ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা, ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৯৪ বার পড়া হয়েছে

এবার দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৫ জেলাতেই নিপাহ ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত জেলাগুলোর মধ্যে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। বুধবার (৭ জানুয়ারি) আইইডিসিআরের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ শীর্ষক এক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন।

সভায় জানানো হয়, ২০২৪ সালে দেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া গত বছর (২০২৫) নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজন মারা যান। আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসের মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। তবে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসেও নিপাহ রোগী শনাক্ত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, খেজুরের কাঁচা রস ছাড়াও সংক্রমণের অন্য কোনো উৎস থাকতে পারে। তিনি আরও জানান, গত বছর প্রথমবারের মতো ভোলা জেলায় নিপাহ ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়েছে, যেখানে আগে কখনো এই ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, নিপাহ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো চিকিৎসা বা টিকা আবিষ্কৃত হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) সংক্রামক রোগ বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী ও নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে সম্ভাব্য রোগী মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বমি, কাশি, অসংলগ্ন আচরণ, প্রলাপ বকা, ঘাড় ও পেশিতে ব্যথা, খিঁচুনি এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞরা খেজুরের কাঁচা রস খাওয়া থেকে পুরোপুরি বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি পাখি বা প্রাণীর আধা খাওয়া কোনো ফল না খাওয়া এবং যেকোনো ফলমূল পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তারা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা, ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ

আপডেট সময় ০৯:০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

এবার দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৫ জেলাতেই নিপাহ ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত জেলাগুলোর মধ্যে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। বুধবার (৭ জানুয়ারি) আইইডিসিআরের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ শীর্ষক এক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন।

সভায় জানানো হয়, ২০২৪ সালে দেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া গত বছর (২০২৫) নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজন মারা যান। আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসের মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। তবে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসেও নিপাহ রোগী শনাক্ত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, খেজুরের কাঁচা রস ছাড়াও সংক্রমণের অন্য কোনো উৎস থাকতে পারে। তিনি আরও জানান, গত বছর প্রথমবারের মতো ভোলা জেলায় নিপাহ ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়েছে, যেখানে আগে কখনো এই ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, নিপাহ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো চিকিৎসা বা টিকা আবিষ্কৃত হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) সংক্রামক রোগ বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী ও নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে সম্ভাব্য রোগী মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বমি, কাশি, অসংলগ্ন আচরণ, প্রলাপ বকা, ঘাড় ও পেশিতে ব্যথা, খিঁচুনি এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞরা খেজুরের কাঁচা রস খাওয়া থেকে পুরোপুরি বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি পাখি বা প্রাণীর আধা খাওয়া কোনো ফল না খাওয়া এবং যেকোনো ফলমূল পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তারা।