হিসেবে মাথায় ইট বহন করতে দেখা যায়। এএনআইকে তিনি বলেন, ‘হুমায়ুন কবির যেখানে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন আমি সেখানে যাব। আমি বাবরি মসজিদের জন্য ইট নিয়ে যাচ্ছি।’ এদিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মুর্শিদাবাদের বাসভবন থেকে রওনা দেওয়ার সময় তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এএনআইকে বলেন, ‘আমি আজ বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব। আমি কিছু বলব না। পুলিশ আমাকে সমর্থন করছে। আমি তাদের সঙ্গে ইতোমধ্যেই কথা বলেছি। গতকাল কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর পুলিশ আমাকে সমর্থন করছে। তারা আমাকে নিরাপত্তা দিয়েছে।’

তিনি বলেন, প্রশাসন আয়োজকদের পুরোপুরি সহযোগিতা করছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদে যেন কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা না ছড়ায়, সেজন্য যা যা করা দরকার তা করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। সরকারকে বলা হয়েছে, এই সম্ভাব্য উত্তেজনা থামাতে এবং শান্তি বজায় রাখতে যা যা করা দরকার, তার সবই করতে হবে। এ বিষয়ে ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল রাজদীপ মজুমদার বলেছেন, সিআইএসএফের ১৯টি কোম্পানি ইতোমধ্যে এই অঞ্চলে উপস্থিত রয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে র‌্যাফের ইউনিট সহ ৩৫০০ জনের একটি দল রেজিনগর এবং আশেপাশের অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের সুরক্ষার জন্য বিএসএফের দুটি কোম্পানি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এই বিষয়ে দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন, রাজ্য সরকারকে তাদের অবস্থান অনুযায়ী কাজ করতে হবে। মুর্শিদাবাদে আইনশৃঙ্খলা কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে এবং নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের এ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা। হুমায়ুন কবীরের এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে হুমায়ুন কবীর বলেন, মূল ইভেন্টটি দুপুর ১২টায় শুরু হবে। দুই ঘণ্টা কোরান পাঠ করা হবে। অনুষ্ঠানে কোনো বক্তৃতা থাকবে না, কোনো রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থাকবে না, কোনো দলীয় পতাকা থাকবে না। আমি ২ হাজার স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে উপস্থিত থাকব। এই মসজিদ তৈরি করতে তিন বছর সময় লাগবে। অর্থ জোগাবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। একই সঙ্গে তিনি এ অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে রাজ্য পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন।

তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ পুরো ঘটনাকে ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন। তার অভিযোগ, রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলো তৃণমূলকে বদনাম করার চেষ্টা করছে। হাইকোর্টের নির্দেশের পর রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো সতর্ক রয়েছে। এদিকে, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বসু বাংলার জনগণকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং উসকানিমূলক বক্তব্য ও গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি রাজভবনে একটি ‘অ্যাক্সেস পয়েন্ট সেল’ স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো অশান্তি হলে তার ওপর নজর রাখবে এই সেল।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাউফলে নির্বাচন ঘিরে একাধিক সহিংসতা; পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিএনপি—জামায়াতের

মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ স্থাপনের জন্য মাথায় করে ইট আনছেন স্থানীয়রা

আপডেট সময় ০২:৩৮:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

এবার ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ৩৩ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙায় আজ (শনিবার) একই নামে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এর জন্য চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। অন্যদিকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে অংশ নিতে অনেকে মাথায় করে ইট নিয়ে আসছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রশাসনের তৎপরতা বেড়েছে এবং ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে অনুষ্ঠানের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বেলডাঙ্গা থানা ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ সদস্যরা জড়ো হন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় ও রাজ্য পুলিশসহ বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো।

সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে। উত্তর বারাসাতের বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলামকে প্রস্তাবিত কাঠামোর জন্য তার অবদানের অংশ হিসেবে মাথায় ইট বহন করতে দেখা যায়। এএনআইকে তিনি বলেন, ‘হুমায়ুন কবির যেখানে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন আমি সেখানে যাব। আমি বাবরি মসজিদের জন্য ইট নিয়ে যাচ্ছি।’ এদিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মুর্শিদাবাদের বাসভবন থেকে রওনা দেওয়ার সময় তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এএনআইকে বলেন, ‘আমি আজ বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব। আমি কিছু বলব না। পুলিশ আমাকে সমর্থন করছে। আমি তাদের সঙ্গে ইতোমধ্যেই কথা বলেছি। গতকাল কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর পুলিশ আমাকে সমর্থন করছে। তারা আমাকে নিরাপত্তা দিয়েছে।’

তিনি বলেন, প্রশাসন আয়োজকদের পুরোপুরি সহযোগিতা করছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদে যেন কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা না ছড়ায়, সেজন্য যা যা করা দরকার তা করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। সরকারকে বলা হয়েছে, এই সম্ভাব্য উত্তেজনা থামাতে এবং শান্তি বজায় রাখতে যা যা করা দরকার, তার সবই করতে হবে। এ বিষয়ে ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল রাজদীপ মজুমদার বলেছেন, সিআইএসএফের ১৯টি কোম্পানি ইতোমধ্যে এই অঞ্চলে উপস্থিত রয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে র‌্যাফের ইউনিট সহ ৩৫০০ জনের একটি দল রেজিনগর এবং আশেপাশের অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের সুরক্ষার জন্য বিএসএফের দুটি কোম্পানি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এই বিষয়ে দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন, রাজ্য সরকারকে তাদের অবস্থান অনুযায়ী কাজ করতে হবে। মুর্শিদাবাদে আইনশৃঙ্খলা কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে এবং নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের এ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা। হুমায়ুন কবীরের এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে হুমায়ুন কবীর বলেন, মূল ইভেন্টটি দুপুর ১২টায় শুরু হবে। দুই ঘণ্টা কোরান পাঠ করা হবে। অনুষ্ঠানে কোনো বক্তৃতা থাকবে না, কোনো রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থাকবে না, কোনো দলীয় পতাকা থাকবে না। আমি ২ হাজার স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে উপস্থিত থাকব। এই মসজিদ তৈরি করতে তিন বছর সময় লাগবে। অর্থ জোগাবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। একই সঙ্গে তিনি এ অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে রাজ্য পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন।

তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ পুরো ঘটনাকে ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন। তার অভিযোগ, রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলো তৃণমূলকে বদনাম করার চেষ্টা করছে। হাইকোর্টের নির্দেশের পর রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো সতর্ক রয়েছে। এদিকে, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বসু বাংলার জনগণকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং উসকানিমূলক বক্তব্য ও গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি রাজভবনে একটি ‘অ্যাক্সেস পয়েন্ট সেল’ স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো অশান্তি হলে তার ওপর নজর রাখবে এই সেল।