ঢাকা , বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আইভরিকোস্টকে ২–১ গোলে হারিয়ে শেষ ১৬-য় ব্রাজিলের মুখোমুখি নরওয়ে হালান্ডের শেষ মুহূর্তের গোলে নরওয়ের রুদ্ধশ্বাস জয়, শেষ ষোলো নিশ্চিত নুসার দুর্দান্ত গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নরওয়ে দুরন্ত ফ্রান্সকে হারানোর কঠিন মিশনে সুইডেন সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভুলে ধন্যবাদ দিলেন আমির হামজা কর্ণফুলীতে ফিশিং ভেসেলে বিস্ফোরণ, ৬ নাবিক দগ্ধ আনচেলত্তি ফ্যাক্টরেই বিশ্বকাপে এক প্রজন্মের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা এড়াল ব্রাজিল জাতীয় সংসদে আইনজীবীর পোশাকে রুমিন ফারহানা, সংসদে আলোচনা ‘ধন্যবাদ বাংলাদেশ, আমরা ব্রাজিলিয়ানরাও তোমাদের ভালোবাসি‘ জার্মান সেই গণিতবিদকে এক হাত নিলেন নেইমার

বিএনপিকে কোণঠাসা করার গভীর পরিকল্পনা চলছে: রনি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:১৩:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
  • ৩৪৮ বার পড়া হয়েছে

এবার বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে একঘরে করার জন্য একটি সুপরিকল্পিত ও শক্তিশালী প্রচেষ্টা চলছে, এমনটাই মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি। তার দাবি, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো বিএনপিকে রাজনৈতিক মাঠ থেকে সরিয়ে দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশে একতরফা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। সম্প্রতি তার ইউটিউব চ্যানেলে তিনি এসব কথা বলেন। গোলাম মাওলা রনির মতে, জুলাই ও আগস্ট মাসের মধ্যেই কিছু গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে।

এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সরিয়ে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং একটি সুবিধাজনক কমিশন তৈরি করার পরিকল্পনা। তিনি বলেন, ‘এই পরিকল্পনার পথে প্রধান বাধা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বিএনপিকে। তাই বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে ফিনিশ করার চেষ্টা চলছে—প্রচার, অপবাদ ও প্রশাসনিক চাপে।’ তিনি আরো দাবি করেন, তার পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মাইনাস টু থিওরি আবার ফিরে আসছে এবং ১১ দফা আন্দোলনের আদলে নতুন একটি রাজনৈতিক তরঙ্গ তৈরি হচ্ছে, যেখানে বিএনপিকে নিষিদ্ধ করার মতো হুমকিও উচ্চারিত হচ্ছে।

গোলাম মাওলা রনি সরাসরি বিএনপির অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেন। তার দাবি, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বিএনপির তৃণমূল কমিটি গঠনে অর্থ-বাণিজ্য ও অনৈতিক লেনদেন হয়েছে, যা দলটিকে আদর্শ ও শৃঙ্খলার পথ থেকে বিচ্যুত করেছে। তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি দেওয়ার জন্য লাখ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে। ফলে এখন নেতারা সেই টাকা উসুলে ব্যস্ত, নীতি-আদর্শের কথা ভুলে গেছেন।’ তিনি প্রস্তাব করেন, সমস্ত কমিটি ভেঙে দিয়ে ৩০০টি নির্বাচনী আসনভিত্তিক যোগ্য প্রার্থী ঠিক করে এবং দল চালানোর দায়িত্ব সেই প্রার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হোক।

গোলাম মাওলা রনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে দেশে চাঁদাবাজি, দখলদারি, সহিংসতা ও সাজানো মামলার পেছনে বিএনপির নাম জড়িয়ে যাচ্ছে, যদিও অনেক ঘটনাই তৃতীয় পক্ষ দ্বারা সংগঠিত।’ সেনাবাহিনী ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তুলনামূলকভাবে তিনি বলেন, ‘গত ১১ মাসে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি। এমনকি পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ কমেছে। বরং বিএনপির নেতাকর্মীরা এসব অপকর্মের দায় নিচ্ছেন, অনেকটা চুপচাপ ব্যবহৃত হচ্ছেন।’

