ঢাকা , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঈদুল আজহায় একটি সপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে ৭ দিনের লম্বা ছুটির ঘোষণা অধিকার আদায়ে মব করতে রাজি: সর্বমিত্র চাকমা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ ছাত্রদল নেতা, গ্রেপ্তার কৃষকদল নেতা সরকার গঠন নিয়ে উত্তেজনা, দলের ১০৭ বিধায়ককে নিয়ে পদত্যাগের হুঁশিয়ারি বিজয়ের ইরানের মুহুর্মুহু হামলায় হরমুজ ছাড়লো মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের দোতলা ভবন নির্মাণ, নেই ওঠার সিঁড়ি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে পাল্টা হামলা করলো তেহরান দ্বিতীয় বিয়ে করলেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব ঘুষ নেয়ার অভিযোগে চীনের দুই সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড শান্তিচুক্তির মধ্যেই ইরানের রাজধানীসহ একাধিক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা 

শিক্ষকদের দাবি বৈষম্য নিরসন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৫১:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৯৫ বার পড়া হয়েছে

 

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার অলহরী দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফাতেমা শবনম গতকাল শনিবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে অংশ নেন আন্দোলনে। তার দাবি—সহকারী শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করা হোক।

সমকালের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, ‘প্রতি মাসে বেতন-বিল জমা দিতে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে যেতে হয়। সেখানে কোনো সম্মান পাই না। অফিস সহকারী পান ১২তম গ্রেডে বেতন, আমি শিক্ষক হয়েও পাই ১৩তম গ্রেডে। তাই তারা আমাদের সম্মান করেন না।’

ফাতেমা শবনমের ক্ষোভ, ‘অসম্মানের প্রতিবাদ ও দশম গ্রেডের দাবি জানাতে শহীদ মিনারে এসেছি। বাজারে গিয়ে ভালো মাছ কিনতে পারি না। দুই ঈদের বোনাস দিয়েও ঠিকমতো ঈদ পালন করা যায় না, কোরবানি তো দূরের কথা।’

শরীয়তপুরের নড়িয়ার পূর্ব পুনাইখারকান্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ইয়াছিন মিয়া বলেন, ‘সরকারি গাড়িচালকরা ১২তম গ্রেডে বেতন পান, আর আমরা শিক্ষকরা পাই ১৩তম গ্রেডে। চালকদের চেয়েও এ দেশে শিক্ষকদের মর্যাদা কম।’

ফাতেমা শবনম ও ইয়াছিন মিয়ার মতো কয়েক হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শনিবার সকাল থেকে অবস্থান নেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। বিকেলে তারা শাহবাগে পুলিশের জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেডের মুখে পড়েন।

প্রাথমিকের শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, একই শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চাকরিপ্রার্থীরা পাচ্ছেন দশম গ্রেড। অথচ তারা বৈষম্যের শিকার। সহকারী শিক্ষক পদের নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক সমমান হলেও বেতন গ্রেড ১৩তম। অথচ অষ্টম শ্রেণি পাস ড্রাইভাররাও পান ১২তম গ্রেডে।

শিক্ষকরা বলেন, সরকারের সচিবদের পাচক ভাতার চেয়েও তাদের বেতন কম। একই যোগ্যতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপরিদর্শক (এসআই), স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নার্স, কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন সচিবরা দশম গ্রেডে চাকরি করছেন, অথচ সহকারী শিক্ষকদের বেতন উন্নীত করা হচ্ছে না।

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের এই বেতনবৈষম্য নিরসনের দাবি দীর্ঘদিনের। ২০১৪ সাল থেকে তারা আন্দোলন করে আসছেন। ২০২০ সালে সরকার তাদের ১৪তম থেকে ১৩তম গ্রেডে উন্নীত করে। কিন্তু ২০১৮ সালে নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক করার পর থেকে শিক্ষকরা দশম গ্রেডের দাবি জোরালো করেন।

এ বছরের ২৪ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধান শিক্ষকদের ১১তম থেকে দশম গ্রেডে এবং সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম থেকে ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এতে অসন্তুষ্ট শিক্ষকরা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।

শেরপুর সদরের ইলশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহানুর রহমান রোমান বলেন, ‘তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর মর্যাদা নিয়ে কীভাবে আমরা শিশুদের প্রথম শ্রেণির নাগরিক হওয়ার শিক্ষা দেব? আমরা চাই কমপক্ষে দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ।’

শিক্ষকদের আরও দুটি দাবি হলো—
১️⃣ ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডের সমস্যা সমাধান,
২️⃣ শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি বাস্তবায়ন।

আগে সহকারী শিক্ষকরা ৬৫ শতাংশ প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেতেন, এখন তা ৮০ শতাংশ। বাকি ২০ শতাংশ পিএসসির মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগ হয়।

