ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘ইচ্ছার বিরুদ্ধে’ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা, যুবকের বিশেষ অঙ্গ কেটে দিলেন স্ত্রী মায়ের সামনে ছেলেকে গাছে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন বিএনপির মহাসচিব পদে আলোচনায় ২ নেতা খাস জমিতে মহিষ চরাতেও দিতে হয় চাঁদা কঙ্গোতে ইবোলা ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী রূপ নেওয়ার পথে: ডব্লিউএইচও বৈদ্যুতিক বাসের যুগে প্রবেশের অপেক্ষায় দেশ প্রেম করে বিয়ে, ৭ মাসের মধ্যে গৃহবধূর রহ/স্য/জনক মৃ/ত্যু বৈদ্যুতিক বাসের যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ, প্রথম ধাপে নামছে ২০০টি ইলেকট্রিক বাস ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বাজারে বেড়েছে অবহেলিত তালের হাতপাখার কদর এনআইডির জন্মতারিখ ও নাম সংশোধনে নতুন সিদ্ধান্ত

বৈদ্যুতিক বাসের যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ, প্রথম ধাপে নামছে ২০০টি ইলেকট্রিক বাস

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:১৬:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

এবার নানা জল্পনাকল্পনার পর বৈদ্যুতিক বাসের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী তিন মাসের মধ্যে ঢাকার সড়কে দেখা যাবে আধুনিক এই গণপরিবহন। মন্ত্রী বলছেন, অবকাঠামো নির্মাণ ও প্রশিক্ষণের কাজ শুরু হবে শিগগিরই। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশৃঙ্খল বাস নেটওয়ার্ক নিয়মের মধ্যে না এলে এই উদ্যোগের সুফল পাওয়া কঠিন। বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম আর দুর্ভোগ রাজধানী ঢাকার গণপরিবহনের চেনা চিত্র এটি। যাত্রীসেবাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ ও লক্কড়ঝক্কড় বাস। পরিস্থিতির উত্তরণে গণপরিবহনে বিদ্যুৎচালিত আধুনিক বাস সংযোজনের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। তবে নতুন সরকার আবারও এমন পরিকল্পনা নিয়েছে।

প্রথম ধাপে ২০০টি ইলেকট্রিক বাস সড়কে নামানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি বাস নারীদের জন্য নির্ধারিত থাকবে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলছেন, তিন মাসের মধ্যেই যাত্রীসেবায় এসব বাস দৃশ্যমান হবে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, আপনি আজকে যদি প্রজেক্ট নেন, তাহলে এক থেকে দেড় বছর লাগবে বাস আনতে। এজন্য আমরা ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথডে গিয়েছি। এতে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস পাব। আমি মনে করছি, সবকিছু ঠিক থাকলে তিন মাসের মধ্যে আপনি ইলেকট্রিক বাসে চড়ছেন বা দেখছেন। একই সময়ে এর সার্ভিসিং স্টেশন, চার্জিং স্টেশন এবং পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে। আমাদের অভিজ্ঞ জনবল নেই, তাদের প্রশিক্ষণও এই তিন মাসের মধ্যে চলবে।

দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব বাস সংগ্রহ করা হবে। এর আগে এ ধরনের উদ্যোগে বাস মালিক সমিতি বাধা দিলেও এবার তেমনটি হবে না বলে মনে করেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী আরও বলেন, আমি বাস মালিক সমিতি এবং শ্রমিক সংগঠনের কোনো বাধা পাচ্ছি না। আমরা তাদের ডেকে উৎসাহিত করছি, যাতে তারাও ইলেকট্রিক বাসে আসে। তারা একই রুটে একাধিক মালিকানার বাস চালাতে পারবে না। তাদেরও একটি কোম্পানি করতে হবে এবং তারা ইলেকট্রিক বাসে আসবে। জরাজীর্ণ বাসের বিষয়ে ইতিমধ্যে আমরা বলেছি, ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস ফিটনেস পাবে না।

তবে তিন মাসের মধ্যে চালকদের প্রশিক্ষণ, ডিপো তৈরি, চার্জিং স্টেশন স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বুয়েটের এই যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ বলছেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া ইলেকট্রিক বাস নামানো হলে উদ্যোগটি ব্যর্থ হতে পারে। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান বলেন, যারা কাজ করবে, তাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। যারা টেকনিশিয়ান থাকবেন, তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করতে হবে। আমি বলব, একটি মাস্টারপ্ল্যান লাগবে। শুধু বাস প্রকিউরমেন্ট নয়, পুরো ইকোসিস্টেমকে আগে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে এটি আমাদের বিদ্যমান ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানানসই হয়। তা না হলে আমরা বাস কিনতে পারি এবং চালাতেও পারব, কিন্তু সেটি টেকসই হবে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যাবে। বিদ্যমান এলোপাতাড়ি বাস নেটওয়ার্ক শৃঙ্খলার মধ্যে এলেই কেবল ইলেকট্রিক বাস যাত্রীসেবায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইচ্ছার বিরুদ্ধে’ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা, যুবকের বিশেষ অঙ্গ কেটে দিলেন স্ত্রী

