ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির অভিযোগ ‘এনসিপিতে ওপেন সিক্রেট’: রাশেদ খান আদালত কক্ষে আইনজীবীর সাথে বিরিয়ানি খেয়ে কারাগারে গেলেন সাহেদ আসিফের নিজ উপজেলাতেই ৪৫৩ কোটি, ২৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় জ্বালানি খাতকে পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী বিএনপির দুগ্রুপের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ফেনী ‘যাহা বলিতেছি, সত্য বলিতেছি’- সারের মজুত নিয়ে সংসদে কৃষিমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুদককে ক্ষমা চাইতে হবে: আসিফ মাহমুদ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয়ীদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার দাবি জামায়াত এমপির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুদককে ক্ষমা চাইতে হবে: আসিফ মাহমুদ মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি, যুবক আটক, এলাকায় উত্তেজনা

গুরুতর অসুস্থ পাহাড়ি নারীকে হেলিকপ্টারে করে সিএমএইচে নিল সেনাবাহিনী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:২৩:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৬৭ বার পড়া হয়েছে

এবার রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার আন্তর্জাতিক সীমান্তসংলগ্ন মাইনদারছড়া মুখ। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম দুর্গম একটি পাড়া। সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সোমবার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনী। অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দিনব্যাপী চিকিৎসা কার্যক্রমও চালায় তারা। এ সময় গুরুতর অসুস্থ এক পাহাড়ি নারীকে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে সেনাবাহিনীর সূত্র জানায়, মাইনদারছড়া মুখ পাড়াটি মূল সড়ক বা নৌপথ থেকে বিচ্ছিন্ন। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তঘেঁষা এ এলাকাটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে। সে কারণে সম্প্রতি বিশেষ অভিযান শুরু করেছে সেনাবাহিনী। তবে অভিযানের পাশাপাশি সাধারণ পাহাড়ি মানুষ যাতে কোনো আতঙ্কে না থাকে সেজন্য মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসা কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়।

গতকাল সোমবার সকালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন এলাকার জুমচাষি সাগা তংচংগার স্ত্রী সিনাবি তংচংগা (৬০)। সেনাবাহিনীর চিকিৎসকরা জানান, সিনাবির কিডনি ও পেটের জটিলতা বেশ গুরুতর। দুর্গম এলাকায় এ ধরনের রোগীর চিকিৎসা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল।

পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন করে ডিভিশন সদর থেকে দ্রুত আর্মি এভিয়েশনের একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়। পরে বিকেলে তাকে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। চিকিৎসকেরা বলছেন, সময়মতো হাসপাতালে নেওয়ায় তার অবস্থা এখন নিয়ন্ত্রণে আসে।

সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেবাকে আমরা সমানভাবে গুরুত্ব দিই। অভিযান শুধুমাত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে; সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে নয়। তাই অভিযান চললেও মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবার সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগে স্বস্তি পেয়েছেন তারা। সেনাবাহিনী বলছে, পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে নিরাপত্তা কার্যক্রমের সঙ্গে মানবিক সেবা আরও জোরদার করা হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির অভিযোগ ‘এনসিপিতে ওপেন সিক্রেট’: রাশেদ খান

গুরুতর অসুস্থ পাহাড়ি নারীকে হেলিকপ্টারে করে সিএমএইচে নিল সেনাবাহিনী

আপডেট সময় ০৯:২৩:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

এবার রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার আন্তর্জাতিক সীমান্তসংলগ্ন মাইনদারছড়া মুখ। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম দুর্গম একটি পাড়া। সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সোমবার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনী। অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দিনব্যাপী চিকিৎসা কার্যক্রমও চালায় তারা। এ সময় গুরুতর অসুস্থ এক পাহাড়ি নারীকে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে সেনাবাহিনীর সূত্র জানায়, মাইনদারছড়া মুখ পাড়াটি মূল সড়ক বা নৌপথ থেকে বিচ্ছিন্ন। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তঘেঁষা এ এলাকাটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে। সে কারণে সম্প্রতি বিশেষ অভিযান শুরু করেছে সেনাবাহিনী। তবে অভিযানের পাশাপাশি সাধারণ পাহাড়ি মানুষ যাতে কোনো আতঙ্কে না থাকে সেজন্য মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসা কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়।

গতকাল সোমবার সকালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন এলাকার জুমচাষি সাগা তংচংগার স্ত্রী সিনাবি তংচংগা (৬০)। সেনাবাহিনীর চিকিৎসকরা জানান, সিনাবির কিডনি ও পেটের জটিলতা বেশ গুরুতর। দুর্গম এলাকায় এ ধরনের রোগীর চিকিৎসা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল।

পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন করে ডিভিশন সদর থেকে দ্রুত আর্মি এভিয়েশনের একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়। পরে বিকেলে তাকে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। চিকিৎসকেরা বলছেন, সময়মতো হাসপাতালে নেওয়ায় তার অবস্থা এখন নিয়ন্ত্রণে আসে।

সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেবাকে আমরা সমানভাবে গুরুত্ব দিই। অভিযান শুধুমাত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে; সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে নয়। তাই অভিযান চললেও মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবার সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগে স্বস্তি পেয়েছেন তারা। সেনাবাহিনী বলছে, পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে নিরাপত্তা কার্যক্রমের সঙ্গে মানবিক সেবা আরও জোরদার করা হবে।