ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আজ রাতে খালি চোখে দেখা যাবে পারসেইড উল্কাবৃষ্টি মুয়াজ্জিনের তালিকায় নাম না দেওয়ায় ইমামকে হাতুড়িপেটার অভিযোগ যন্তর মন্তর ‘সিজন-টু’ শুরুর হুঁশিয়ারি ককরোচ জনতা পার্টির অভিজিৎ দীপকের ২০২৭ সালের মধ্যে বসিলা ও রায়েরবাজারে হবে আলাদা থানা: ববি হাজ্জাজ অতিরিক্ত যাত্রী, বড় ঢেউ; জিম্বাবুয়েতে ফেরি দুর্ঘটনায় নিহত ৪৪ বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা নারী, যুবলীগ কর্মী গ্রেফতার বিএনপির পতন হলে আপনারা সরকার চালাতে পারবেন?-প্রশ্ন রাশেদ খানের বালুর ঘাটে ইজারাদারের কর্মীকে ইউএনওর মারধর তুরস্কে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত অন্যতম শীর্ষ অনলাইন ক্যাসিনো এজেন্ট লিপুর বাগানবাড়িতে ডিবির অভিযান

আজ রাতে খালি চোখে দেখা যাবে পারসেইড উল্কাবৃষ্টি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

 

বছরের প্রায় প্রতিদিন উল্কাপাত হয়ে থাকে। তবে উল্কাবৃষ্টি জানুয়ারি, এপ্রিল ও আগস্ট থেকে ডিসেম্বরে দেখা মেলে।

 

আগস্টে ১২ থেকে ১৩ তারিখ আকাশে পারসেইড উল্কাবৃষ্টির দেখা মেলে। এ বছর একই দিনে অমাবস্যা থাকায় যেহেতু আকাশে চাঁদের আলো থাকবে না, তাই এবার ভালোভাবে খালি চোখে দেখা যাবে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, আজ বুধবার (১২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত আকাশে ঘণ্টায় ৫০টার মতো উল্কা দেখা যেতে পারে বলছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

 

উল্কাবৃষ্টি হলো এমন একটি ঘটনা যখন আকাশে অনেক উজ্জ্বল আলোর রেখা দেখা যায়।

 

 

পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরতে ঘুরতে মহাকাশের উল্কাপিণ্ড (মেটিরয়েড) গুলোর কাছ দিয়ে যখন যায় তখন পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে উজ্জ্বল আলোর রেখা তৈরি করে। তখন সেই অবস্থাকেই উল্কাবৃষ্টি বলা হয়। এটি দেখার জন্য অন্ধকার জায়গা, পরিষ্কার আকাশ এবং ধূলিকণা মুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। সাধারণত রাত ১২টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত এটি ভালোভাবে দেখা যায়।

 

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, উল্কাবৃষ্টি তিনভাবে সৃষ্টি হয়ে থাকে। এক, মহাকাশ সৃষ্টির সময়কার ভাসমান বড় বড় পাথরগুলোর (এস্টরয়েড) সংঘর্ষে। দুই, যখন ধূমকেতু সূর্যের কাছাকাছি আসে, এসময় ধুমকেতুর বরফ গলে যায় এবং ভেতরের পাথর ও ধূলিকণাগুলো আলগা হয়ে মহাকাশে ভাসতে থাকে। এ ছাড়া, চাঁদ বা মঙ্গল গ্রহে বড় কোনো মহাকাশের পাথরের (এস্টরয়েড)আঘাতের ফলে সেখান থেকে ছিটকে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে উল্কাপিণ্ড।

 

উল্কার তিনটি অবস্থা থাকে।

 

এক, মেটিওরয়েড যেটি উল্কাপিণ্ড মহাকাশে ভাসমান অবস্থায় থাকে। দুই, মেটিওর (শাওয়ার) যেটি উল্কা পাত বা বৃষ্টি মহাকাশ থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকে জ্বলে ওঠে। এবং তিন মেটিওরাইট যা উল্কা পিণ্ড পুরোপুরি পুড়ে না গিয়ে পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়।

বাংলাদেশে জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করে থাকে ‘অনুসন্ধনিৎসু সংগঠন’। ১৯৭৫ সালে নটর ডেম কলেজ ও ঢাকা কলেজের ছাত্ররা বিজ্ঞান সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। তারা বিজ্ঞান মেলা, আকাশ পর্যবেক্ষণ, ঈদে চাঁদ দেখার বিষয়সহ জনগণকে বিভিন্ন মহাজাগতিক তথ্য প্রদানের কাজ করে থাকেন।

 