বৈদ্যুতিক বাসের যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ, প্রথম ধাপে নামছে ২০০টি ইলেকট্রিক বাস

আপডেট সময় ১২:১৬:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

এবার নানা জল্পনাকল্পনার পর বৈদ্যুতিক বাসের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী তিন মাসের মধ্যে ঢাকার সড়কে দেখা যাবে আধুনিক এই গণপরিবহন। মন্ত্রী বলছেন, অবকাঠামো নির্মাণ ও প্রশিক্ষণের কাজ শুরু হবে শিগগিরই। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশৃঙ্খল বাস নেটওয়ার্ক নিয়মের মধ্যে না এলে এই উদ্যোগের সুফল পাওয়া কঠিন। বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম আর দুর্ভোগ রাজধানী ঢাকার গণপরিবহনের চেনা চিত্র এটি। যাত্রীসেবাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ ও লক্কড়ঝক্কড় বাস। পরিস্থিতির উত্তরণে গণপরিবহনে বিদ্যুৎচালিত আধুনিক বাস সংযোজনের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। তবে নতুন সরকার আবারও এমন পরিকল্পনা নিয়েছে।

প্রথম ধাপে ২০০টি ইলেকট্রিক বাস সড়কে নামানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি বাস নারীদের জন্য নির্ধারিত থাকবে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলছেন, তিন মাসের মধ্যেই যাত্রীসেবায় এসব বাস দৃশ্যমান হবে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, আপনি আজকে যদি প্রজেক্ট নেন, তাহলে এক থেকে দেড় বছর লাগবে বাস আনতে। এজন্য আমরা ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথডে গিয়েছি। এতে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস পাব। আমি মনে করছি, সবকিছু ঠিক থাকলে তিন মাসের মধ্যে আপনি ইলেকট্রিক বাসে চড়ছেন বা দেখছেন। একই সময়ে এর সার্ভিসিং স্টেশন, চার্জিং স্টেশন এবং পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে। আমাদের অভিজ্ঞ জনবল নেই, তাদের প্রশিক্ষণও এই তিন মাসের মধ্যে চলবে।

দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব বাস সংগ্রহ করা হবে। এর আগে এ ধরনের উদ্যোগে বাস মালিক সমিতি বাধা দিলেও এবার তেমনটি হবে না বলে মনে করেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী আরও বলেন, আমি বাস মালিক সমিতি এবং শ্রমিক সংগঠনের কোনো বাধা পাচ্ছি না। আমরা তাদের ডেকে উৎসাহিত করছি, যাতে তারাও ইলেকট্রিক বাসে আসে। তারা একই রুটে একাধিক মালিকানার বাস চালাতে পারবে না। তাদেরও একটি কোম্পানি করতে হবে এবং তারা ইলেকট্রিক বাসে আসবে। জরাজীর্ণ বাসের বিষয়ে ইতিমধ্যে আমরা বলেছি, ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস ফিটনেস পাবে না।

তবে তিন মাসের মধ্যে চালকদের প্রশিক্ষণ, ডিপো তৈরি, চার্জিং স্টেশন স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বুয়েটের এই যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ বলছেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া ইলেকট্রিক বাস নামানো হলে উদ্যোগটি ব্যর্থ হতে পারে। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান বলেন, যারা কাজ করবে, তাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। যারা টেকনিশিয়ান থাকবেন, তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করতে হবে। আমি বলব, একটি মাস্টারপ্ল্যান লাগবে। শুধু বাস প্রকিউরমেন্ট নয়, পুরো ইকোসিস্টেমকে আগে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে এটি আমাদের বিদ্যমান ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানানসই হয়। তা না হলে আমরা বাস কিনতে পারি এবং চালাতেও পারব, কিন্তু সেটি টেকসই হবে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যাবে। বিদ্যমান এলোপাতাড়ি বাস নেটওয়ার্ক শৃঙ্খলার মধ্যে এলেই কেবল ইলেকট্রিক বাস যাত্রীসেবায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।