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর আইচাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মতিয়ুর রহমান বলেন, ‘২০১৮ সালে চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষক হয়েও পূর্ণাঙ্গ পদোন্নতি পাইনি। এখনও তৃতীয় শ্রেণির মর্যাদায় আছি। সহকারী শিক্ষকদের শতভাগ পদোন্নতি, দশম গ্রেড এবং দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা দিতে হবে।’

চলমান এই আন্দোলনে শিক্ষকদের একটাই স্লোগান—
‘প্রাথমিক শিক্ষা জাতির ভিত্তি, শিক্ষক অবহেলিত কেন এখনও?’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদুল আজহায় একটি সপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে ৭ দিনের লম্বা ছুটির ঘোষণা

শিক্ষকদের দাবি বৈষম্য নিরসন

আপডেট সময় ০৯:৫১:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

 

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার অলহরী দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফাতেমা শবনম গতকাল শনিবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে অংশ নেন আন্দোলনে। তার দাবি—সহকারী শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করা হোক।

সমকালের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, ‘প্রতি মাসে বেতন-বিল জমা দিতে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে যেতে হয়। সেখানে কোনো সম্মান পাই না। অফিস সহকারী পান ১২তম গ্রেডে বেতন, আমি শিক্ষক হয়েও পাই ১৩তম গ্রেডে। তাই তারা আমাদের সম্মান করেন না।’

ফাতেমা শবনমের ক্ষোভ, ‘অসম্মানের প্রতিবাদ ও দশম গ্রেডের দাবি জানাতে শহীদ মিনারে এসেছি। বাজারে গিয়ে ভালো মাছ কিনতে পারি না। দুই ঈদের বোনাস দিয়েও ঠিকমতো ঈদ পালন করা যায় না, কোরবানি তো দূরের কথা।’

শরীয়তপুরের নড়িয়ার পূর্ব পুনাইখারকান্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ইয়াছিন মিয়া বলেন, ‘সরকারি গাড়িচালকরা ১২তম গ্রেডে বেতন পান, আর আমরা শিক্ষকরা পাই ১৩তম গ্রেডে। চালকদের চেয়েও এ দেশে শিক্ষকদের মর্যাদা কম।’

ফাতেমা শবনম ও ইয়াছিন মিয়ার মতো কয়েক হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শনিবার সকাল থেকে অবস্থান নেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। বিকেলে তারা শাহবাগে পুলিশের জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেডের মুখে পড়েন।

প্রাথমিকের শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, একই শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চাকরিপ্রার্থীরা পাচ্ছেন দশম গ্রেড। অথচ তারা বৈষম্যের শিকার। সহকারী শিক্ষক পদের নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক সমমান হলেও বেতন গ্রেড ১৩তম। অথচ অষ্টম শ্রেণি পাস ড্রাইভাররাও পান ১২তম গ্রেডে।

শিক্ষকরা বলেন, সরকারের সচিবদের পাচক ভাতার চেয়েও তাদের বেতন কম। একই যোগ্যতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপরিদর্শক (এসআই), স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নার্স, কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন সচিবরা দশম গ্রেডে চাকরি করছেন, অথচ সহকারী শিক্ষকদের বেতন উন্নীত করা হচ্ছে না।

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের এই বেতনবৈষম্য নিরসনের দাবি দীর্ঘদিনের। ২০১৪ সাল থেকে তারা আন্দোলন করে আসছেন। ২০২০ সালে সরকার তাদের ১৪তম থেকে ১৩তম গ্রেডে উন্নীত করে। কিন্তু ২০১৮ সালে নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক করার পর থেকে শিক্ষকরা দশম গ্রেডের দাবি জোরালো করেন।

এ বছরের ২৪ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধান শিক্ষকদের ১১তম থেকে দশম গ্রেডে এবং সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম থেকে ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এতে অসন্তুষ্ট শিক্ষকরা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।

শেরপুর সদরের ইলশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহানুর রহমান রোমান বলেন, ‘তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর মর্যাদা নিয়ে কীভাবে আমরা শিশুদের প্রথম শ্রেণির নাগরিক হওয়ার শিক্ষা দেব? আমরা চাই কমপক্ষে দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ।’

শিক্ষকদের আরও দুটি দাবি হলো—
১️⃣ ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডের সমস্যা সমাধান,
২️⃣ শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি বাস্তবায়ন।

আগে সহকারী শিক্ষকরা ৬৫ শতাংশ প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেতেন, এখন তা ৮০ শতাংশ। বাকি ২০ শতাংশ পিএসসির মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগ হয়।

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর আইচাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মতিয়ুর রহমান বলেন, ‘২০১৮ সালে চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষক হয়েও পূর্ণাঙ্গ পদোন্নতি পাইনি। এখনও তৃতীয় শ্রেণির মর্যাদায় আছি। সহকারী শিক্ষকদের শতভাগ পদোন্নতি, দশম গ্রেড এবং দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা দিতে হবে।’

চলমান এই আন্দোলনে শিক্ষকদের একটাই স্লোগান—
‘প্রাথমিক শিক্ষা জাতির ভিত্তি, শিক্ষক অবহেলিত কেন এখনও?’