ঢাকা , বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মাদকসেবীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে তাবলিগ জামাতে পাঠাল পুলিশ জামায়াত-শিবিরের লাগাম টেনে না ধরলে হাসিনার থেকেও ভয়ংকর হবে: রাশেদ খাঁন বেপরোয়া ছাত্রশিবিরকে মুখে ও হাতে লাগাম লাগানোর পরামর্শ দিচ্ছি: নাছির মাদক কারবারিদের সংশোধনে তাবলিগে পাঠালেন ওসি ১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই, গ্রেপ্তার ১ নেদারল্যান্ডসের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কুশল বিনিময় জাতিসংঘে ভাষণে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি জানালেন এরদোয়ান গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে যা বললেন স্পিকার আমার দুধের সন্তানকে অপরাধী বানাতে চাইলে মেনে নেব না: অপ্রতিমের মা বাংলাদেশি সাংবাদিকদের ফ্রিতে সাংবাদিকতা শেখাবে ভারত

ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ফাঁকে চীনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেল ইরান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:৪২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
  • ১৩৪১ বার পড়া হয়েছে

এবার মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৈরী দুটি দেশ ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব। ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্ততায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে দেশ দুটি। তবে এই যুদ্ধবিরতিতে ভরসা করতে পারছে না ইরান। তেহরানের আশঙ্কা, যে কোনো সময় আবারো হামলা করতে পারে ইসরায়েল। আর সেই আশঙ্কা থেকেই এবার জোরকদমে পূর্বপ্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে খামেনি প্রশাসন।

জানা গেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই চীন থেকে অত্যাধুনিক সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের (এসএএম) বিশাল চালান হাতে পেয়েছে ইরান। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই শক্তিশালী, ইরানের আকাশসীমার ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান প্রবেশ করাই কঠিন হয়ে পড়বে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন একাধিক আরব গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তারা জানান, ২৪ জুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরই চীনা এসএএম HQ-9 বা HQ-16 এর এসব ব্যাটারি ইরানে পৌঁছায়। যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া প্রতিরক্ষা কাঠামো পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই এই সরঞ্জাম হস্তান্তর হয়েছে।

আরেক আরব কর্মকর্তা জানান, ইরান তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে তীব্র গতিতে কাজ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকেও এ অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত রাখা হয়েছে। জানা গেছে, চীন থেকে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার বিনিময়ে ইরান বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করছে। চীন বর্তমানে ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তৃতীয় দেশের মাধ্যমে চীন নিয়মিতভাবে ইরানি তেল আমদানি করছে, যা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চীনা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের আকাশে ইসরায়েলি আধিপত্যের সমাপ্তি ঘটাতে পারে। কারণ, সম্প্রতি ইসরায়েল ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও সামরিক বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে ধ্বংসাত্মক হামলা চালায়। তবে পাল্টা হামলায় ইরানও ইসরায়েলের তেলআবিব ও হাইফার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়।

বর্তমানে ইরান রাশিয়ার এস-৩০০ ছাড়াও দেশীয় প্রযুক্তির খোরদাদ ও বাভার-৩৭৩ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পরিচালনা করছে, যদিও সেগুলো মার্কিন স্টেলথ ফাইটার F-35 প্রতিরোধে পুরোপুরি কার্যকর নয়। তাই চীনা HQ-9 বা HQ-16 এর মতো আধুনিক এসএএম সিস্টেম ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। চীন ইতোমধ্যেই পাকিস্তান ও মিসরের মতো মিত্রদের কাছে এসব ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করেছে। এবার ইরানেও তা হস্তান্তর, মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্যে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদকসেবীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে তাবলিগ জামাতে পাঠাল পুলিশ

ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ফাঁকে চীনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেল ইরান

আপডেট সময় ০৫:৪২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫

এবার মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৈরী দুটি দেশ ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব। ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্ততায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে দেশ দুটি। তবে এই যুদ্ধবিরতিতে ভরসা করতে পারছে না ইরান। তেহরানের আশঙ্কা, যে কোনো সময় আবারো হামলা করতে পারে ইসরায়েল। আর সেই আশঙ্কা থেকেই এবার জোরকদমে পূর্বপ্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে খামেনি প্রশাসন।

জানা গেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই চীন থেকে অত্যাধুনিক সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের (এসএএম) বিশাল চালান হাতে পেয়েছে ইরান। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই শক্তিশালী, ইরানের আকাশসীমার ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান প্রবেশ করাই কঠিন হয়ে পড়বে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন একাধিক আরব গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তারা জানান, ২৪ জুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরই চীনা এসএএম HQ-9 বা HQ-16 এর এসব ব্যাটারি ইরানে পৌঁছায়। যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া প্রতিরক্ষা কাঠামো পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই এই সরঞ্জাম হস্তান্তর হয়েছে।

আরেক আরব কর্মকর্তা জানান, ইরান তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে তীব্র গতিতে কাজ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকেও এ অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত রাখা হয়েছে। জানা গেছে, চীন থেকে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার বিনিময়ে ইরান বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করছে। চীন বর্তমানে ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তৃতীয় দেশের মাধ্যমে চীন নিয়মিতভাবে ইরানি তেল আমদানি করছে, যা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চীনা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের আকাশে ইসরায়েলি আধিপত্যের সমাপ্তি ঘটাতে পারে। কারণ, সম্প্রতি ইসরায়েল ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও সামরিক বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে ধ্বংসাত্মক হামলা চালায়। তবে পাল্টা হামলায় ইরানও ইসরায়েলের তেলআবিব ও হাইফার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়।

বর্তমানে ইরান রাশিয়ার এস-৩০০ ছাড়াও দেশীয় প্রযুক্তির খোরদাদ ও বাভার-৩৭৩ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পরিচালনা করছে, যদিও সেগুলো মার্কিন স্টেলথ ফাইটার F-35 প্রতিরোধে পুরোপুরি কার্যকর নয়। তাই চীনা HQ-9 বা HQ-16 এর মতো আধুনিক এসএএম সিস্টেম ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। চীন ইতোমধ্যেই পাকিস্তান ও মিসরের মতো মিত্রদের কাছে এসব ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করেছে। এবার ইরানেও তা হস্তান্তর, মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্যে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।