ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকানের জায়গা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ২০ লেবাননে আরও হামলা চালানোর আহ্বান জানালেন ট্রাম্প তিন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবে জমা পড়ল ১১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা রোমানিয়ার বন্দরে বিস্ফোরিত ড্রোন ইউক্রেনের ছিল, স্বীকার করলেন প্রেসিডেন্ট রামিসা হত্যাকাণ্ডের রায়ে যে প্রতিক্রিয়া জানালেন জামায়াতে আমীর রাজধানীতে দিনদুপুরে ব্যবসায়ীকে গু’লি করে ছিন/তাই চাঞ্চল্যকর ওসমান হাদী হত্যা মামলার প্রতিবেদন ১৭ জুন ‘আমিও ৭ বার এমপি হতে চাই’, স্পিকারকে রেহানা আক্তার রানু বিশ্বকাপে ভাগ্য বদলে দিতে পারেন যে ১০ তারকা পুশ ইন ঠেকাতে সীমান্তে ৬০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন

বিএনপির সহযোগিতা এখন অভিশাপ: গলাচিপায় অবরুদ্ধের পর ক্ষোভে ফুঁসলেন ভিপি নুর”

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:৫৪:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫
  • ৭০৯ বার পড়া হয়েছে

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বিএনপির দেওয়া রাজনৈতিক সহযোগিতার চিঠিকে “আশীর্বাদ নয়, অভিশাপ” বলে আখ্যায়িত করেছেন। শুক্রবার (১৩ জুন) বিকেলে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা গেস্ট হাউজের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বক্তব্য দেন।

নুর বলেন, “বিএনপির কেন্দ্র থেকে দেওয়া সহযোগিতার চিঠির কারণে এখন মাঠ পর্যায়ে আমাদের সঙ্গে দন্ধ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আশীর্বাদ চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমাদের অভিশাপ দিয়েছে। এর ফলে নেতাকর্মীদের হামলা-মামলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।”

 

তিনি এ পরিস্থিতির জন্য সরাসরি দায়ী করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুনকে। নুরুল হক নুর বলেন, “হাসান মামুনের মতো নেতারা যদি এখনই নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে জনগণ বিএনপির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।”

নুর বলেন, বৃহস্পতিবার (১২ জুন) রাত থেকে গলাচিপার চরবিশ্বাস এলাকায় বিএনপি ও গণঅধিকার নেতাকর্মীদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর পর রাতে বকুলবাড়িয়া এলাকায় তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

রাত সাড়ে ৩টায় পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী এসে তাঁকে উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা গেস্ট হাউজে পৌঁছে দেয়। এ সময় নুর অভিযোগ করেন, “এভাবে একজন রাজনৈতিক নেতাকে অবরুদ্ধ রাখা শুধু অগণতান্ত্রিক নয়, বরং রাজনৈতিক হীন মানসিকতার প্রকাশ।”

নুরুল হক নুর জানান,“গণঅধিকার পরিষদ এখনো কোনো দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে জোট বাঁধেনি। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যদি আওয়ামী লীগ বিদায়ও নেয়, তবু যেন আরেকটি ফ্যাসিবাদী শক্তি জন্ম না নেয়, সেটা নিয়েই আমরা সতর্ক।”

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিজের উপর হামলা ও হয়রানির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ডাকসু নির্বাচনের সময় আমার ওপর হামলা হয়েছিল। এমনকি চুরির মিথ্যা মামলা পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল। এখন আবার অন্য নামে হামলা-মামলার শিকার হচ্ছি, শুধু দলের রঙটা বদলে গেছে।”

সংবাদ সম্মেলনে জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম সিকদার, বরিশাল মহানগর ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আবু নাঈম, ও অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নুরুল হক নুরের এই মন্তব্য দেশের রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে বিএনপির অভ্যন্তরে কেন্দ্র ও তৃণমূলে যোগাযোগের ফাটল এবং বিরোধী ঐক্যপ্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকানের জায়গা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ২০

বিএনপির সহযোগিতা এখন অভিশাপ: গলাচিপায় অবরুদ্ধের পর ক্ষোভে ফুঁসলেন ভিপি নুর”

আপডেট সময় ০৮:৫৪:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বিএনপির দেওয়া রাজনৈতিক সহযোগিতার চিঠিকে “আশীর্বাদ নয়, অভিশাপ” বলে আখ্যায়িত করেছেন। শুক্রবার (১৩ জুন) বিকেলে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা গেস্ট হাউজের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বক্তব্য দেন।

নুর বলেন, “বিএনপির কেন্দ্র থেকে দেওয়া সহযোগিতার চিঠির কারণে এখন মাঠ পর্যায়ে আমাদের সঙ্গে দন্ধ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আশীর্বাদ চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমাদের অভিশাপ দিয়েছে। এর ফলে নেতাকর্মীদের হামলা-মামলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।”

 

তিনি এ পরিস্থিতির জন্য সরাসরি দায়ী করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুনকে। নুরুল হক নুর বলেন, “হাসান মামুনের মতো নেতারা যদি এখনই নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে জনগণ বিএনপির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।”

নুর বলেন, বৃহস্পতিবার (১২ জুন) রাত থেকে গলাচিপার চরবিশ্বাস এলাকায় বিএনপি ও গণঅধিকার নেতাকর্মীদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর পর রাতে বকুলবাড়িয়া এলাকায় তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

রাত সাড়ে ৩টায় পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী এসে তাঁকে উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা গেস্ট হাউজে পৌঁছে দেয়। এ সময় নুর অভিযোগ করেন, “এভাবে একজন রাজনৈতিক নেতাকে অবরুদ্ধ রাখা শুধু অগণতান্ত্রিক নয়, বরং রাজনৈতিক হীন মানসিকতার প্রকাশ।”

নুরুল হক নুর জানান,“গণঅধিকার পরিষদ এখনো কোনো দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে জোট বাঁধেনি। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যদি আওয়ামী লীগ বিদায়ও নেয়, তবু যেন আরেকটি ফ্যাসিবাদী শক্তি জন্ম না নেয়, সেটা নিয়েই আমরা সতর্ক।”

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিজের উপর হামলা ও হয়রানির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ডাকসু নির্বাচনের সময় আমার ওপর হামলা হয়েছিল। এমনকি চুরির মিথ্যা মামলা পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল। এখন আবার অন্য নামে হামলা-মামলার শিকার হচ্ছি, শুধু দলের রঙটা বদলে গেছে।”

সংবাদ সম্মেলনে জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম সিকদার, বরিশাল মহানগর ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আবু নাঈম, ও অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নুরুল হক নুরের এই মন্তব্য দেশের রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে বিএনপির অভ্যন্তরে কেন্দ্র ও তৃণমূলে যোগাযোগের ফাটল এবং বিরোধী ঐক্যপ্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।