ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ওমরাহ পালনে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের নিহত ৩ জাসদ-ছাত্রলীগ থেকে জামায়াত, এক ভিডিওতে সব হারালেন এমপি নজরুল বিশ্বকাপের পর সবচেয়ে বেশি দাম বাড়ল ভোজিনহার নিরাপত্তার জেরে ইরান থেকে দূতাবাসকর্মীদের প্রত্যাহার করে নিল যুক্তরাজ্য দেশের মানুষ তারেক রহমানকে লাল কার্ড দেখাবে: সারজিস আলম ‘সব প্রস্তুতি শেষ’, ইরানে নজিরবিহীন হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের কুয়েতে ৩ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের দফায় দফায় ড্রোন হামলা ইন্টারনেট বন্ধ, রাতভর ধরপাকড়ের শঙ্কায় থমথমে দিল্লি আর্জেন্টিনাকে আজীবন বহিষ্কারে ২৩ মিলিয়ন গণস্বাক্ষর বাংলাদেশে কখনোই প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না: জোনায়েদ সাকি

গুরুতর অসুস্থ পাহাড়ি নারীকে হেলিকপ্টারে করে সিএমএইচে নিল সেনাবাহিনী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:২৩:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৩২ বার পড়া হয়েছে

এবার রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার আন্তর্জাতিক সীমান্তসংলগ্ন মাইনদারছড়া মুখ। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম দুর্গম একটি পাড়া। সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সোমবার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনী। অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দিনব্যাপী চিকিৎসা কার্যক্রমও চালায় তারা। এ সময় গুরুতর অসুস্থ এক পাহাড়ি নারীকে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে সেনাবাহিনীর সূত্র জানায়, মাইনদারছড়া মুখ পাড়াটি মূল সড়ক বা নৌপথ থেকে বিচ্ছিন্ন। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তঘেঁষা এ এলাকাটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে। সে কারণে সম্প্রতি বিশেষ অভিযান শুরু করেছে সেনাবাহিনী। তবে অভিযানের পাশাপাশি সাধারণ পাহাড়ি মানুষ যাতে কোনো আতঙ্কে না থাকে সেজন্য মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসা কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়।

গতকাল সোমবার সকালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন এলাকার জুমচাষি সাগা তংচংগার স্ত্রী সিনাবি তংচংগা (৬০)। সেনাবাহিনীর চিকিৎসকরা জানান, সিনাবির কিডনি ও পেটের জটিলতা বেশ গুরুতর। দুর্গম এলাকায় এ ধরনের রোগীর চিকিৎসা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল।

পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন করে ডিভিশন সদর থেকে দ্রুত আর্মি এভিয়েশনের একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়। পরে বিকেলে তাকে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। চিকিৎসকেরা বলছেন, সময়মতো হাসপাতালে নেওয়ায় তার অবস্থা এখন নিয়ন্ত্রণে আসে।

সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেবাকে আমরা সমানভাবে গুরুত্ব দিই। অভিযান শুধুমাত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে; সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে নয়। তাই অভিযান চললেও মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবার সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগে স্বস্তি পেয়েছেন তারা। সেনাবাহিনী বলছে, পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে নিরাপত্তা কার্যক্রমের সঙ্গে মানবিক সেবা আরও জোরদার করা হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ওমরাহ পালনে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের নিহত ৩

গুরুতর অসুস্থ পাহাড়ি নারীকে হেলিকপ্টারে করে সিএমএইচে নিল সেনাবাহিনী

আপডেট সময় ০৯:২৩:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

এবার রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার আন্তর্জাতিক সীমান্তসংলগ্ন মাইনদারছড়া মুখ। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম দুর্গম একটি পাড়া। সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সোমবার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনী। অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দিনব্যাপী চিকিৎসা কার্যক্রমও চালায় তারা। এ সময় গুরুতর অসুস্থ এক পাহাড়ি নারীকে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে সেনাবাহিনীর সূত্র জানায়, মাইনদারছড়া মুখ পাড়াটি মূল সড়ক বা নৌপথ থেকে বিচ্ছিন্ন। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তঘেঁষা এ এলাকাটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে। সে কারণে সম্প্রতি বিশেষ অভিযান শুরু করেছে সেনাবাহিনী। তবে অভিযানের পাশাপাশি সাধারণ পাহাড়ি মানুষ যাতে কোনো আতঙ্কে না থাকে সেজন্য মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসা কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়।

গতকাল সোমবার সকালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন এলাকার জুমচাষি সাগা তংচংগার স্ত্রী সিনাবি তংচংগা (৬০)। সেনাবাহিনীর চিকিৎসকরা জানান, সিনাবির কিডনি ও পেটের জটিলতা বেশ গুরুতর। দুর্গম এলাকায় এ ধরনের রোগীর চিকিৎসা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল।

পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন করে ডিভিশন সদর থেকে দ্রুত আর্মি এভিয়েশনের একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়। পরে বিকেলে তাকে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। চিকিৎসকেরা বলছেন, সময়মতো হাসপাতালে নেওয়ায় তার অবস্থা এখন নিয়ন্ত্রণে আসে।

সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেবাকে আমরা সমানভাবে গুরুত্ব দিই। অভিযান শুধুমাত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে; সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে নয়। তাই অভিযান চললেও মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবার সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগে স্বস্তি পেয়েছেন তারা। সেনাবাহিনী বলছে, পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে নিরাপত্তা কার্যক্রমের সঙ্গে মানবিক সেবা আরও জোরদার করা হবে।