গোলাম মাওলা রনি প্রশ্ন তোলেন, বিএনপি কেন এখনো বুঝে উঠতে পারছে না যে তাদের বিরুদ্ধে এত নেতিবাচকতা তৈরি হচ্ছে? তিনি বলেন, ‘বিবৃতি ও বক্তৃতা দিয়ে এই সংকট থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়। এখন দরকার ‘অ্যাকশন’। কিন্তু বিএনপি তা দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছে।’ তার মতে, দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের ‘অভিমানী আত্মবিশ্বাস’ ও মাঠের বাস্তবতা না বুঝে চলার কারণেই আজকের এই অবস্থা। তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতি থেকে আর ফেরার সুযোগ নেই। রোগটা এতটাই গভীর হয়ে গেছে যে এখন সেই দুর্ভোগ-দুর্দশা ভোগ করেই বিএনপিকে পরবর্তী পদক্ষেপে যেতে হবে।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আইভরিকোস্টকে ২–১ গোলে হারিয়ে শেষ ১৬-য় ব্রাজিলের মুখোমুখি নরওয়ে

বিএনপিকে কোণঠাসা করার গভীর পরিকল্পনা চলছে: রনি

আপডেট সময় ০১:১৩:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

এবার বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে একঘরে করার জন্য একটি সুপরিকল্পিত ও শক্তিশালী প্রচেষ্টা চলছে, এমনটাই মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি। তার দাবি, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো বিএনপিকে রাজনৈতিক মাঠ থেকে সরিয়ে দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশে একতরফা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। সম্প্রতি তার ইউটিউব চ্যানেলে তিনি এসব কথা বলেন। গোলাম মাওলা রনির মতে, জুলাই ও আগস্ট মাসের মধ্যেই কিছু গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে।

এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সরিয়ে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং একটি সুবিধাজনক কমিশন তৈরি করার পরিকল্পনা। তিনি বলেন, ‘এই পরিকল্পনার পথে প্রধান বাধা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বিএনপিকে। তাই বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে ফিনিশ করার চেষ্টা চলছে—প্রচার, অপবাদ ও প্রশাসনিক চাপে।’ তিনি আরো দাবি করেন, তার পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মাইনাস টু থিওরি আবার ফিরে আসছে এবং ১১ দফা আন্দোলনের আদলে নতুন একটি রাজনৈতিক তরঙ্গ তৈরি হচ্ছে, যেখানে বিএনপিকে নিষিদ্ধ করার মতো হুমকিও উচ্চারিত হচ্ছে।

গোলাম মাওলা রনি সরাসরি বিএনপির অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেন। তার দাবি, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বিএনপির তৃণমূল কমিটি গঠনে অর্থ-বাণিজ্য ও অনৈতিক লেনদেন হয়েছে, যা দলটিকে আদর্শ ও শৃঙ্খলার পথ থেকে বিচ্যুত করেছে। তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি দেওয়ার জন্য লাখ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে। ফলে এখন নেতারা সেই টাকা উসুলে ব্যস্ত, নীতি-আদর্শের কথা ভুলে গেছেন।’ তিনি প্রস্তাব করেন, সমস্ত কমিটি ভেঙে দিয়ে ৩০০টি নির্বাচনী আসনভিত্তিক যোগ্য প্রার্থী ঠিক করে এবং দল চালানোর দায়িত্ব সেই প্রার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হোক।

গোলাম মাওলা রনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে দেশে চাঁদাবাজি, দখলদারি, সহিংসতা ও সাজানো মামলার পেছনে বিএনপির নাম জড়িয়ে যাচ্ছে, যদিও অনেক ঘটনাই তৃতীয় পক্ষ দ্বারা সংগঠিত।’ সেনাবাহিনী ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তুলনামূলকভাবে তিনি বলেন, ‘গত ১১ মাসে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি। এমনকি পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ কমেছে। বরং বিএনপির নেতাকর্মীরা এসব অপকর্মের দায় নিচ্ছেন, অনেকটা চুপচাপ ব্যবহৃত হচ্ছেন।’

গোলাম মাওলা রনি প্রশ্ন তোলেন, বিএনপি কেন এখনো বুঝে উঠতে পারছে না যে তাদের বিরুদ্ধে এত নেতিবাচকতা তৈরি হচ্ছে? তিনি বলেন, ‘বিবৃতি ও বক্তৃতা দিয়ে এই সংকট থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়। এখন দরকার ‘অ্যাকশন’। কিন্তু বিএনপি তা দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছে।’ তার মতে, দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের ‘অভিমানী আত্মবিশ্বাস’ ও মাঠের বাস্তবতা না বুঝে চলার কারণেই আজকের এই অবস্থা। তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতি থেকে আর ফেরার সুযোগ নেই। রোগটা এতটাই গভীর হয়ে গেছে যে এখন সেই দুর্ভোগ-দুর্দশা ভোগ করেই বিএনপিকে পরবর্তী পদক্ষেপে যেতে হবে।’