সংগঠনটির প্রাক্তন সভাপতি আজহারুল হক সেলিম বলেন, মহাকাশের উল্কাপিণ্ড যখন তীব্র বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে তখন বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে ঘর্ষণে জলে উঠে আলোকপিণ্ডে রূপ নেয় এবং উজ্জ্বল রেখা তৈরি করে। অনেকের ধারণা উল্কাপাত এবং উল্কাবৃষ্টি কেবল রাতে ঘটে। বাস্তবে দিন ও রাত সবসময় ঘটে। দিনে সূর্যের আলোর কারণে দেখতে পাওয়া যায় না। কেবল রাতে চোখে ধরা পড়ে। পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত উল্কাবৃষ্টি উপভোগের উত্তম সময়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ রাতে খালি চোখে দেখা যাবে পারসেইড উল্কাবৃষ্টি

আজ রাতে খালি চোখে দেখা যাবে পারসেইড উল্কাবৃষ্টি

আপডেট সময় ০২:০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

 

বছরের প্রায় প্রতিদিন উল্কাপাত হয়ে থাকে। তবে উল্কাবৃষ্টি জানুয়ারি, এপ্রিল ও আগস্ট থেকে ডিসেম্বরে দেখা মেলে।

 

আগস্টে ১২ থেকে ১৩ তারিখ আকাশে পারসেইড উল্কাবৃষ্টির দেখা মেলে। এ বছর একই দিনে অমাবস্যা থাকায় যেহেতু আকাশে চাঁদের আলো থাকবে না, তাই এবার ভালোভাবে খালি চোখে দেখা যাবে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, আজ বুধবার (১২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত আকাশে ঘণ্টায় ৫০টার মতো উল্কা দেখা যেতে পারে বলছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

 

উল্কাবৃষ্টি হলো এমন একটি ঘটনা যখন আকাশে অনেক উজ্জ্বল আলোর রেখা দেখা যায়।

 

 

পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরতে ঘুরতে মহাকাশের উল্কাপিণ্ড (মেটিরয়েড) গুলোর কাছ দিয়ে যখন যায় তখন পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে উজ্জ্বল আলোর রেখা তৈরি করে। তখন সেই অবস্থাকেই উল্কাবৃষ্টি বলা হয়। এটি দেখার জন্য অন্ধকার জায়গা, পরিষ্কার আকাশ এবং ধূলিকণা মুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। সাধারণত রাত ১২টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত এটি ভালোভাবে দেখা যায়।

 

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, উল্কাবৃষ্টি তিনভাবে সৃষ্টি হয়ে থাকে। এক, মহাকাশ সৃষ্টির সময়কার ভাসমান বড় বড় পাথরগুলোর (এস্টরয়েড) সংঘর্ষে। দুই, যখন ধূমকেতু সূর্যের কাছাকাছি আসে, এসময় ধুমকেতুর বরফ গলে যায় এবং ভেতরের পাথর ও ধূলিকণাগুলো আলগা হয়ে মহাকাশে ভাসতে থাকে। এ ছাড়া, চাঁদ বা মঙ্গল গ্রহে বড় কোনো মহাকাশের পাথরের (এস্টরয়েড)আঘাতের ফলে সেখান থেকে ছিটকে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে উল্কাপিণ্ড।

 

উল্কার তিনটি অবস্থা থাকে।

 

এক, মেটিওরয়েড যেটি উল্কাপিণ্ড মহাকাশে ভাসমান অবস্থায় থাকে। দুই, মেটিওর (শাওয়ার) যেটি উল্কা পাত বা বৃষ্টি মহাকাশ থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকে জ্বলে ওঠে। এবং তিন মেটিওরাইট যা উল্কা পিণ্ড পুরোপুরি পুড়ে না গিয়ে পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়।

বাংলাদেশে জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করে থাকে ‘অনুসন্ধনিৎসু সংগঠন’। ১৯৭৫ সালে নটর ডেম কলেজ ও ঢাকা কলেজের ছাত্ররা বিজ্ঞান সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। তারা বিজ্ঞান মেলা, আকাশ পর্যবেক্ষণ, ঈদে চাঁদ দেখার বিষয়সহ জনগণকে বিভিন্ন মহাজাগতিক তথ্য প্রদানের কাজ করে থাকেন।

 

সংগঠনটির প্রাক্তন সভাপতি আজহারুল হক সেলিম বলেন, মহাকাশের উল্কাপিণ্ড যখন তীব্র বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে তখন বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে ঘর্ষণে জলে উঠে আলোকপিণ্ডে রূপ নেয় এবং উজ্জ্বল রেখা তৈরি করে। অনেকের ধারণা উল্কাপাত এবং উল্কাবৃষ্টি কেবল রাতে ঘটে। বাস্তবে দিন ও রাত সবসময় ঘটে। দিনে সূর্যের আলোর কারণে দেখতে পাওয়া যায় না। কেবল রাতে চোখে ধরা পড়ে। পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত উল্কাবৃষ্টি উপভোগের উত্তম সময়।