প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে সারাদেশে টাইফয়েডের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার প্রথম দিনেই ১০ লাখের বেশি শিশু টিকা পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লক্ষ্য ১৮ কর্মদিবসের মধ্যে প্রায় পাঁচ কোটি শিশুকে টিকা প্রদান করা। এর অর্থ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৭ লাখ ৭৮ হাজার শিশুকে টিকা দিতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ইপিআই) ডা. মো. শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, বিকেল ৪টা পর্যন্ত সাত লাখের বেশি শিশু নিবন্ধন পোর্টালের মাধ্যমে টিকা পেয়েছে। নিবন্ধন ছাড়া যারা টিকা নিয়েছে, তাদের তথ্য রাতের মধ্যে সিস্টেমে হালনাগাদ করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, টাইফয়েডে এখনও শিশুদের মৃত্যু হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বাংলাদেশ ডায়রিয়া ও রাতকানা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, এবার টাইফয়েড প্রতিরোধেও সফল হবে। সচেতনতা ও টিকাদানের মাধ্যমে টাইফয়েড নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ বলেন, এটি শুধু একটি স্বাস্থ্য প্রকল্প নয়, দেশের শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটিতে টিকাদান
প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে এক ডোজ করে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিকাদান কার্যক্রম চলবে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। এরপর ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়া হবে। পথশিশুদের টিকাদানে সহায়তা করবে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা।

ডিএনসিসি জানিয়েছে, তাদের এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ৭২ হাজার শিশু টিকা পাচ্ছে। ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ১০ অঞ্চলে মোট ১২ লাখ ৯৪ হাজার ৬৯ শিশুকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কার্যক্রম চলবে সকাল ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। জন্মনিবন্ধন না থাকা শিশুরাও স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তায় টিকা পাবে।