ঢাকা , সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রয়োজনে আমরা আবারও জীবন দিতে প্রস্তুত: জামায়াতে আমির ট্রাম্প মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন, পদচ্যুতি দরকার: সাবেক সিআইএ পরিচালক লেবানন-ইরানে হামলাকে তুরস্কের ওপর হামলা হিসেবে দেখা হবে: ইসরাইলকে এরদোগানের হুঁশিয়ারি ১০০ টাকা রিচার্জে সেবা মেলে মাত্র ৬২ টাকার, পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার ইরান ক্ষেপণাস্ত্র তাক করতেই হরমুজ থেকে ‘পালাল’ মার্কিন যুদ্ধজাহাজ আগামী সপ্তাহ থেকে ভারতীয় ভিসা পাবেন বাংলাদেশিরা অনলাইন জুয়াই মাদরাসার ৭০ হাজার টাকা হারিয়ে শিক্ষকের আত্মহত্যা হামলার মাত্র ৫ দিনেই ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ মেরামত করলো ইরান, যোগাযোগ স্বাভাবিক পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও বড় যে অস্ত্র এখন ইরানের হাতে ট্রাম্পের নৌ অবরোধের হুমকি ‘অত্যন্ত হাস্যকর’: ইরানের নৌবাহিনী প্রধান

বন্ধুদের ভুলে যায়নি ইরান, হরমুজ পার হলো মালয়েশীয় জাহাজ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:১৬:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪৬ বার পড়া হয়েছে

এবার ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যকার চরম উত্তেজনার মাঝে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রথম মালয়েশীয় তেলের ট্যাঙ্কার জাহাজটি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। কুয়ালালামপুরে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি যুদ্ধের কারণে কার্যত অবরুদ্ধ থাকলেও মালয়েশিয়ার জন্য বিশেষ ছাড় দিয়েছে তেহরান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সএ দেওয়া এক পোস্টে ইরানি দূতাবাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে উল্লেখ করেছে, ‘আমরা বলেছিলাম ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান তার বন্ধুদের ভুলে যায়নি; প্রথম মালয়েশিয়ান জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়ে গেছে।এই বার্তার মাধ্যমে ইরান সংকটের সময়েও মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। মালয়েশিয়ার জাহাজটিকে এই বিশেষ সুযোগ দেওয়া হলেও ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে বিধ্বংসী হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

তিনি সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি অবিলম্বে আত্মসমর্পণ না করে, তবে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘ইরান আত্মসমর্পণ না করলে তাদের কোনো সেতু থাকবে না, কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকবে না; মূলত কিছুই থাকবে না।ট্রাম্পের এই চরমপত্র মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে এবং এর ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়াবন্ধুত্বেরএই বার্তা মূলত গত মাসে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের আলোচনার ফসল বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে যখন বেশিরভাগ দেশের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বা বাধা রয়েছে, তখন মালয়েশিয়ার একটি ট্যাঙ্কার জাহাজকে নিরাপদে যেতে দেওয়া ইরানের একটি বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান এর মাধ্যমে বিশ্বকে দেখাতে চায় যে তারা কেবল শত্রুতা নয়, বরং মিত্রদের সহযোগিতাতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে মার্কিন হুমকির মুখে ইরানের এই নমনীয়তা কতক্ষণ স্থায়ী হয়, সেটি এখন বড় প্রশ্ন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। একদিকে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে ইরান তাদের ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে মালয়েশীয় জাহাজের এই সফল প্রস্থান একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি এটি অন্য মিত্র দেশগুলোর জন্যও প্রযোজ্য হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারি ইরানকে আরও কঠোর হওয়ার পথে ঠেলে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: কুয়ালালামপুরে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়োজনে আমরা আবারও জীবন দিতে প্রস্তুত: জামায়াতে আমির

বন্ধুদের ভুলে যায়নি ইরান, হরমুজ পার হলো মালয়েশীয় জাহাজ

আপডেট সময় ০১:১৬:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

এবার ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যকার চরম উত্তেজনার মাঝে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রথম মালয়েশীয় তেলের ট্যাঙ্কার জাহাজটি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। কুয়ালালামপুরে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি যুদ্ধের কারণে কার্যত অবরুদ্ধ থাকলেও মালয়েশিয়ার জন্য বিশেষ ছাড় দিয়েছে তেহরান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সএ দেওয়া এক পোস্টে ইরানি দূতাবাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে উল্লেখ করেছে, ‘আমরা বলেছিলাম ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান তার বন্ধুদের ভুলে যায়নি; প্রথম মালয়েশিয়ান জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়ে গেছে।এই বার্তার মাধ্যমে ইরান সংকটের সময়েও মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। মালয়েশিয়ার জাহাজটিকে এই বিশেষ সুযোগ দেওয়া হলেও ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে বিধ্বংসী হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

তিনি সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি অবিলম্বে আত্মসমর্পণ না করে, তবে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘ইরান আত্মসমর্পণ না করলে তাদের কোনো সেতু থাকবে না, কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকবে না; মূলত কিছুই থাকবে না।ট্রাম্পের এই চরমপত্র মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে এবং এর ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়াবন্ধুত্বেরএই বার্তা মূলত গত মাসে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের আলোচনার ফসল বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে যখন বেশিরভাগ দেশের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বা বাধা রয়েছে, তখন মালয়েশিয়ার একটি ট্যাঙ্কার জাহাজকে নিরাপদে যেতে দেওয়া ইরানের একটি বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান এর মাধ্যমে বিশ্বকে দেখাতে চায় যে তারা কেবল শত্রুতা নয়, বরং মিত্রদের সহযোগিতাতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে মার্কিন হুমকির মুখে ইরানের এই নমনীয়তা কতক্ষণ স্থায়ী হয়, সেটি এখন বড় প্রশ্ন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। একদিকে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে ইরান তাদের ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে মালয়েশীয় জাহাজের এই সফল প্রস্থান একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি এটি অন্য মিত্র দেশগুলোর জন্যও প্রযোজ্য হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারি ইরানকে আরও কঠোর হওয়ার পথে ঠেলে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: কুয়ালালামপুরে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস